বিজিবি ও বিজিপির উচ্চ পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন। ছবি : প্রিয়.কম

মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিজিবির উদ্বেগ

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বন্ধে মিয়ানমার প্রতি আহবান জানিয়েছে বিজিবি।

জনি রায়হান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০১৮, ১৫:২১ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩২


বিজিবি ও বিজিপির উচ্চ পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন। ছবি : প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) সম্প্রতি মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

একই সঙ্গে সীমান্তের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বন্ধে মিয়ানমার প্রতি বিজিবি আহবান জানিয়েছে।

বিজিবি ও বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) যৌথ প্রেস বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৯ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ঢাকায় বিজিবি ও বিজিপির উচ্চ পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে মিয়ানমার পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ো থানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিনিধিদলে মিয়ানমার পুলিশ ফোর্সের (এমপিএফ) ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন বিভাগ, মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমার দূতাবাসের প্রতিনিধিবৃন্দ ছিলেন।

অপরদিকে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিজিবির ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্মেলনের পূর্বনির্ধারিত আলোচ্য বিষয়গুলো উভয় পক্ষ অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন।

মাদক পাচার

সম্মেলনে উত্থাপিত বিষয়গুলোর মধ্যে মাদকদ্রব্য বিশেষ করে ইয়াবার ব্যাপকতার বিষয়ে উভয় পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। যুব সমাজের উপর মাদক বিশেষ করে ইয়াবার ক্ষতিকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে উভয় পক্ষ সব ধরনের মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে পরস্পরকে সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

মিয়ানমারের পক্ষ হতে বৈঠকে অবহিত করা হয় যে, তাদের দেশেও একই সমস্যা বিরাজ করছে এবং কর্তৃপক্ষ সীমান্তে ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

সীমান্তে গুলিবর্ষণ

সীমান্তে আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির বিষয় উল্লেখপূর্বক সম্প্রতি মায়ানমারের নাগরিকদের সীমান্ত অতিক্রমসহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিজিবির পক্ষ হতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সীমান্তে মাদক, অস্ত্র, নারী ও শিশু পাচারসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সমন্বিত যৌথ টহল, সীমান্তে নজরদারি ও অন্যান্য তৎপরতা বৃদ্ধি, উভয় পক্ষের মাঠ পর্যায়ের অধিনায়কদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় পরস্পরের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছেন।

মাইন অপসারণ

সীমান্তে মাইন অপসারণ প্রসঙ্গে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং মিয়ানমার পক্ষ এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে সম্মত হয়েছেন।

বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস

উভয় পক্ষই বর্ডার লিয়াজোঁ অফিসের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এ প্রসঙ্গে মিয়ানমার পক্ষ হতে জানানো হয় যে, মংডুতে ইতোমধ্যে একটি বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা হয়েছে।

আর বিজিবির পক্ষ হতে জানানো হয় যে, টেকনাফ উপজেলায়ও অনুরূপ একটি বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা হয়েছে যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

এবারের সম্মেলনে ফলপ্রসূ আলোচনা হওয়ায় উভয় পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। উভয় পক্ষ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন মিয়ানমারের নেপিদোতে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন।

প্রিয় সংবাদ/গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
জাতীয় ঐক্যে বিএনপির কী লাভ
আবু আজাদ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মালয়েশিয়ায় ৫৫ বাংলাদেশি আটক
শেখ নোমান ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
ট্রেন্ডিং