থাইল্যান্ডের গুহায় খুদে ফুটবলারা নিখোঁজের পরে উদ্ধারকর্মীদের কয়েকদিনের দুঃসাহসী অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ট্র্যাজেডিতে সহযোগিতা

মানুষের বুদ্ধিমত্তা, ধনসম্পদ, প্রযুক্তি কিসের জন্য? বিপদে একে অন্যকে সাহায্য করা- এর চাইতে বড় ধর্ম আর কি হতে পারে। বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ বিশেষজ্ঞ তৈরি করা উচিত।

জীবেন রায়
অধ্যাপক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০১৮, ১৯:৪১ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৩২


থাইল্যান্ডের গুহায় খুদে ফুটবলারা নিখোঁজের পরে উদ্ধারকর্মীদের কয়েকদিনের দুঃসাহসী অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

পাঠকরা নিশ্চয় থাই গুহা সম্পর্কিত খবরের বিষয়ে ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন। প্রিয়.কমসহ বাংলাদেশের অন্যান্য পত্র পত্রিকা এবং সারা বিশ্বের মিডিয়ায় বেশ প্রাধান্য পেয়েছে গুহায় আটকেপড়া থাই ফুটবলারদের খবর।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানাপোলিসে পারিবারিক বন্ধুর বাসায় বেড়াতে গিয়ে একটি নামী গুহা, মারেনগো পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ২৫ ডলার টিকেটে এটা গাইডেড ট্যুর ছিল। বাইরে বৃষ্টি ছিল তবে অবিরাম মুশলধারে বৃষ্টিতে ট্যুর বন্ধ থাকে। এ এক অবিশ্বস্য অচেনা জগত। অনবরত চুয়ে চুয়ে পানি পড়ছে এবং যেহেতু গুহাটি ট্যুরের জন্য, সুতরাং পানি নিষ্কাশনসহ নিরাপত্তাজনিত সব ব্যবস্থাই ছিল। প্রায় শতবর্ষ আগে দুটি বালক খেলতে গিয়ে এই গুহাটি আবিষ্কার করে। গুহার খেতরে একটা ডকুমেন্টারিও দেখানো হয়। বছরের পর বছর নানা মিনারেল জমতে জমতে বিভিন্ন সাইজে দারুণ সুদৃশ্য স্ট্যাচুর আকার ধারণ করেছে। একটিতো আমাদের কাছে রীতিমত বুদ্ধের মতো মনে হয়েছে। ডায়মন্ড, গোল্ডসহ নানা আলো জলসানো খনিজ পদার্থ দেখতে পাওয়া যায়।

আমার ধারনা, থাই গুহাটি দর্শনার্থীদের ট্যুরের জন্য ব্যবস্থাধীন নয়। সুতরাং বিপদে পড়ার আশঙ্কা অবশ্যই থেকে যায়। পৃথিবীর সমতলে বাস করেই আমরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছি। কাজেই আকাশ-পাতাল কিংবা পানির নিচে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেশি বৈকি। তবে মানুষ এডভেঞ্চার ভালোবাসে। থাই ফুটবল দলটি এই ছোট্ট বয়সে তাদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন্যেই হয়ত গুহা অভিযানে গিয়েছিল।

যা হোক ঘটনাটা ঘটে গেছে, করণীয় নিয়েটাই দেখার বিষয় হয়েছে। এই বিশ্বে ধনী দেশ আছে, সুপার ধনীলোক আছে এমনকি মানবিক, সহানুভূতিশীল ধনীলোকও আছে; আছে সুপার প্রযুক্তি, সুপার চিন্তাকরার লোকও আছে।

ইলন মাস্কের নাম কে না জানে? ইলন মাস্কের জন্য উপরোক্ত বিশেষণগুলোর সবগুলোই প্রযোজ্য। ইলন টুইটারে সহায়তা করার কথা বলার সাথে সাথে থাই নাগরিকরা কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। দুটি প্ল্যানের কথাও তিনি বলেছেন, এমনকি মাস্কের স্পেসএক্স এবং বোরিং কোম্পানির ইন্জিনিয়ারদের একটি টিমসহ তিনি নিজেই সেখানে একটি ছোট আকারের সাবমেরিন নিয়ে হাজির।

তা ছাড়া যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ ডুবুরিরা উদ্ধার কাজে সহায়তা করে। সারা পৃথিবীর নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন জানাচ্ছে। ফিফাতো ফাইনার খেলার নিমন্ত্রনই দিচ্ছিলো কিন্তু ছেলেরা এখনো দূর্বল। যদিও প্রাক্তন নেভী সিলের একজন সদস্য সাহায্য করতে গিয়ে মারা যান।  

পাঠকবৃন্দ, মানুষের বুদ্ধিমত্তা, ধনসম্পদ, প্রযুক্তি কিসের জন্য? বিপদে একে অন্যকে সাহায্য করা- এর চাইতে বড় ধর্ম আর কি হতে পারে। বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ বিশেষজ্ঞ তৈরি করা উচিত।

আমেরিকা প্রবাসী অধ্যাপক

[email protected]  

[প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রিয়.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে প্রিয়.কমের সম্পাদকীয় নীতির মিল না-ও থাকতে পারে।]

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট