প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ পর্যটক থর মরুভূমিতে বেড়াতে যান। ছবি: বিবিসি

যাবেন নাকি থর মরুভূমিতে, বিলাসবহুল জীবনের স্বাদ নিতে!

পাঁচ তারকা হোটেলে একটা রুমের বিছানা যে শৈল্পিক উপায়ে সাজানো থাকে এখানেও তার কম কিছু নয়।

আবু আজাদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০১৮, ১২:৪৩ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২০:১৬
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০১৮, ১২:৪৩ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২০:১৬


প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ পর্যটক থর মরুভূমিতে বেড়াতে যান। ছবি: বিবিসি

(প্রিয়.কম) ভারতের থর মরুভূমিতে প্রতিবছর দুই লাখের মতো পর্যটক যান ঘুরে দেখতে। কিন্তু সম্প্রতি ধু ধু এই মরুভূমিতে অনেকেই বিলাসবহুল ক্যাম্পিং বা প্রকৃতির সঙ্গে আরামদায়ক ভ্রমণের স্বাদ নিচ্ছেন।

ট্রেন্ডটা ভারতে নতুন। তবে ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসায়ীর জন্য একটা সফল ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর পশ্চিম অংশে একটা বিরাট শুষ্ক অঞ্চল নিয়ে এই থর মরুভূমি। এখানকার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে। ধু ধু মরুভূমির প্রচণ্ড গরম, অনেকেই হয়তোবা ড্রিম হলিডে স্পট বা বহু কাঙ্ক্ষিত ছুটি কাটাতে যাওয়ার কথা হয়তবা চিন্তা করবেন না।

কিন্তু বিলাসবহুল কিছু সাফারি টেন্ট পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বিরান মরুভূমির মধ্যে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সব কিছু রয়েছে সেখানে। এমন ২৬টি বিলাসবহুল টেন্ট রয়েছে। যেগুলো অন্য আর দশটা ক্যাম্পিং টেন্টের মতো না। সেখানে রয়েছে ২৪ ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ এবং এয়ারকন্ডিশন্ড রুম। পাঁচ তারকা হোটেলে একটা রুমের বিছানা যে শৈল্পিক উপায়ে সাজানো থাকে এখানেও তার কম কিছু নয়।

এবার ভাবুন তো, মরুভূমির মাঝখানে বরফ শীতল পানি খেতে কেমন লাগবে? ঠিক তাই, প্রতিটি টেন্টে রয়েছে রেফ্রিজারেটর, যেখান থেকে আপনি ঠাণ্ডা পানি পান করতে পারেন।

বি
থর মরুভূমির বিলাসবহুল তাবু যেখানে আধুনিক জীবনযাত্রার সব সুবিধা রয়েছে। ছবি: বিবিসি

এসব টেন্টের একজন মালিক মায়াঙ্ক ভাটিয়া বলছিলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম এটাকে রিসোর্টের মতো করে গড়ে তুলবো। এটা মনে করেছিলাম পর্যটক বা অতিথি যারা আসবেন তাদের এই মধ্য মরুভূমিতে একদম ভারতের ঐতিহ্যবাহী যেসব বিষয় রয়েছে সেসবের মতো করে একটা অভিজ্ঞতা দেওয়া দরকার।’

মরুভূমিতে উটে চড়ে ঘুরে বেড়ানো এবং গাড়িতে ঘোরা প্রধান আকর্ষণ। তবে এসব স্বাদ নিতে অনেক টাকার প্রয়োজন। তবে উচ্চ বিত্ত ভারতীয় পরিবারগুলোর কাছে এই অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য অর্থ কোনো ব্যাপার না।

থর মরুভূমির এই অভিজ্ঞতা নিতেই সন্তানদের নিয়ে এসেছেন নাঙ্গ পামেলা নামের একজন পর্যটক।

পামেলা বলেন, ‘আমার বাচ্চাদের জন্য আমি চেয়েছিলাম রাজস্থানের সংস্কৃতি তাদেরকে দেখাতে। তাদের যে প্রাসাদ এবং দুর্গ আছে সেটা কেবল তারা বইতেই পড়েছে। বিশেষ করে উটে চড়ে ঘুরে বেড়ানো এটা একটা বিশেষ অভিজ্ঞতা। আমি চেয়েছিলাম আমাদের বাচ্চাদেরকে এই অভিজ্ঞতাটা দিতে।’

কিন্তু মরুভূমির মধ্যে এই ধরনের একটা ক্যাম্প তৈরি করা আসলেই অনেক ব্যয়বহুল। যে টেন্টগুলো তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোর জন্য শুধু পানি আর বিদ্যুতের সাপ্লাই আনার জন্য দুই বছর সময় লেগেছে।

উচ্চবিত্ত যেসব পর্যটক রয়েছে তারা আসেন তবু্ও সেটা ঠাণ্ডার সময়। যেটা শুধুমাত্র পাঁচ-মাস স্থায়ী থাকে। প্রতিরাতে এই ধরনের টেন্টে থাকার জন্য তিনশ’ ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৫ হাজার টাকা গুনতে হবে।

এই টাকাটা একেবারেই কম নয়। তবে যারা এ ধরনের অভিজ্ঞতা নিতে চান তাদের কাছে অর্থ তেমন বড় বিষয় না।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

প্রিয় সংবাদ/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...