শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করা হোক। প্রতীকী ছবি

শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করা হোক

স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পার্ট টাইম ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারে। এটা এমন কোনো বড় বাজেটের ব্যাপারও নয়।

জীবেন রায়
অধ্যাপক
প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০১৮, ১৬:১৫ আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩২


শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করা হোক। প্রতীকী ছবি

চাকরি করতে বা পেতে হলে অভিজ্ঞতা চাই। আমাদের দেশে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার কোনো ব্যবস্থাই নাই। অথচ উন্নত দেশগুলোতে ইন্টার্নশিপের ছড়াছড়ি। সেখানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সামার জব, উইকএন্ড জব ইত্যাদি চেষ্টা করলেই পাওয়া যায় অন্ততপক্ষে মিনিমাম ওয়েজে।

আমাদের কনিষ্ঠ মেয়েটি এই চলমান সামারে আটলান্টায় এমোরি (ফ্রেশম্যন ইয়ার) থেকে মিসিসিপি কলম্বাসে বাসায় সময়টা কাটাচ্ছে। নিজে নিজেই ঠিক করলো একটা অন লাইন কোর্স করবে আর যে কোনো একটা কাজ করবে। নিজে নিজেই দু’একটা রেস্তোরায় ইন্টার্ভিউ দিয়ে একটিতে খাবার সার্ভ করার চাকরি পেয়ে গেছে। নিজে রোজগার করছে, জীবনের একটা বিরাট পদক্ষেপ বৈকি।

সম্প্রতি ঢাকায় অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে গেছে। একটা দুর্ঘটনাত্তোর শিক্ষার্থীরা সড়ক-পরিবহন নিয়ে  যুক্তি-যুক্ত দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে। আরও অবাক, সরকার পক্ষও সেই দাবিগুলো যুক্তিসংগত মনে করছে এবং কার্যকরী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই মুহূর্তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজের ছুটির দিনে ট্রাফিক ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করতে পারে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। শুধু ট্রাফিক কেন, যেকোনো ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের কাজে লাগাতে পারবে। এক সপ্তাহের ট্রেনিং দিয়ে বিভিন্ন শহরে মিনিমাম ওয়েজের ভিত্তিতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পার্ট টাইম ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারে। এটা এমন কোনো বড় বাজেটের ব্যাপারও নয়।

দ্বিতীয় একটা প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে, নারী বাস ড্রাইভার তৈরি করা। আমার মনে পড়ছে সেই ১৯৮৫ সালে যখন একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগদান করি, প্রথম প্রফেশনাল ড্রাইভার সালেহার সঙ্গে পরিচয় হয়। তারপর কত বছর মাঝেমধ্যেই তার গাড়িতে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি।

বর্তমানে সৌধি আরবে নারীরা গাড়ি চালাচ্ছে আর আমরা কয়েক শত নারী বাস ড্রাইভার তৈরি করতে পারবো না। নারী ড্রাইভাররা কখনো বেপোয়ারা হয়ে গাড়ি চালায় না এবং তুলনামূলক সেইফ ড্রাইভিং করে।

উন্নত দেশগুলোর ট্রাফিক আইন খুবই বিজ্ঞানসম্মত। তাই বলে সে সব দেশে দুর্ঘটনা হয় না, তা  নয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় আড়াই কোটি গাড়ি প্রতিনিয়ত রাস্তায় থাকে, প্রায় এক পঞ্চমাংশ লোক সড়কেই কাটিয়ে দেয়। কাজেই দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও খুব একটা কম নয়।

তবে আমাদের দেশের মতো সড়ক-পরিবহনের অবস্থা হলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় দশগুণ বেশি দুর্ঘটনা ঘটতো।

খবরে প্রকাশ বাড্ডায় ইউলুপ চালু হয়েছে অথচ স্পিড লিমিট সাইন নেই। সড়কের প্রতিটা বাঁকে পরপর কয়েকটা স্পিড লিমিট দেওয়া উচিত। জনগণের নিরাপত্তার জন্য সবকিছুই করা উচিত। তারপরও যখন মৃত্যু আসে, তখন সেই অমোঘ সত্যটি মেনে নিতে হবে, মৃত্যুটাই স্বাভাবিক আর বেঁচে থাকাটাই অস্বাভাবিক।

আশা করছি সড়ক-পরিবহনের অবস্থা উন্নত হবে, তেমনি উন্নত হওয়া উচিত হাসপাতাল ও চিকিৎসা খাত।

[প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রিয়.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে প্রিয়.কম-এর সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে।]

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
প্রচণ্ড গরমে আরামে ঘুমাবার ৭ টিপস
রুমানা বৈশাখী ১৬ আগস্ট ২০১৮