ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলার ঘটনায় পুড়ে যাওয়া কিছু আসবাবপত্র। পুরনো ছবি

উপাচার্যের বাসভবনে হামলা: তদন্তে নেই বড় অগ্রগতি

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, উপাচার্যের বাসভবনের বাইরে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে সংগৃহীত ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তারা সাত থেকে আটজনকে চিহ্নিত করেছেন।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০১৮, ১৯:১৭ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১৭:১৬
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০১৮, ১৯:১৭ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১৭:১৬


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলার ঘটনায় পুড়ে যাওয়া কিছু আসবাবপত্র। পুরনো ছবি

(ইউএনবি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের বাসভবনে দুর্বৃত্তদের হামলার চার মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজন যুবককে আটক করা ছাড়া মামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি পুলিশ।

তদন্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, উপাচার্যের বাসভবনের বাইরে স্থাপিত ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরা থেকে সংগৃহীত ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তারা সাত থেকে আটজনকে চিহ্নিত করেছেন।

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ৯ এপ্রিল একদল মুখোশ পরা দুর্বৃত্ত এ হামলা চালায়। পরে এ ঘটনায় অনেক শিক্ষাবিদ যে বিবৃতি দেন, তাতে তারা ইঙ্গিত করেন যে, কোটা সংস্কার আন্দোলন বানচাল করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে উপাচার্যের বাসভবনে হামলা হয়ে থাকতে পারে।

হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এতদিন পরও কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলনের কমপক্ষে তিনজন উচ্চ পর্যায়ের নেতা-রাশেদ খান, জসিম উদ্দিন আকাশ ও মশিউর রহমানকে উপাচার্যের বাসভবন ও দায়িত্বরত পুলিশের ওপর হামলাসহ কয়েকটি মামলায় জড়িত দেখিয়ে কারাবন্দী করা হয়েছে।

উপাচার্যের বাসভবনে অবৈধভাবে প্রবেশ, ভাঙচুর ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করার অভিযোগে ১০ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এসএম কামরুল আহসান রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন।

পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়। ডিবির জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমান (ধানমন্ডি জোন) তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এখন মামলাটি তদন্ত করছেন।

মামলার তদন্তে জড়িত ডিবির এক কর্মকর্তা দাবি করেন, উপাচার্যের বাসভবনের বাইরে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে সংগৃহীত ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তারা কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছেন। তাদের মধ্যে তিন সন্দেহভাজন মো. সাইদুর রহমান (২৪), মো. আতিকুর রহমান (২২) ও রাশেদ খান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

‘আমরা উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করতে পারিনি। কারণ অপরাধীরা প্রমাণ নষ্ট করে তা জ্বালিয়ে দিয়েছে’, বলেন ডিবির এক কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তা জানান, ফুটেজগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য গোয়েন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়েছে।

‘আমরা এখনো সিআইডির কাছ থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত পাইনি’, বলেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোয়েন্দারা গত ২৯ এপ্রিল রাজধানীর চানখারপুল এলাকা থেকে রাকিবুল হাসান (২৬), মাসুদ আলম, (২৫) আলী হোসেন শেখ (২৮) ও আবু সাইদ ফজলে রাব্বি সিয়াম (২০) নামে আরও চারজনকে গ্রেফতার করে।তাদের মধ্যে মাসুদ ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। রাকিবের বিরুদ্ধে বরিশাল ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হামলার সময় সিয়াম ও রাকিব উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন বলে তদন্তের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন ডিবির এক কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, হামলার সময় বাসার নিরাপত্তারক্ষী আনোয়ারুল্লাহ ও ধোপা খোকন দাসের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন রাকিব।

‘আমরা প্রথমে আনোয়ারুল্লাহর মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী মাসুদ আলমকে গ্রেফতার করি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আলী হোসেন ও পরে রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। মাসুদের দাবি, তিনি আলী হোসেনের কাছ থেকে মোবাইলটি কিনেছেন। আর হোসেন জানিয়েছেন, তিনি রাকিবের কাছ থেকে সেটি কিনেছেন,’ বলেন ডিবির ওই কর্মকর্তা।

এরপর থেকে মামলার তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি-গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান বলেন, হামলার সময় উপস্থিত পাঁচ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছেন গোয়েন্দারা। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চিহ্নিত বাকি অপরাধীদেরও তারা গ্রেফতারের চেষ্টা করছেন।

কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে ৯ এপ্রিল রাতে একদল দুর্বৃত্ত (যাদের বেশির ভাগ মুখোশ পরা ছিল) উপাচার্যের বাসভবনের ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ও বাসার বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালায়। সেই সঙ্গে তারা বাসভবনের ভেতরে পার্ক করে রাখা দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

প্রিয় সংবাদ/হিরা/আজহার

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...