নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের গণমাধ্যম শাখার অন্যতম সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইসহাক খানকে আটক করেছে র‍্যাব। ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করতেন ইসহাক

মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে উদবুদ্ধ করতেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের গণমাধ্যম শাখার অন্যতম সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইসহাক খান।

জনি রায়হান
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই ২০১৮, সময় - ২১:৩৬


নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের গণমাধ্যম শাখার অন্যতম সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইসহাক খানকে আটক করেছে র‍্যাব। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে উদবুদ্ধ করতেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের গণমাধ্যম শাখার অন্যতম সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইসহাক খান (৩২)। এ ছাড়া নিজের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের বই প্রকাশের পাশাপাশি জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে দিতে ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক ব্যবহার করতেন তিনি। র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

১০ জুলাই, মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা থেকে তাকে আটক করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব)-৩ এর একটি দল।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. এমরানুল হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার ইরতা কাশিমপুর গ্রামে আনসার আল ইসলামের কিছু সদস্য যুবকদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার জন্য উগ্রবাদী কিছু বই প্রচার করে আসছে। খবর পেয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) সেখানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ উগ্রবাদী বইসহ ইসহাক খানকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইসহাক খান নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের গণমাধ্যম শাখার অন্যতম সমন্বয়ক। ইউটিউব চ্যানেলে ও ফেসবুকে জঙ্গিবাদের উগ্রতা ছড়িয়ে দিতে ভিডিও ও পোস্ট দিতেন। এ ছাড়া উগ্রবাদী লেখার মাধ্যমে যুবকদের উদবুদ্ধ করে কর্মী সংগ্রহ ও প্রচার করেন। লাইট হাউস ডট কম নামের ব্লগে তিনি উগ্রবাদী মতবাদ প্রচার করেন।

ইসহাক খান ২০০৬ সালে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস পাস করেন। ওই সময় তার শিক্ষক আনসার আল ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা জসীমুদ্দীন রাহমানির সংস্পর্শে আসেন। পরবর্তী সময়ে জসীমুদ্দীন রাহমানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে উগ্রবাদী প্রচারণা ও দাওয়াতে অংশ নিতে থাকেন। ইসহাক সে সময় খান প্রকাশনী নামে একটি নিজস্ব প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে জসীমুদ্দীন রাহমানির বিভিন্ন উগ্রবাদী বক্তব্য ও মতাদর্শ বই আকারে প্রকাশ করে আসছেন।

পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালে জসীমুদ্দীন রাহমানি গ্রেফতার হওয়ার পর ইসহাক খান আত্মগোপনে চলে যান। ওই সময় বেনামি প্রকাশনার মাধ্যমে জসীমুদ্দীন রাহমানি ও আনওয়ার আল আওলাকীসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিতর্কিত ধর্মীয় নেতার উগ্রবাদী বই সংকলন করে প্রকাশ করতে থাকেন। তার ভাই মো. আশরাফ আলী খান আনসার আল ইসলামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তার আরেক ভাই রাকিব নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীর সক্রিয় সদস্য। বর্তমান রাকিব জেলে আছেন।

ইসহাক খান প্রকাশনী ও মাকবুল প্রকাশনীর নামে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী বই প্রকাশ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় সরবরাহ করেন। বাংলা বাজারের ইসলামি টাওয়ারে তার প্রকাশনীর অফিস আছে। তিনি গাজওয়াতুল হিন্দ-এ বিশ্বাস করেন। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে মারকাজুল কোরআন ওয়াল হিকমাহ নামে তিনি একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। ওই মাদ্রাসার ছোট শিশু-কিশোরদের মধ্যে উগ্রবাদ প্রচার করতেন তিনি। এ ছাড়া আনসার আল ইসলামের সদস্যদের নিয়মিত বৈঠক তার বাসায় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

প্রিয় সংবাদ/নোমান/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও এনজিও
কাঞ্চন কুমার ২২ জুলাই ২০১৮
সৌদি ও দুবাই থেকে ফিরলেন ১০৫ শ্রমিক
মোস্তফা ইমরুল কায়েস ২২ জুলাই ২০১৮
সাড়ে ৫ লাখ গোলাপের পিরামিড
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ২২ জুলাই ২০১৮
ট্রেন্ডিং