কারাবন্দী আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম। ছবি: সংগৃহীত

শহিদুল আলমের মুক্তি চান ১১ নোবেলজয়ী

‘শহিদুল আলম একটি আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বাধীনভাবে তার মত প্রকাশ করেছেন।’

আবু আজাদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩৩
আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৩২


কারাবন্দী আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ডেসমন্ড টুটু ও তাওয়াক্কুল কারমানসহ ১১ নোবেলজয়ী এবং বিশ্বের ১৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব কারাবন্দী আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমের অবিলম্বে ও বিনা শর্তে মুক্তির দাবি করেছেন।

এ ছাড়া বিবৃতিতে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভের জেরে যেসব শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে তাদেরও অবিলম্বে মুক্তি ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সকল নাগরিকের মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ সময় তারা বাংলাদেশের সরকারের প্রতি সকল নাগরিকের মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিবৃতি দেওয়া ১১ নোবেল জয়ীর মধ্যে ১০ জনই শান্তিতে পদক পেয়েছেন। তারা হলেন, ডেসমন্ড টুটু, তাওয়াক্কুল কারমান, মায়েদাদ ম্যাগুয়্যার, বেট্টি উইলিয়ামাস, ওসকার এরিয়াস, জোসি রামোস হোর্তা, জডি ইউলিয়ামস, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং শিরিন এবাদি। এ ছাড়াও চিকিৎসা ও মেডিসিনে নোবেল জয়ী স্যার রিচার্ড জে. রোবার্টসও এই তালিকায় রয়েছেন।

এ ছাড়া বিশিষ্ট অপর ১৭ ব্যক্তিত্বের মধ্যে রয়েছেন নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রো হারলেম ব্রান্টল্যান্ড, অভিনেত্রী ও অ্যাকটিভিস্ট শাবানা আজমি, শ্যারন স্টোন, চলচ্চিত্র পরিচালক রিচার্ড কার্টিস।

ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘ড. শহিদুল আলমকে বিতর্কিত আইসিটি অ্যাক্টের আওতায় যে পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এর বিরুদ্ধে আমরা যৌথভাবে আওয়াজ তুলেছি।

আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই তারা যেন বেআইনি গ্রেফতারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখে এবং ড. শহিদুল আলমকে অবিলম্বে এবং নিঃশর্তে মুক্তি দেয়।’

তারা সরকারের প্রতি বিক্ষোভের পর গ্রেফতার হওয়া সব শিক্ষার্থীকে মুক্তিরও দাবি জানান।

সম্প্রতি বাংলাদেশে বাসায় চাপায় দুই স্কুল শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসেন স্কুল শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে অনেক বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে উল্লেখ করে ওই বিবৃতিতে বলা হয় যে, তরুণ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের উপস্থিতিতেই আক্রমণ চালিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন। সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফার যারা এই বিক্ষোভের খবর প্রকাশে পেশাগত দায়িত্বে মাঠে নেমেছিলেন তাদের ওপর হামলার নিন্দা জানানো হয় ওই বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ২০০৬ এর ৫৭ ধারার অধীন তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আইনটি ব্যাপকভাবে ব্যাপকভাবে সমালোচিত, এমনকি সরকারও স্বীকার করেছে যে এটার সংস্কার প্রয়োজন।’

বিবৃতি আরও বলা হয়, ‘শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলার ছবি তুলেছেন এবং একটি আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বাধীনভাবে তার মত প্রকাশ করেছেন।

শহিদুলকে আটকের সাত দিনের মাথায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশে ১২ অাগস্ট শহীদুল আলমকে তার আইনজীবীর উপস্থিতি ছাড়াই কারাগারে পাঠানো হয়।’

সে সময় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বেশ কয়েকজন ছাত্রকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করা হচ্ছে, রিমান্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। যেখানে কী না তরুণ ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যারা সহিংসতা চালিয়েছিল তারা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করছে।’

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট

loading ...