প্রতীকী ছবি।

প্রেম আলাপের প্রথম পাঠ

আমি উৎকৃষ্ঠ হইতে লাগিলাম। বর্ষায় ফসলের পথে পলি জন্মিবার মতো আমার হৃদয়ের ভালোবাসা শুদ্ধ হইতে লাগিলো। আমি বুঝিতে পারিলাম কাউকে সত্যিই ভালোবাসতে চলেছি।

মো. জিহাদুল ইসলাম
robi
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৩৭ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:১৬


প্রতীকী ছবি।

তাকে আমি ভালোবেসেছিলাম। আমি তাহার অজান্তেই ভালোবেসে ছিলাম। তখন ২০১৭ সালের প্রথম দিকটা। শীতের সকালে স্যালুন থেকে সেভটা সেরে নিজ গৃহের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হইলাম সাথে ছিল মামাতো ভাই সজিব। কিছুক্ষণ হাটার পর পরমা সুন্দরী একটি মেয়েকে দেখতে পাইলাম। মেয়েটির বৈশিষ্ট্য হল, গায়ের রং ফর্সা হালকা পাতলা গড়ন বয়সের সাথে উচ্চতার বেশ মিল। তাহার মুখমণ্ডলের কোনো এক জায়গায় তিলক চিহ্ন আছে। তিল থাকায় তাহাকে বেশ ভালোই লাগছিলো। সজিবকে আমি বললাম, তুই একটু স্লো হাটো। ওই মেয়েটির সাথে আমার একটু কথা আছে। ও ঠিক তাই করলো। আমি রিল্যাক্স নিয়া মেয়েটির সাথে কথা বলার জন্য অগ্রসর হইলাম।

মেয়েটি তখন স্কুল যাওয়ার পথে। আমি ওর নাম জিজ্ঞেস করলাম। ও নাম বলল। জিজ্ঞেস করলাম কোন ক্লাসে পড়, ও উত্তর দিল আমি সেভেনে পড়ি। আমি বললাম স্কুলে যাও ঠিক মতো পড়াশুনা করিও। আমি ভাবনার সাগরে হারিয়ে যাই। মেয়েটাকে খুব ভালো লাগে তাই না সজিব? আমি সজিবকে প্রশ্ন করি। সেদিন সন্ধাবেলায় সজিব আমার সাদা গেঞ্জিতে কালো কালিতে মোটাক্ষরে মেয়েটির নাম লিখলো। আমি পরম সুখে সে লেখার স্বাদ গ্রহন করি। ধীরে ধীরে আমি মেয়েটার প্রতি আকৃষ্ট হই এবং মাঝে মাঝে বিরক্ত ও হই বটে। এভাবেই কেটে যায় একটি বছর। ২০১৭ সাল। সে এখন অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। জানুয়ারি মাস। আর কয়েকদিন পরেই বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান শুরু হবে। প্রাকটিস চলছে। বলতে বলতে কাঙ্খিত দিনটি এসে পড়েছে। ক্রীড়া অনুষ্ঠানের প্রথম দিন, আমি ও আমার এক বেস্ট ফ্রেন্ড খেলা দেখার জন্য যাই। গিয়ে দেখি মেয়েটিও আছে। আজ তাকে আর অন্যরকম লাগছে। তার নেত্রকোঠা কাঁচের আবরণে ঢাকা। তার কেশরগুচ্ছ সিল্কি মিষ্টি গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমি আমার বন্ধুকে বললাম মেয়েটিকে খুব ভালো লাগে তাই না? আমার বন্ধু বলল মেয়েটি নাকি ওর খুব পরিচিত। ও আরও বলল, তুই ওই মেয়েটিকে পছন্দ করিস? আমি বললাম হ্যাঁ। তারপর ও মেয়েটিকে ডাক দিল। মেয়েটিও ওর ডাকে সাড়া দিলো।

পুষ্প যেমন আপন হৃদয়ে ফুটিয়া ধরার বক্ষ পুলকিত করে। তেমন করিয়া ওর আগমনে আমার বক্ষদেশে পুষ্পস্তবক হইতেছে। মেয়েটি এসে বলল কিছু বলবেন ভাই? আমার বন্ধু বলল আমি কিছু বলবো না। আসলে আমার বন্ধু তোমার সাথে একটু কথা বলবে। এমন সময় একটি ছোকরা এসে মেয়েটিকে ডাক দিল। আষাঢ়ি মেঘরাশি যেমন বৃষ্টি না ঝরে পূবালী বায়ুতে আপন মনে উড়িয়া যায়। তেমন করিয়া কথা না বলিয়া মেয়েটি চলিয়া গেল। আমিও লোকালয়ে কথা বলিতে চাইনি। কয়েক দিন পর স্কুলে যাওয়ার পথে মেয়েটির সাথে আমার দেখা হয়। আমি মেয়েটিকে বললাম এই তুমি কি আমার একটু কথা শুনবে? মেয়েটি কণ্ঠ ভার করে বললো আপনি কী বলবেন তা আমি জানি। আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। জোত্যিষগণ যেমন তাহার ভক্তদের আপন খবর টানিয়া লয় ঠিক তেমনি আমার অনুক্ত বাক্যগুলি সে টানিয়া লইলো। সে আপন চিত্তে কহিল, বাপু আমার দ্বারা এসব হবে না।

এ জগতে প্রেম ভালোবাসা মিথ্যা। আসমান ভাঙ্গিয়া পরিবে বলে চাতক যেমন ওপরের দিকে পা তুলিয়া ঘুমায়। সে ও এই ক্ষণিকের মোহনীয় ভালোবাসা হইতে দুরে থাকিতে চায়। আজ তাহাকে কিছুতেই তাহার মন গলাইতে পারিলাম না। ২০১৭ এর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি। ওদের ফোন নম্বরটা সংগ্রহ করিলাম। আমি ভীত কণ্ঠে ওদের ফোনে কল করি। জানি না কী টিউন ছিলো ওদের ফোনে। হয়তো ক্রিং ক্রিং শব্দে ওদের ফোনটা বেঁজে উঠেছিল। হ্যালো আসসালামু আলাইকুম। ওপাশ থেকে অলাইকুম আসসালাম। কুশল বিনিময়। আমি বললাম কে জুই? (ছদ্মনাম) বললো হ্যাঁ আমি জুঁই। শিমুল ফোটা যেমন আপন পরিচয় দিয়া ধুলায় মিশিয়া যায়। আমিও তেমন নিজ পরিচয় দিয়া কোনো ভুল করিলাম কী? কথা শেষ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে ও পাশ থেকে বলিয়া উঠল সে জুঁইয়ের বড় বোন। খেচর যেমন উড়িয়া উড়িয়া সকলির খোজ তুলিয়া লয়। আমার ও কথা সে মিথ্যা পরিচয়ে জানিয়া লইয়াছে। অাষাঢ়ের তীক্ষ্ণ আঘাত, বীণা হইয়া বাজিবার ন্যায় তাহার বাক্যে অগ্নি প্রস্ফুলিত হইতে লাগিলো। আমি কিছুটা ভার কণ্ঠে কহিলাম। আমার দোষে জুঁইকে দোষান্বিত করিবেন না।। সে ক্ষণিক বাদে কহিলো। আপনি জুঁইকে জানিলেন কীভাবে?

আমি প্রাকৃতিক শিক্ষা গ্রহণ করিয়া বলিলাম, আমি জুঁইকে চিনি না, জানি না। সে আমার অপব্যাখ্যা বুঝিতে পারিয়া কহিলো গৃহকে সিক্ত রাখিবার জন্য সকল ত্যাগ স্বীকার করিতে পারি। চির সত্যের দোহাই দিয়া আমাকে কহিলো এই নম্বরে আর কখনো ফোন দেবেন না। উক্ত বাক্যে আমার অন্তরীক্ষে কাঁটা হয়ে বিদ্ধ হয়। সে কাঁটা তুলিবার জন্য বন্ধুদের উপস্থিতি পাইলাম না। তাহারা আমাকে বল সঞ্চার করিতে বলিলেন।

আমি উৎকৃষ্ঠ হইতে লাগিলাম। বর্ষায় ফসলের পথে পলি জন্মিবার মতো আমার হৃদয়ের ভালোবাসা শুদ্ধ হইতে লাগিলো। আমি বুঝিতে পারিলাম কাউকে সত্যিই ভালোবাসতে চলেছি। আমার বক্ষপীড়া আরও দ্বিগুণ হইয়া জ্বলিতেছিল। আমি তৃতীয় ভুবনে চলিয়া গেলাম। ভাবিতে লাগিলাম কী উপায়ে জুঁইকে আপন করিয়া লওয়া যায়। ২০১৭ এর ফেব্রুয়ারির ১৮তম দিবসে...

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
‘বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টোরি’
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ নভেম্বর ২০১৮
উ‌ন্মো‌চিত হ‌লো ‘খা‌লেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টো‌রি’
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ১৮ নভেম্বর ২০১৮
‘বঙ্গবন্ধু মহাকালের মহানায়ক’ বই প্রকাশ
সফিউল আলম রাজা ১৫ নভেম্বর ২০১৮
সিডনিতে কবিতার জন্য এক বিকেল
প্রিয় ডেস্ক ১৪ নভেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
কীটসের প্রেমিকা
কীটসের প্রেমিকা
বাংলা ট্রিবিউন - ১ week, ৫ দিন আগে
সিয়াম-পূজার ‘প্রেমের বাক্স’
সিয়াম-পূজার ‘প্রেমের বাক্স’
https://www.prothomalo.com/ - ৩ সপ্তাহ, ১ দিন আগে
নতুন প্রেমে মজেছেন এমা
নতুন প্রেমে মজেছেন এমা
https://www.prothomalo.com/ - ৩ সপ্তাহ, ২ দিন আগে
প্রেমের জোয়ারে...
প্রেমের জোয়ারে...
https://www.prothomalo.com/ - ৩ সপ্তাহ, ২ দিন আগে
মিলনের ‘স্বপ্ন ভরা দুটি চোখে’
মিলনের ‘স্বপ্ন ভরা দুটি চোখে’
https://www.banglanews24.com/ - ৩ সপ্তাহ, ২ দিন আগে
‘৪০ বছর ধরে এ দিনটির স্বপ্ন দেখেছি’
‘৪০ বছর ধরে এ দিনটির স্বপ্ন দেখেছি’
জাগো নিউজ ২৪ - ৩ সপ্তাহ, ২ দিন আগে