বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টের সামনে তাম্মাত। ছবি: সংগৃহীত

হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত এই যাত্রাপথে তিনি নিজেই ছিলেন নিজের সঙ্গী। একা একা বিশাল দূরত্ব হেঁটে পার করলেও, মানসিকভাবে সবসময় সঙ্গে ছিলেন হাজারো শুভাকাঙ্ক্ষী।

ড. জিনিয়া রহমান
লেখক
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০১৮, ১১:৫৮ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২০:০০


বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টের সামনে তাম্মাত। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয় কম) তাম্মাত বিল খয়ের—দুরন্ত, দুঃসাহসী আর অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী এক বালক। মায়ের মুখে শুনেছিলেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নানার পায়ে হেঁটে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ যাওয়ার গল্প। এই গল্পেই তিনি অনুপ্রেরণা খুঁজে পান নিজের দেশের এমাথা থেকে ওমাথা হেঁটে বেড়ানোর। মাত্র ২৪ দিনে পায়ে হেঁটে বাংলাদেশের দক্ষিণের সর্বশেষ ভূখণ্ড টেকনাফের শাহপরী দ্বীপ থেকে প্রায় ১০০০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে উত্তরের সর্বশেষ ভূখণ্ড তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে আমি পৌঁছালেন তাম্মাত। পথের দূরত্ব মাপার ক্ষেত্রে তিনি স্ট্রাভা নামের একটি অ্যাপ ব্যবহার করেছেন।

সুদীর্ঘ ১০০০ কিলোমিটার হাঁটার উদ্দেশ্য তরুণ প্রজন্মকে হাঁটতে উৎসাহিত করা। সুস্থ শরীরের জন্য হাঁটার কোনো বিকল্প নেই। তাম্মাত বলেন, আমাদের সবার প্রতিদিন অন্তত দুই কিমি হাঁটা উচিত। কিন্তু এই সহজ কাজটাই আমরা করতে পারি না। এর আগে ২০১৭ সালে তাম্মাত দেশের ৬৪ জেলা সাইকেলে মাত্র ২৫ দিনে ভ্রমণ করেছিলেন। অংশগ্রহণ করেছেন নানা দৌড় প্রতিযোগিতায়। বাংলাদেশের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ উঁচু পাহাড় জোতল্যাং এবং যোগী হাফং যথাক্রমে একসঙ্গে সামিট করেছেন দ্রুততম সময়ে।  

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত এই যাত্রাপথে তিনি নিজেই ছিলেন নিজের সঙ্গী। একা একা বিশাল দূরত্ব হেঁটে পার করলেও, মানসিকভাবে সবসময় সঙ্গে ছিলেন তার হাজারো শুভাকাঙ্ক্ষী। অনেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন এই সফর সফল করার জন্য। যারা এক গ্লাস পানিও খাইয়েছেন, তাদের প্রতি তাম্মাত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সম্পর্কে তাম্মাত বলেন, ‘যেই জেলাতেই গিয়েছি, সেখানকার মানুষের আপ্যায়ন পেয়েছি। তবে তিনজনের কথা বেশি মনে পড়বে। সিরাজগঞ্জের মামুন ভাই—ওনাদের আপ্যায়ন ভোলা সম্ভব না। পুরো গ্রামের মানুষ আমাকে দেখতে আসছে সারাদিন ধরে। খুব মিশুক ওনারা।

তেঁতুলিয়ার হান্নান ভাই, আশরাফুল ভাই—এই মানুষগুলো বুঝিয়ে দিয়েছেন দেশের শেষ প্রান্তে থেকেও পুরো দেশের মানুষের প্রতি এদের আন্তরিকতা কতটা বেশি। ওনারা পুরোদিন আমার সাথে ছিলেন, যেন কোনো কিছুর অভাবে না পড়ি। আমার খাবার আর ঘুম নিয়ে আমার চেয়ে ওনারা বেশি চিন্তিত ছিলেন।’

হেঁটে দেশ ঘোরার এই বিশাল যজ্ঞের আয়োজনে তাম্মাত সহযোগিতার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু নিরাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। শেষে নিজের টিউশনির টাকা, পরিবারের সহযোগিতা নিয়েই তিনি এই সফর শেষ করেন। এই দীর্ঘপথ হাঁটতে গিয়ে খুব কাছ থেকে দেখেছেন দেশ আর দেশের মানুষকে। পথ আর পথের মানুষ আর তাদের জীবনধারা দেখতে পাওয়া ভাগ্যের বিষয় বলে মনে করেন তিনি।

এই সফরে তাম্মাত প্রতিদিন প্রায় গড়ে ৪২ কিমি পথ অতিক্রম করেন। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া হাঁটার পথ ১০০০ কিমি হয় না। তাই তিনি প্রতিদিন গন্তব্যে পৌঁছানোর পর থাকার জায়গা পর্যন্ত হেঁটে গিয়েছেন, যেন পুরো সফরে ১০০০ কিমি হাঁটা হয়।

তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাক তাম্মাতের বার্তা; আর তাম্মাতের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক আরও অনেক রোমাঞ্চকর পথে।

প্রিয় ট্র্যাভেল/জিনিয়া/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
লালদিয়ার চরটিও হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট
জানিবুল হক হিরা ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
একলা ভ্রমণের শহরগুলো
একলা ভ্রমণের শহরগুলো
বণিক বার্তা - ৬ ঘণ্টা আগে
ঐক্যের আনুষ্ঠানিক যাত্রা
ঐক্যের আনুষ্ঠানিক যাত্রা
ইনকিলাব - ৬ ঘণ্টা আগে
সড়কে আ’লীগের নির্বাচনী যাত্রা
সড়কে আ’লীগের নির্বাচনী যাত্রা
https://www.banglanews24.com/ - ১৮ ঘণ্টা আগে
এবার সড়ক পথে আ. লীগের নির্বাচনী যাত্রা
এবার সড়ক পথে আ. লীগের নির্বাচনী যাত্রা
বিডি নিউজ ২৪ - ১৯ ঘণ্টা আগে
ভ্রমণে এমন ব্যাগই প্রয়োজন!
ভ্রমণে এমন ব্যাগই প্রয়োজন!
বাংলা ট্রিবিউন - ১ দিন, ৯ ঘণ্টা আগে