মানুষ মাত্রই ভিন ভিন মত। ছবি : সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ায় কারো পোষ্ট অপছন্দ হলে কী করবেন?

ফেসবুক বা অন্য কোন সোশ্যাল মিডিয়ায় কারো সাথে মতের অমিল আপনার হতেই পারে আর সেটাই খুব স্বাভাবিক। কিন্তু এই মতের অমিল হলে কী করবেন? মানুষটির সাথে তর্ক করে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করবেন? নাকি নিজের ফ্রেন্ড লিস্ট থেকেই বাদ দিয়ে দেবেন?

রুমানা বৈশাখী
বিভাগীয় প্রধান (প্রিয় লাইফ)
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০১৮, ২২:৫৩ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২০:১৬


মানুষ মাত্রই ভিন ভিন মত। ছবি : সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুকে আজকাল মতের অমিল নিয়ে তর্ক-বিতর্ক মারাত্মক বেড়েছে। নানা মুনির নানা মতের কারণে ঝগড়াঝাঁটি বা সম্পর্ক নষ্ট হবার হারও বেড়েছে। ব্যাপারটা এখন এমন যে ফেসবুকে কেউ একটা পোষ্ট দিলে তাতে যেন সকলেরই একটা কমেন্ট করতেই হবে। বিশেষ করে যাদের সাথে মতের অমিল হচ্ছে না, তারাও ঝাঁপিয়ে পড়েন কমেন্ট সেকশনে। জোর পুর্বক নিজের মতামতকে সঠিক আর অন্যকে ভুল প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফলাফল যা হবার ঠিক তাই হয়। ঝগড়াঝাঁটি, সম্পর্ক নষ্ট, কোন কোন ক্ষেত্রে শত্রুতা।

কিন্তু আসলেই কি ব্যাপারটি তাই? ফেসবুক বা অন্য কোন সোশ্যাল মিডিয়ায় কারো সাথে মতের অমিল আপনার হতেই পারে আর সেটাই খুব স্বাভাবিক। কিন্তু এই মতের অমিল হলে কী করবেন? মানুষটির সাথে তর্ক করে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করবেন? নাকি নিজের ফ্রেন্ড লিস্ট থেকেই বাদ দিয়ে দেবেন? জানুন আজকের ফিচারে...

উপেক্ষা করা আশির্বাদ

অনলাইনে কিছু ভালো না লাগলে সেরা অপশনটি হচ্ছে এড়িয়ে যাওয়া বা উপেক্ষা করা। মানুষ মাত্রই মতের অমিল হবে। সব মানুষ এক রকম হলে দুনিয়া কবে স্বর্গ হয়ে যেত। কারো সাথে মতের অমিল হলেই তাঁর পোস্টে গিয়ে নিজেকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করতে হবে, মানুষটিকে অপমান বা ছোট করার চেষ্টা করতে হবে, এটা ভাবা বড় ধরণের বোকামি। যারা ফ্রেন্ড লিস্টে আছে তাদের সাথে তো বটেই, যারা ফ্রেন্ড লিস্টে নেই তাদের ক্ষেত্রেও এটা মনে রাখা জরুরী।

ঝগড়া জুড়ে দেয়াটা বোকামি

কারো পোষ্ট অপছন্দ হলে ব্যাপারটা এড়িয়ে না গিয়ে যেচে ঝগড়া জুড়ে দেয়াটা হচ্ছে বড় মাপের বোকামি। কারণ এই ঝগড়ায় কোন পক্ষ লাভবান হয় না। বরং অনেক ভালো সম্পর্কও নষ্ট হয়ে যায়। যা ঠিক তা কিছুদিন পর নিজেই প্রমাণিত হয়ে যাবে। প্রমান করার জন্য গলার রগ ফুলিয়ে ঝগড়া করে লাভ নেই। কেউ একটা ভুল বা অন্যায় কিছুও যদি বলে থাকেন, সেখানে ঝগড়া করতে গিয়ে আপনি বরং পোস্টটির প্রচারণা বাড়াচ্ছেন। আরও বেশি মানুষকে ভুল বা অন্যায় তথ্যগুলোর দিকে আকর্ষণ করছেন। তাই যদি এড়িয়ে না গিয়ে কমেন্ট করেও বসেন, চেষ্টা করবেন কোন পরিস্থিতিতেই ঝগড়ায় না যেতে।

বল প্রয়োগ নিষ্প্রয়োজন

ঝগড়ার পাশাপাশি নিজের মতের সাথে অন্যকে বল পূর্বক হ্যাঁ বলাতে চাওয়াটা হচ্ছে আরও বড় বোকামি! রীতিমত নির্বুদ্ধিতা। যারা এটা করেন, তারা কখনো মানতেও রাজি না যে তার মতামতটিও ভুল হতে পারে। হয়তো দুজনেই ভুল হতে পারেন, বা দুজনেই সঠিক। এমনকি একই জিনিস একজনের জীবনে আশির্বাদ প্রমানিত হলেও অন্যের জীবনে অভিশাপ হতে পারে। সকলেই নিজের দৃষ্টিকোণ দিয়ে পৃথিবী দেখে, সকলের জীবনই ভিন্ন। তাই গায়ের জোরে কাউকে ভুল প্রমাণের চেষ্টা করবেন না। কারণ তাতে কোন উপকার হবে না। অকারণে আপনার সময় ও এনার্জি অপচয়।

মতের অমিল মানেই সম্পর্ক নষ্ট নয়

কারো সাথে মতের অমিল হচ্ছে মানেই রেগে গিয়ে আনফ্রেন্ড করে দিলেন, ব্লক করে দিলেন- এটা কোন সমাধান নয়। নিজের পরিবারের দিকে দেখুন। পরস্পরের সাথে কত মতের অমিল। কিন্তু তাই বলে কি পরিবার ভেঙে দিচ্ছেন? এসব ছেলেমানুষি আচরণ না করাই ভালো। আপনি চাইলে তাঁকে আনফলো করে রাখতে পারেন যেন তাঁর কোন পোষ্ট আপনাকে দেখতে না হয়। আনফ্রেন্ড করার আগে ভালো করে ভাবুন, যে কারণে আনফ্রেন্ড করতে চাইছেন, সেটা আসলেই খুব গুরুতর তো? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবেই আনফ্রেন্ড করুন। আরেকটা জিনিস কি, ভিন্নমত শোনার চর্চাটাও থাকা উচিৎ!

নিজের গুরুত্ব ধরে রাখুন

একটা কঠিন সত্য মনে রাখবেন, পৃথিবীর সবাই বা পৃথিবীর সবকিছু আপনার বিষয় নয়। সবকিছুই যে আপনি জানেন ও বোঝেন, বিষয়টি সেটাও নয়। সবক্ষেত্রে আপনার মতের গুরুত্ব নাও থাকতে পারে। তাই নাক গলানো বন্ধ রাখুন। অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য বা ঝগড়া করে নিজেকে খাটো করবেন না। অনেকেই হয়তো বোকার মত নিজের পার্সোনাল ঝগড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়ে আসে। এসব করার ভুল করতে যাবেন না। নিজের গুরুত্ব ধরে রাখুন, অন্যের প্রাইভেসিকে সম্মান দিন।

রিপোর্ট

আনফ্রেন্ড তো করে দিলেন, এরপর? শেষ যে কাজটি করতে পারেন, সেটা হচ্ছে রিপোর্ট। ধরুন ফেসবুকে আপনার কোন বন্ধু ভায়োলেন্স বা নগ্নতা জাতীয় কিছু শেয়ার দিচ্ছে বা স্প্যামিং করছে। সেক্ষেত্রে আপনি ফেসবুকে রিপোর্ট করতে পারেন। তারা এই বিষয়ে বেশ কড়াকড়ি করছে আজকাল। কেউ যদি দেশ বিরোধী কিছু বা অপরাধে উস্কানি সুচক কিছু বা মাদকের ব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে কথা বলে, সেক্ষেত্রে আপনার উচিৎ হবে পুলিশে বা র‍্যাবে অভিযোগ করা। এই অভিযোগ হট লাইনে কল দিয়ে করা যায়, সরাসরিও করা যায়, ৫৫৫ নম্বরে কল দিয়েও করা যায়। দেশের বা মানুষের ক্ষতি হয়, বা কোন অপরাধ ঘটতে যাচ্ছে- এমন যে কোন কিছু নিয়েই রিপোর্ট করা যায়।

শেষ কথা এই যে, নিজের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া খুব ভালো। কিন্তু সেটার অর্থ এই নয় যে জগতের সবার মতামত আপনার মতই হতে হবে বা আপনার সাথে মিলতে হবে। যা নিয়ে ঝগড়া করে সম্পর্ক নষ্ট করছেন, নিজের মুল্যবান সময় নষ্ট করছেন, সেটা আসলেই সম্পর্ক নষ্ট করার যোগ্য তো? ভেবে দেখুন!

প্রিয় লাইফ/ আর বি

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
সম্পর্ক টিকে থাকবে কীভাবে
সম্পর্ক টিকে থাকবে কীভাবে
https://www.prothomalo.com/ - ৩ দিন, ৫ ঘণ্টা আগে
চীন-পাকিস্তান সম্পর্কের হদিস জানা
চীন-পাকিস্তান সম্পর্কের হদিস জানা
নয়া দিগন্ত - ৪ দিন, ২ ঘণ্টা আগে