চীনের মুসলিমরা বৃহস্পতিবার মসজিদের সামনে বিক্ষোভ করেন। ছবি: সংগৃহীত

মসজিদ ভাঙতে চায় চীন সরকার, ঠেকাতে বদ্ধপরিকর মুসলমানরা

হাজার হাজার উইঘুর মুসলমানকে চীন সরকার জোর করে ‘শিক্ষা কেন্দ্রে’ পাঠিয়েছে।

আবু আজাদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩৭ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৫:১৬


চীনের মুসলিমরা বৃহস্পতিবার মসজিদের সামনে বিক্ষোভ করেন। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) চীনের পশ্চিমাঞ্চলে একটি মসজিদকে ভেঙে দেওয়া ঠেকাতে শত শত মুসলিম বিক্ষোভ করেছেন।

চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, নিংজিয়া এলাকায় নবনির্মিত ওয়েইজু গ্র্যান্ড মসজিদ তৈরির সময় যথাযথ অনুমোদন নেওয়া হয়নি। কিন্তু তাদের এই বক্তব্য মুসল্লিরা মেনে নিতে নারাজ।

স্থানীয় এক মুসল্লি বলেন, ‘আমরা সরকারকে এ মসজিদ স্পর্শ করতে দেবো না।’

 চীনে দুই কোটি ৩০ লাখ মুসলমানের বসবাস। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের নিংজিয়া প্রদেশে কয়েক শত বছর ধরে মুসলিমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বসবাস করছে। কিন্তু মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, চীনে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সরকারের বিদ্বেষ ক্রমেই বাড়ছে।

বিবিসির খবরে জানানো হয়, যে মসজিদটি সরকার গুঁড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি মধ্যপ্রাচ্যের মসজিদগুলোর আদলে মিনার ও গম্বুজ দিয়ে তৈরি।

কীভাবে বিক্ষোভ শুরু হলো

৩ আগস্ট সরকার একটি নোটিশ জারি করে। ওই নোটিশে বলা হয়ে, এ মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সে জন্য এ মসজিদ ভেঙে দেওয়া হবে। সরকারের সে নোটিশটি দেশটির হুই মুসলিমরা নিজেদের মধ্যে অনলাইনে শেয়ার করে।

হংকংভিত্তিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পত্রিকা বলেছে, অনেকে প্রশ্ন তোলেন, দুই বছর ধরে মসজিদটি তৈরি করার সময় কর্তৃপক্ষ কেন প্রশ্ন তোলেনি।

এ নিয়ে ৯ আগস্ট, বৃহস্পতিবার ও পরের দিন শুক্রবারও মসজিদের বাইরে মুসলমানরা বিক্ষোভ করেন।

চীনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, বড় সাদা ভবনের বাইরে বহু মানুষ জড়ো হয়েছেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, উই মুসলিম ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যকার আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে।

হুই মুসলিমরা নৃতাত্ত্বিকভাবে চীনা। ছবি: সংগৃহীত
হুই মুসলিমরা নৃতাত্ত্বিকভাবে চীনা। ছবি: সংগৃহীত

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ‘আমরা এখন অচলাবস্থার মধ্যে আছি। সরকারকে এ মসজিদ স্পর্শ করতে দেবে না মানুষজন। কিন্তু সরকারও পিছু হটছে না।’

শুক্রবার এ মসজিদ ভেঙে দেওয়ার কাজ শুরু হবে নাকি কোনো সমঝোতা হয়েছে, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়।

স্থানীয় ইসলামী সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, পুরো মসজিদ ভেঙে দেওয়া হবে না। তিনি রয়টার্সকে বলেন, মসজিদের আকার কমিয়ে আনতে এক কাঠামো সংস্কার করতে চেয়েছে সরকার।

চীন ও স্বাধীন ধর্ম চচা

চীনের সংবিধান অনুযায়ী সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সরকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চীনের গির্জাগুলো থেকে ক্রুশ চিহ্ন সরিয়ে নিতে বাধ্য করেছে সরকার। সরকার বলেছে, এ চিহ্ন পরিকল্পনার নিয়ম ভেঙেছে।

চীনের কমিউনিস্ট সরকার দেশটিতে বিদেশি ধর্মের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। এমন অবস্থায় তারা ধর্মের একটি চীনা বৈশিষ্ট্য তৈরি করার চেষ্টা করছে। হুই মুসলিমরা তাদের ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে স্বাধীন হলেও পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াং এলাকায় উইঘুর মুসলিমরা সরকারের দিক থেকে বেশ চাপের মধ্যে আছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পশ্চিমাঞ্চলে জিনজিয়াংয়ে সরকারের কড়া নজরদারি রয়েছে। সেখানে জনসমাগমস্থলে নেকাব ব্যবহারের কারণে অনেক মুসলিম নারী শাস্তির সম্মুখীন হয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, হাজার হাজার উইঘুর মুসলিমকে চীন সরকার জোর করে ‘শিক্ষা কেন্দ্রে’ পাঠিয়েছে। আটককৃতদের নিজের ধর্ম ত্যাগ করতেও বাধ্য করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, নিংজিয়া এলাকায় মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ চীন সরকার নিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে, এখন তারা সেদিকে নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাইছে।

এ বিষয়ে গবেষক প্যাট্রিক পুন বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে মুসলমানদের প্রতি চীন সরকারের যে বিদ্বেষ, সেটি শুধু উইঘুরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।’

প্রিয় সংবাদ/আজহার

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
ছাত্রদলের ৩টি ইউনিটের আংশিক কমিটি গঠন
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ২০ আগস্ট ২০১৮
নৃত্যগুরু বজলুর রহমান বাদল আর নেই
সফিউল আলম রাজা ২০ আগস্ট ২০১৮
রাজধানীতে ৪০৯টি ঈদ জামাত
আবু আজাদ ১৯ আগস্ট ২০১৮
মসজিদ ভাঙার পরিকল্পনায় চীনে অস্থিরতা
মসজিদ ভাঙার পরিকল্পনায় চীনে অস্থিরতা
বিবিসি বাংলা - ৩ দিন, ৫ ঘণ্টা আগে
রোহিঙ্গাদের নিয়ে ফেসবুকে 'এখনো বিদ্বেষ চলছে'
রোহিঙ্গাদের নিয়ে ফেসবুকে 'এখনো বিদ্বেষ চলছে'
বিবিসি বাংলা - ৩ দিন, ৫ ঘণ্টা আগে
ট্রেন্ডিং