পশুর হাট। ফাইল ছবি

‘কোরবানি পশুর হাসিল ফাঁকি দেওয়া কোরবানির চেতনার পরিপন্থী’

বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, কিছু ক্রেতা কম হাসিল দেওয়ার জন্য পশুর দাম প্রকৃত দামের চেয়ে কম দেখান। আবার ইজারাদাররা সরকারের নির্দিষ্ট হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করেন।

হাসান আদিল
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০১৮, ২০:৫২ আপডেট: ২১ আগস্ট ২০১৮, ২০:৫২
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০১৮, ২০:৫২ আপডেট: ২১ আগস্ট ২০১৮, ২০:৫২


পশুর হাট। ফাইল ছবি

(ইউএনবি) হাট থেকে কোরবানির পশু কেনার পর নির্দিষ্ট হারে কর (হাসিল) সংগ্রহ ও পরিশোধের নিয়ম থাকলেও কিছু ইজারাদার ও ক্রেতা ব্যক্তিগত লাভের জন্য কৌশলের আশ্রয় নেন, যা কোরবানির চেতনার বিপরীত।

ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিথ্যা বা অন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করে কোরবানির পশু কেনার সময় কেউ যদি হাসিল ফাঁকি দেয়, তবে এটি তার কোরবানি নষ্ট করে দেবে।

রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, কিছু ক্রেতা কম হাসিল দেওয়ার জন্য পশুর দাম প্রকৃত দামের চেয়ে কম দেখান। আবার ইজারাদাররা সরকারের নির্দিষ্ট হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক পশু হাটের ইজারাদাররা প্রশাসনের পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণের অভাবে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি হাসিল আদায় করেন। অন্যদিকে কিছু ক্রেতা কম দেওয়ার জন্য পশুর দাম নিয়ে অতিরিক্ত দর কষাকষি করেন।

রাজধানীতে সরকার নির্ধারিত হার হিসেবে, কোনো পশুর মোট মূল্যের সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ হাসিল হিসেবে আদায় করতে পারেন ইজারাদাররা। অন্যদিকে জেলা প্রশাসকরা গরু ও মহিষের জন্য ২০০-৫৫০ টাকা এবং ছাগল ও ভেড়ার জন্য ৭৫-১৫০ টাকা করে হাসিল নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু ইজারাদাররা কোরবানির পশুর দামের ওপর ভিত্তি করে গরু ও মহিষ প্রতি ২০০০ টাকা পর্যন্ত এবং ছাগল ও ভেড়া প্রতি ৫০০ টাকা করে আদায় করছেন।

বিভিন্ন পশুর হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, সরকারের নির্ধারিত হাসিলের কোনো তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছামতো হাসিল আদায় করা হয়। অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়ে অভিযোগ করলে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেন না হাট কর্তৃপক্ষ। এক কথায় তাদের কথামতোই হাট পরিচালিত হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীর এক বাসিন্দা জানান, তিনি পোস্তগোলা হাট থেকে ৬০ হাজার টাকা দামের একটি গরু কিনেছেন। এ জন্য তাকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা হাসিল দিতে হয়েছে, যা সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ হারের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি।

আরেক পশু ক্রেতা বেসরকারি চাকরিজীবী জামাল হোসেন জানান, তিনি শাহেদ নগর হাউজিং পশুর হাট থেকে ৭০ হাজার টাকার গরু কিনলে ইজারাদার তার কাছ থেকে ৪ হাজার হাসিল আদায় করেন। কিন্তু সরকার নির্ধারিত হার হিসেবে তাকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হতো।

একই রকম অভিযোগ উঠেছে পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ, ধূপখোলা, শনির আখরা, শ্যামপুর, উত্তর খান মইনার টেক, বসুন্ধরা ও খিলক্ষেতসহ অন্যান্য পশুর হাট থেকেও।

অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের প্রশ্নে রতমতগঞ্জ হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বড় পশুর ক্ষেত্রে তারা সাধারণত অতিরিক্ত হাসিল রাখেন না। কিন্তু মাঝারি আকারের অনেক পশুর ক্ষেত্রে ক্রেতাদের প্রকৃত দামের চেয়ে ১০-১৫ হাজার টাকা কম বলতে দেখা গেছে। সেজন্য তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান এস্টেট কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত হারের চেয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা যাবে না।’

আর সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি হাসিল আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন শ্যামপুর হাটের ইজারাদার শেখ মাশুক রহমান। তিনি বলেন, ‘এ রকম ঘটনা হতে পারে যদি হাসিল আদায়কারীরা সন্দেহ করে যে ক্রেতারা কম হাসিল দেওয়ার জন্য পশুর দাম কমিয়ে বলছেন।’

প্রিয় সংবাদ/শান্ত 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...