বিএনপির লোগো

আন্দোলনেই সমাধান খুঁজছে বিএনপি

‘নির্বাচনের সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্পৃক্ততা আছে। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) মুক্ত অবস্থায় সিদ্ধান্ত দিবেন, আমরা (বিএনপি) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব কি না।’

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০১৮, ২২:১৪ আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০১৮, ০৮:০০


বিএনপির লোগো

(প্রিয়.কম) কারাবন্দী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বিএনপি। সেই সঙ্গে দাবি আদায়ে ফের আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ একাধিক নেতা প্রিয়.কমকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

ওই নেতারা জানান, আন্দোলনের সময় বা দিনক্ষণ, কৌশল প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হলেও অচিরেই রাজপথে কর্মসূচি ঘোষণার পরিকল্পনায় এগোচ্ছে দলটি। সে ক্ষেত্রে দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রথমত, কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি; দ্বিতীয়ত, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায়। এই দুটি দাবি আদায়ে আন্দোলনের বিকল্প নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দাবি আদায়ে দুই দফায় রাজপথের আন্দোলনে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ দলটি অতীত ভুলে এবার রাজধানী থেকেই দাবি আদায়ের আন্দোলন শুরু করার কৌশল নির্ধারণ করছে। বিগত আন্দোলন- সংগ্রামে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করলেও ঢাকায় অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা ছিলেন ততটাই নিষ্ক্রিয়। তাই ঢাকাকে আন্দোলনের ‘মূল কেন্দ্র’ বিবেচনায় রেখেই সারা দেশে একযোগে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সেই আন্দোলনের সময়কালও স্বল্পমেয়াদী।

নেতাদের ভাষ্য, এই প্রথম আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণ করতে তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক নেতাদের মতামত নিয়েছেন নীতি নির্ধারকরা। তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে অতি দ্রুত আন্দোলনে যেতে মতামত উঠে এসেছে। কেন্দ্রও আন্দোলনকে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে নিয়ে যেতে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে আন্দোলনের ধরন, কৌশলের ছক আঁকছে। তাই বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হলে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে রাজপথ আন্দোলনে নামতে চায় বিএনপি।

ওই নেতারা আরও জানান, জাতীয় ঐক্য গঠন প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে নির্দিষ্ট জায়গার দিকে এগোচ্ছে। যদিও সবকিছুই নির্ভর করছে দলের কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরামর্শ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চূড়ান্ত  নির্দেশনার ওপর।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। অন্তত সে বিবেচনায় হলেও দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিএনপির সামনে এই মুহূর্তে আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই। তাই আন্দোলন ব্যতীত কোনো বিষয় বিএনপির ভাবনায় নেই।

মূল টার্গেট হচ্ছে আন্দোলনের মাধ্যমেই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা। নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করে তার নেতৃত্বেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি। কারণ খালেদা জিয়া ব্যতীত এই দেশে কোনো প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না, হতে দেওয়া হবে না।’

এক প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ বলেন, ‘আন্দোলন চলমান প্রক্রিয়া। বিএনপি আন্দোলনের মধ্যেই রয়েছে। কাজেই বিএনপিকে দাবি আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে যেতে খুব একটা বেগ পেতে হবে বলে আমি মনে করছি না। তা ছাড়া আন্দোলনের বিষয়ে দল ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যেও ঐকমত্য রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া সফল হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। ফলে জাতীয় ঐক্য গঠন হওয়ামাত্রই রাজপথের বৃহত্তর আন্দোলন গণদাবিতে রূপ নেবে। যদিও ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথ আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে কিংবা পরে যেকোনো সময় শুরু হওয়ার অপেক্ষায়।’

গত ৩ ও ৪ আগস্ট দলের সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দুই দিনে চার সেশনে বৈঠক করেছেন বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে মূল এজেন্ডা ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তি, আন্দোলন ও নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের করণীয় নির্ধারণ।

ওই বৈঠকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামীতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে প্রয়োজনে জোটে থাকা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ করতেও মতামত দেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ের দাবিতে অতি দ্রুত রাজপথের আন্দোলনে যেতে তাগিদ দেন এবং ঢাকায় আন্দোলন জোরদার করতে অতীত ব্যর্থতার চিত্র স্মরণ করিয়ে দেন তৃণমূল নেতারা। তখন কেন্দ্রীয় নেতারাও আগামী দিনে দ্রুত সময়ের মধ্যে গৃহীত আন্দোলন-সংগ্রামের সব ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

তৃণমূল নেতাদের ভাষ্য, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপির পক্ষে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া উচিত হবে না। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে গেলে কোনো লাভ হবে না; বরং সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোর মতো অবস্থা হবে। কাজেই এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নয়, প্রস্তুতি একটাই, সেটা হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা। সে সময় আগামী সেপ্টেরের মধ্যে কঠোর আন্দোলনের ডাক আসতে পারে বলে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তৃণমূল বিএনিপকে প্রস্তুতি নিতেও বলা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা প্রিয়.কমকে বলেন, ‘সংলাপ আলোচনায় ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম বিবেচনায় রেখেই বিএনপি দাবি আদায়ে পূর্ণশক্তি নিয়ে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সমঝোতা হলে ভালো নতুবা আন্দোলনের মাধ্যমেই নির্ধারণ হবে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, অনির্বাচিত সরকার শেষ পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যায় কি না। তাই এই মুহূর্তে সংকট সমাধানে বিএনপির কাছে আন্দোলনই মুখ্য বিষয়।’ 

ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্দোলনে চূড়ান্ত সফলতার লক্ষ্যে সাংগঠনিক শক্তি, বিশেষ করে ঢাকা মহানগরকে সক্রিয় করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সারা দেশে দল গোছানোর কাজও সমাপ্তির পথে এবং শুধু মাত্র বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই সেই কমিটিও ঘোষণা করা হবে। রাজপথের আন্দোলনেও নামা হবে।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘নির্বাচনের সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্পৃক্ততা আছে। কাজেই ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) মুক্ত অবস্থায় সিদ্ধান্ত দিবেন, আমরা (বিএনপি) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব কি না। কারণ আমরাও কারামুক্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নিয়ে নির্বাচনে যেতে আগ্রহী।’

এক প্রশ্নের জবাবে আলাল বলেন, ‘সবকিছুই স্বাভাবিক নিয়মে চললেও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলার প্রক্রিয়া অস্বাভাবিক নিয়মে চলছে, যেখানে আইনের অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তার কারাবাস দীর্ঘ করা হচ্ছে। জামিনযুক্ত মামলাতেও জামিন দেওয়া হচ্ছে না, যা আমাদের জন্য বেদনার ও কষ্টের। তাই স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আগামী দিনের চূড়ান্ত আন্দোলনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করতে প্রস্তুতি চলছে। কারণ দলের নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন, রাজপথের আন্দোলনে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে, এই কথাটিই সত্য এবং রাজপথের আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নাই।

২০১৪, ১৫ সালে আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা মহানগর বিএনপির যে ভূমিকা ছিল, এখন সে অবস্থা নেই। এখন অন্তত মহানগরে ১০টি স্পটে হলেও প্রতিবাদ মিছিল হয়, হচ্ছে, যা দিনদিন আরও সংগঠিত হবে; যা দেখে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও আন্দোলনে যেতে উজ্জীবিত আছে। এখন কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খালেদা জিয়ার মুক্তির ফয়সালা করতে বিএনপি রাজপথে নামবে।’

দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রিয়.কমকে বলেন, ‘সকল সংকটের একমাত্র সমাধান খালেদা জিয়ার মুক্তি। খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে, নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় সময়ের ব্যাপার। দাবি আদায় ততটা কঠিনও হবে না। আর এটা কেবল বিএনপির কথা নয়; বরং ভোটারবিহীন ক্ষমতাসীন সরকারও সেটা ভালোভাবে বুঝতে পারছে। সে জন্যই তারা দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে বিনা দোষে কারান্তরীণ করে রেখে একতরফা নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু বিএনপির বক্তব্য স্পষ্ট-খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি ও নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যা করা প্রয়োজন, তাই করা হবে।’

লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া প্রিয়.কমকে বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে, আগামী দিনে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা। তৃণমূল নেতারা সবাই খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তুলতে মতামত দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতারাও মনে করেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। সেই লক্ষ্যে সবাইকে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।’

আবুল খায়ের ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘বিএনপির প্রথম এজেন্ডা হচ্ছে চেয়ারপারসনের মুক্তি এবং সেই আলোকেই আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। সে জন্য তৃণমূল নেতাদের প্রায় সবারই মুখে একই কথা যে, বিএনপির এই মুহূর্তে একটাই এজেন্ডা হওয়া উচিত, সেটা হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তি আদায়। কারণ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এরপর থেকে দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন ধরনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।

এসব কর্মসূচির মধ্যে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ও অনশন, গণস্বাক্ষর, স্মারকলিপি প্রদান, কালো পতাকা প্রদর্শন, লিফলেট বিতরণ, জনসভা, আলোচনা ও প্রতিবাদ মিছিল রয়েছে। এর মধ্যে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পুলিশ পণ্ড করে দেয়। ঢাকায় একটি জনসভার জন্য চারবার অনুমতি চেয়েও পাওয়া যায়নি। কিন্তু গত ২০ জুলাই রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করে বিএনপি।

প্রিয় সংবাদ/হিরা/আজহার

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
‘ঘুষসহ’ এলজিইডির প্রকৌশলী ধরা
আবু আজাদ ১৬ আগস্ট ২০১৮
‘ভবন থেকে পড়ে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিহত
মোস্তফা ইমরুল কায়েস ১৬ আগস্ট ২০১৮
অটল বিহারি বাজপেয়ি আর নেই
প্রিয় ডেস্ক ১৬ আগস্ট ২০১৮
দুই মামলায় জামিন পেলেন খালেদা জিয়া | আদালত
দুই মামলায় জামিন পেলেন খালেদা জিয়া | আদালত
ইত্তেফাক - ২ সপ্তাহ, ২ দিন আগে
মানহানির দুই মামলায় জামিন পেলেন খালেদা জিয়া
মানহানির দুই মামলায় জামিন পেলেন খালেদা জিয়া
বণিক বার্তা - ২ সপ্তাহ, ২ দিন আগে
ট্রেন্ডিং