অবরোধের কারণে এক পাশে ফাঁকা রাস্তা, অন্য পাশে আটকে পড়া যানবাহন। ছবি: প্রিয়.কম

‘অচল’ শহর সচল হলো

‘উত্তরা টু গুলিস্তান রুটে শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ ছিল। ভাঙচুরের ভয়ে বাস মালিকরাও বাস বন্ধ করেছিলেন।’

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০১৮, ১৮:৫৮ আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০১৮, ০৩:১৬


অবরোধের কারণে এক পাশে ফাঁকা রাস্তা, অন্য পাশে আটকে পড়া যানবাহন। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) দীর্ঘ সময় অচল থাকার পর ঢাকা অাবার সচল হয়েছে। সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত থমকে ছিল পুরো রাজধানী। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে বন্ধ ছিল যান চলাচল। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন লাখো মানুষ। অবশেষে বিকেল সোয়া ৪টা থেকে সকল রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

৩০ জুলাই, সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) প্রবীর কুমার রায় বিষয়টি প্রিয়.কমকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রবীর কুমার প্রিয়.কমকে বলেন, ‘উত্তরা টু গুলিস্তান রুটে শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ ছিল। ভাঙচুরের ভয়ে বাস মালিকরাও বাস বন্ধ করেছিলেন। তবে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেওয়ার কারণে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।’

রবিবার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় অারও অাহত হয় ১২ শিক্ষার্থী। জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চালক অপর বাসের চালকের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার জেরে সোমবার রাজধানীর শাহবাগ ও কলাবাগানের সায়েন্স ল্যাবে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অবরোধে আটকে ছিলো শত শত গাড়ি। ছবি: প্রিয়.কম
শিক্ষার্থীদের অবরোধে আটকে ছিল শত শত গাড়ি। ছবি: প্রিয়.কম

এর আগে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেছিলেন, ‘অমি মন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করলে কি সমস্যার সমাধান হবে? সড়কে দুর্ঘটনা কমে অাসবে? পাশের দেশ ভারতে তো দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা যায় কিন্তু বাংলাদেশে একজন নিহত হলেই সড়ক অবরোধ ও বাস ভাঙচুর হয়।’

সহপাঠীরা নিহত ও অাহতের ঘটনার পর মন্ত্রীর এমন তাচ্ছিল্যসুলভ বক্তব্যে অারও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নিহতের সহপাঠীরা। তারা এ ঘটনার বিচার চেয়ে ৯ দফা দাবিতে ৩০ জুলাই, সোমবার সকাল ১০টার দিকে হোটেল রেডিসনের সড়কে মানববন্ধন করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে তারা অাবারও জড়ো হয়ে মিছিল করতে শুরু করে এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

মানববন্ধন করতে না দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ শুরু করলে পুরো রাজধানীতে বাস সংকট দেখা দেয়। সকালের দিকে যেসব বাস ছেড়েছে, সেগুলোও মাঝপথে গিয়ে থমকে যায়। অাবার অনেক বাসচালক দ্রুত বাস ঘুরিয়ে গ্যারেজে ঢুকিয়ে রাখে।

সোমবার সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর অনেক রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। টানা পাঁচ ঘণ্টা বিভিন্ন রুটে যান চললেও থমকে ছিল সিগনালগুলো। বিকেল সোয়া ৪টায় রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে অাসলে অাগের চিত্রে ফিরে অাসে ঢাকা। কিন্তু তার অাগে দুই থেকে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত কোনো বাস চলেনি। পুরো রাস্তাই ফাঁকা ছিল নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে।

বিকেলে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে স্বস্তি ফিরে অাসে নগরবাসীর মনে। বাড্ডা লিংক রোডে দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থেকে বিকেল ৫টার দিকে সায়েদাবাদগামী তুরাগ পরিবহনের একটি বাস পান কলেজছাত্র তুফান সরকার। বাসে উঠেই সিটে বসে বলতে থাকেন, ‘অাল্লাহ বাঁচাইলো। যত কষ্টই হোক, বাস তো পেলাম।’

বিভিন্ন সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন রাস্তায় বাস পেয়ে দ্রুত উঠে যান। তবে অবরোধের দেড় ঘণ্টা পরও বাস কম ছিল। এতে বাসগুলোতে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে হাস্যোজ্জ্বল মুখে জবাব দেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। ছবি: ফাইল ছবি
সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে হাস্যোজ্জ্বল মুখে জবাব দেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। ফাইল ছবি

অবরোধ তুলে নেওয়ার অাগে সকাল থেকে ১১টা পর্যন্ত যেসব বাস বিভিন্ন রুটে নেমেছিল। হঠাৎ অবরোধে সেগুলো গন্তব্যে পৌঁছানোর অাগেই থমকে যায়। অনেক বাসের যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে দেওয়া হয় বলেও যাত্রীরা অভিযোগ করেন।

শিশুমেলা থেকে মহাখালী অাসা অাসকার সাইদ নামের এক যাত্রীর অভিযোগ, মিরপুর টু কুড়িলগামী একটি বাস তাদের মহাখালী পর্যন্ত নিয়ে অাসার পরই হেলপার নামিয়ে দেন। বাধ্য হয়ে রিকশায় তাকে কাজে যেতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবরোধের কারণে উত্তরা থেকে বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট টু শাহবাগে কোনো বাস অাসতে পারেনি। এমনকি উত্তরার দিকে কোনো বাস যেতেও পারেনি। মিরপুর থেকে যে কটি বাস নতুনবাজারের দিকে অাসার পরিকল্পনায় ছিল, তারাও মহাখালী ও গুলশানের মাঝ রাস্তায় এসে বাস ঘুরিয়ে নেয়। যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বাসের দরজা বন্ধ করে থাকতেও দেখা গেছে।

বাস ও অন্যান্য যান কম থাকায় গুলশান, বাড্ডা থেকে কারওয়ানবাজার অাসা লোকজনের ভিড় ছিল হাতিরঝিলের নৌকা সার্ভিসে। বাস কম থাকায় অনেককে বাড়তি ভাড়া গুনে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে।

বাসচাপায় নিহত দিয়া খানম মিম (বাঁয়ে) ও আব্দুল করিম (ডানে)
বাসচাপায় নিহত দিয়া খানম মিম (বাঁয়ে) ও আব্দুল করিম (ডানে)

মিরপুর থেকে গুলশান-১ নম্বরে অাসা যাত্রী রুবেল অাহমেদ প্রিয়.কমকে জানান, দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত মিরপুর গোল চত্ত্বরে দাঁড়িয়ে থাকলেও বাসে উঠতে পারেননি। বাধ্য হয়ে পরে পাঠাও ডেকে গুলশানে অাসেন। কিন্তু গুলশান এসে অাবারও বিপদে পড়েন। কারণ তার গন্তব্য ছিল ডেমরা। গুলশান-১ থেকে রামপুরা বনশ্রী পর্যন্ত চলাচলকারী বাসগুলো বন্ধ ছিল।

অবশ্য বনশ্রী থেকে মিরপুরগামী রবরব পরিবহনের বাসগুলো সকালে চলাচল করলেও দুপুরের পর অার দেখা যায়নি। অন্যদিকে গুলিস্তান থেকে উত্তরাগামী কোনো বাস ছেড়ে না যাওয়ায় বিপাকে পড়েন যাত্রীরা।

এদিকে দুপুরে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ‘এ ঘটনায় বিচার যথাযথভাবেই হবে। এ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। অামরা অপেক্ষা করি।’

প্রিয় সংবাদ/হাসান/শান্ত 

পাঠকের মন্তব্য(১)

মন্তব্য করতে করুন


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

r koto jibon galy........sob khanto hoy

আরো পড়ুন
‘ঘুষসহ’ এলজিইডির প্রকৌশলী ধরা
আবু আজাদ ১৬ আগস্ট ২০১৮
‘ভবন থেকে পড়ে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিহত
মোস্তফা ইমরুল কায়েস ১৬ আগস্ট ২০১৮
অটল বিহারি বাজপেয়ি আর নেই
প্রিয় ডেস্ক ১৬ আগস্ট ২০১৮
সমাধান শাজাহান খান
সমাধান শাজাহান খান
প্রথম আলো - ১ week, ৬ দিন আগে
শাজাহান খান আর কত দিন
শাজাহান খান আর কত দিন
প্রথম আলো - ১ week, ৬ দিন আগে
ট্রেন্ডিং