নির্যাতন সইতে না পেরে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী। ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা ইস্যু: বাংলাদেশের পাশে থাকার আহ্বান ইউএনসিএইচআরের

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আরও সহায়তা ও সুরক্ষা প্রদানের জন্য এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সরকারের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রধান ফিলিপো গ্র্যান্ডি।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৩৫ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৪৮


নির্যাতন সইতে না পেরে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আরও সহায়তা ও সুরক্ষা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের পাশে থাকতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সরকারের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রধান ফিলিপো গ্র্যান্ডি।

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ২৬ দেশের মন্ত্রীদের নিয়ে অনুষ্ঠেয় সপ্তম মন্ত্রণালয় বালি প্রসেস সম্মেলনে এ আহ্বান জানান ফিলিপো গ্র্যান্ডি।

ইউএনএইচসিআরের প্রধান বলেন, ‘গত বছর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হওয়ার পর সাত লাখের বেশি শরণার্থী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। আমি আপনাদের সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের পাশে থাকুন। সংহতি প্রকাশ করুন। রাখাইন রাজ্যের জনগণের সমস্যার সমাধান করার জন্য আমাদের অবশ্যই কাজ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের জোর করে আগের অবস্থানে পাঠানো যাবে না।’

বালি প্রসেস ৪৮টি সরকার ও চারটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি ফোরাম। যার মধ্যে রয়েছে ইউএনএইচসিআর, আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) এবং মাদক ও অপরাধ বিষয়ক জাতিসংঘের কার্যালয় (ইউএনওডিসি)। মানব চোরাচালান, মানব পাচার ও সীমান্ত অপরাধ সম্পর্কিত ইস্যু নিয়ে সংলাপ ও আলোচনার জন্য এই ফোরাম গঠিত হয়।

২০১৬ সালের মার্চ মাসে বালি ঘোষণা গৃহীত হয়। যাতে রাষ্ট্রহীন অবস্থার সমস্যার সমাধানের পদক্ষেপের গুরুত্ব, অংশদারী উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং শরণার্থী ও অভিবাসীদের নিরাপদ পথ প্রসারিত করার ওপর আলোকপাত করা হয়।

জাতিসংঘের সংবাদ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক সহিংসতার কারণে লাখ লাখ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গ্র্যান্ডি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য শরণার্থী বোঝা কমাতে তারা যেন পদক্ষেপ নেয়। সেখানে হাসপাতাল নির্মাণের মতো বিভিন্ন কাজে যেন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। যেখানে শরণার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হতে পারে।’

‘প্রায় নয় লাখ শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশ সরকারকে উন্নয়ন, বাণিজ্য ও অভিবাসন ক্ষেত্রে আমরা কি সাহায্য করতে পারি না? যেমন- বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোটা বাড়ানো অথবা বাংলাদেশের পোশাক পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো’, বলেন তিনি।

ইউএনএইচসিআর প্রধান বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের প্রকৃত সমাধান মিয়ানমারের কাছে রয়েছে। এজন্য তিনি রাখাইনে বাস্তুচ্যুত হওয়ার মূল কারণসমূহ খুঁজে বের করতে আঞ্চলিক সমর্থনের অনুরোধ করেন। উদাহরণস্বরূপ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করলে তাদের বিভক্ত করার পরিবর্তে সম্প্রদায়গুলো সাথে সংযোগ স্থাপিত হবে। রাষ্ট্রহীন অবস্থার সমাধান ও আন্তঃসাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বেরও সমাধান হবে।’

বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নেতাদের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বিস্তৃত করে বৈধ শ্রমিকদের অভিবাসন ও মানব পাচার মোকাবেলার কথাও বলেন তিনি।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট