প্রতীকী ছবি।

নারী নির্যাতন কবে হবে বন্ধ?

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেও কেন নারীরা প্রতিনিয়ত ধর্ষণে শিকার হচ্ছেন? এর উত্তর কে দেবে, বাংলাদেশে আইনের অভাব নেই। আছে শুধু আছে সুবিচারের অভাব।

শাফিউল কায়েস
কবি,লেখক,কলামিস্ট, সাংবাদিক
প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০১৮, ১৮:২২ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:৩২


প্রতীকী ছবি।

কৃতী মানুষ তাদেরকেই বলা উচিত, যাদের মাঝে মূল্যবোধ,মননশীলতা, ভালোবাসা ও সুশিক্ষা আছে। পৃথিবীতে সকল মানুষ বসবাসের যোগ্য, তবে মানুষ নামে পশুরা এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার রাখে না। প্রতিনিয়ত পত্রিকার পাতা খুললে দেখা যায় ধর্ষণ,পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকসহ নারীদের নানা সহিংসতার কর্মকাণ্ড। নারীরা তো আমাদের মায়ের সমতুল্য, তারা আমাদের দেশের নাগরিক, তাদেরও এ দেশে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। ২০১৭ সালে কত নারী নির্যাতনে শিকার হয়েছে তার আসল তথ্য বের করা খুবই কঠিন। নারী নির্যাতনে শিকার ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বার পর্যন্ত এক পত্রিকায় প্রকাশিত জরিপে এসেছে যে,

ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫৮৮টি, পারিবারিক নির্যাতন ৩৪৬টি, সন্ত্রাসের শিকার ২৭, অন্যান্য ঘটনায় আরও ৮ জন নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এই হিসাব শুধু পত্রিকায় ছাপানো বা সাংবাদিক ও মিডিয়ার সামনে ধরা পরে সেগুলোই, এর হিসাবের বাহিরে যে নারীরা নির্যাতনের শিকার হইনি এমনটি ধারণা করা আমদের একদম পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের চক্ষুর অন্তরালে কত নারী ধর্ষণে শিকার হয়েছে তা বলা খুবই কঠিন।

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেও কেন নারীরা প্রতিনিয়ত ধর্ষণে শিকার হচ্ছেন? এর উত্তর কে দেবে, বাংলাদেশে আইনের অভাব নেই। আছে শুধু আছে সুবিচারের অভাব।

বাংলাদেশে ধর্ষণের ন্যায্য বিচার না হওয়ায় আজ নারী নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন শুধু বেড়েই চলেছে। ধর্ষণ করার আগে আমাদের বিবেগকে জাগ্রত করা উচিত যে, এ কাজটি একে বারে অন্যায় এবং আমার জানা মতে কোন ধর্মেই বলা নাই ধর্ষণ করার কথা।

তবুও কেন নারীরা এই ধ্বংস নিলায় জড়িত হচ্ছে?

এর উত্তর ও বা কে দিবে!

আজকের নারীরা সমাজে,রাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চতম আসনে বসে, এমন কি আমাদের দেশের সরকার প্রধান ও হলেন নারী। তবে কেন আজ আমাদের দেশেই নারীরা এভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে?

শুধু তারা যে ধর্ষণ করেই খ্যান্ত এমনটি নয়, তারা ধর্ষণ করার পরেও অনেকের প্রাণ দিতে হয়েছে বা হচ্ছে অকালেই। যে নারীদের কোনো দোষ নেই, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেও কেন স্বাধীনতাহীন দেশের মতো না তার চেয়েও বেশি ধর্ষণে শিকার কেন বাংলাদেশের নারীরা?

স্বাধীনতার পূর্ব থেকে আজ পর্যন্ত তারা এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়নি, তার সাথে মুক্তি মেলেনি মৃত্যুর নামে ভয়ঙ্কর অপ্রত্যাশিত চাওয়া থেকেও এবং নারীদের সমান অধিকারে।

কত নারী বা মেয়েরা এসিড নামে ভয়ঙ্কর থাবা থেকে রক্ষা পায়নি! আমার নিজেকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে ঘৃণা করে। অনেক নারী প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখানের জন্য দিতে হয়েছে যৌনসহ মূল্যবান প্রাণটাও।

আমদের সকলকেই এই পাপের ও ধ্বংসের হাত থেকে মুক্তির দরকার। এর জন্য আমাদের সকলেরই করণীয় নিজ নিজ স্থান থেকে এ সব খারাপ কাজগুলোকে বাধা দেয়া। আমাদের সকলেরই উচিত কোন একটি কাজ করার আগে মন কে এবার প্রশ্ন করা উচিত এই কাজটি ঠিক না বেঠিক। আমরাই পারবো আমাদের সমাজকে নারী নির্যাতন থেকে মুক্তি দিতে।। 

তাই সকলে আসুন ভালো কাজের প্রতি সহযোগিতার হাত বেড়ে দেই।।

[প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রিয়.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে প্রিয়.কমের সম্পাদকীয় নীতির মিল না-ও থাকতে পারে।]

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট