নিহত পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মামুন ইমরান খান। ফাইল ছবি

পুলিশ হত্যাকাণ্ডে অভিনেত্রীসহ ৮ জনের সংশ্লিষ্টতা

কিছুক্ষণ পরই তারা ফ্ল্যাটের ভেতরে অবস্থানরতদের মারপিট শুরু করে এবং নিজেদের পরিচয় দেয় পুলিশ হিসেবে।

সফিউল আলম রাজা
প্রধান প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০১৮, ১৭:২৩ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:৩২


নিহত পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মামুন ইমরান খান। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে তিন নারীসহ আটজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে রহমতউল্যাহ নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সেই সঙ্গে আফরিন নামে এক অভিনেত্রীকেও আটক করা হয়েছে। আটককৃত দুজনই পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অভিনেত্রী আফরিনের জন্মদিনের পার্টির কথা বলে রহমতউল্যাহ ৮ জুলাই রাত সাড়ে ৮টায় পরিদর্শক মামুনকে বনানী মডেল টাউন এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। ওই ফ্ল্যাটেই খুন হন মামুন। ৯ জুলাই সারা দিন লাশ নিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘাতকরা। পরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলার একটি জঙ্গলে লাশ ফেলা হয়। আর পরিচয় যেন শনাক্ত করা না যায় সেজন্য পুলিশ পরিদর্শক মামুনের লাশ পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

যদিও পরনের প্যান্ট ও কোমরের বেল্ট দেখে মামুনের পরিবারের সদস্যরা তার লাশ শনাক্ত করেন। এখন বেরিয়ে আসছে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্যও।

এদিকে রহমতউল্যাহকে ১১ জুলাই বুধবার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি চৌকস দল ইতোমধ্যেই হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা এখন মুখ খুলছেন না।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জন্মদিনের কথা বলে পুলিশ কর্মকর্তা মামুনকে ডাকা হলেও বনানীর ওই ফ্ল্যাটে কোনো অনুষ্ঠান ছিল না সেদিন রাতে। রহমতউল্যাহ ও মামুন ফ্ল্যাটে প্রবেশ করার পরপরই কয়েকজন যুবক প্রবেশ করে। এর কিছুক্ষণ পরই তারা ফ্ল্যাটের ভেতরে অবস্থানরতদের মারপিট শুরু করে এবং নিজেদের পরিচয় দেয় পুলিশ হিসেবে। তখন মামুন নিজের পরিচয় দেন এবং পরিচয়পত্র দেখান। পরিচয় জানার পর মামুনকে বেধড়ক পেটানো শুরু করে ওই যুবকরা। এক পর্যায়ে তিনি মারা যান।

ঘটনার সময় ওই ফ্ল্যাটে তিন নারী ছিলেন। যাদের সবাই চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতে কাজ করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে কি কারণে মামুনকে হত্যা করা হয়েছে তা পরিষ্কার হয়নি। গ্রেফতারকৃত রহমতউল্যাহ মামুনের পূর্ব-পরিচিত ছিলেন। ঘটনার রাতেই প্রথমবারের মতো ওই ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন মামুন।

প্রিয় সংবাদ/হিরা/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
জাতীয় ঐক্যে বিএনপির কী লাভ
আবু আজাদ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মালয়েশিয়ায় ৫৫ বাংলাদেশি আটক
শেখ নোমান ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট