প্রতীকী ছবি।

সম্প্রীতি

সামাজিক ঐক্য তৈরিতে ভারসাম্য দরকার। এ ক্ষেত্রে সবার দায়িত্ব আছে। সামাজিক সহনশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।

লাবিব আহমেদ
লেখক
প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০১৮, ২০:০৩ আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০১৮, ২০:০৩


প্রতীকী ছবি।

খুব সহজে বললে জাতি, গোত্র, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে মানুষের যে সম্পর্ক গড়ে উঠে তাই হলো সম্প্রীতি। এটা হয়ত বোঝা গেছে।

অমুকের সাথে আমার ভালো পরিচয়, তমুক আমার মায়ার ভাই, উনি অমুক দলের বড় নেতা, কাউকে উস্কানি দেয়ার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মানুষের যে সম্পর্ক গড়ে উঠে তাকে সম্প্রীতি বলে না, এটাও জানা হলো।

যেখানে একই এলাকায় থেকেও সম্প্রীতির নামে বিভাজন হয়, অসাম্প্রদায়িকতা তৈরি হয় সেটা কোন রকমের সম্প্রীতি সেটা আমার বোধগম্য হয় না।

যেখানে অনেক ছোটরা মিলন মেলায় অংশ নেয় সেখানে অনেক বড়রা কিছুই জানে না। না, বলছি না ছোটদের অংশ নেয়া ঠিক হয়নি, বলছি এটা যেখানে বড়দের অসম্মান করে ছোটদের অগ্রাধিকার দেয়া হয় আর যাই হোক সেখানে গুণীজনদের জন্ম হবে না।

যারা সম্প্রীতির নামে মিলন মেলার আয়োজন করেছেন তাদের অধিকাংশই জানে না আসলে সম্প্রীতির মানে কী, সম্প্রীতি কী?

ভুল বললাম না তো? নাহ তারা সম্প্রীতির মানে ভালোই জানে। তারা জানে সম্প্রীতি মানে, অমুক ভাইয়ের সাথে সেলফি, কিছু উস্কানি দেয়া, ফেসবুকে চেক-ইন দেয়া, কিছু ফটো সেশান, এইতো সম্প্রীতি।

ও, আচ্ছা এটা সম্প্রীতির ভেতরের আওতাধীন আছে কী?

সম্প্রীতির উদ্দেশ্যে যদি কোন মিলন মেলার আয়োজন করা হয় আর সেখানে যদি কোন অজুহাত থাকে সাময়িক অসুবিধার জন্য সবাইকে বলা যায়নি, কিংবা সময় স্বল্পতার অজুহাত থাকে তাহলে সেটা সম্প্রীতি নয়।

সম্প্রীতিতে কোন অসুবিধা, সমস্যা ইত্যাদির স্থান নেই। যদি এ রকম কিছু থাকে আর উদ্দেশ্য মিলন মেলা থাকে তাহলে খোলা মাঠে দু’এক কাপ চা খেয়েও মিলন মেলা করা যায়। আর সম্প্রীতিও গড়ে উঠে কোনো সন্দেহ নাই। আগে নিজেদের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক ঠিক রাখুন। পারস্পরিক কোন্দল শেষ করুন। চিন্তা করুণ দলমত নির্বিশেষে, এটা হবে আসল সম্প্রীতি।

মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ দুটোই আছে। আপনি যেখান থেকে সম্প্রীতির নামে কোন্দল তৈরি করবেন অন্য কেউ সেখান থেকে অসাম্প্রদায়িকতা তৈরি করবে। তাতে সম্প্রীতি বাড়ছে না কমছে? ভালো কিছু করুণ, ভালো কিছু করে দেখান। প্রশংসা পাবেন, বাহবা পাবেন।

সামাজিক ঐক্য তৈরিতে ভারসাম্য দরকার। এ ক্ষেত্রে সবার দায়িত্ব আছে। সামাজিক সহনশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে। আদর্শের ভিত্তিতে ঐক্য করতে হবে।

অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। চর্চার মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে নিত্য নতুন ফর্মুলা।এলাকার যুবকদের নষ্ট করার কোনো অধিকার আপনাদের নেই। ক্লাস টেনে পড়ে, এই বয়সে অমুক ভাই তমুক ভাইয়ের রাজনীতির স্বীকার। কিন্তু কেন? 

যেখানে তার বইয়ের পেছনে দৌড়ানোর কথা সেখানে দৌড়ায় অমুক ভাই, তমুক ভাই বলে।

সম্প্রীতি বুঝতে শিখুন, মিলন মেলা আর গান বাজনা করে সম্প্রীতি করা লাগবে না।এমনিতেই সম্প্রীতি গড়ে উঠবে।

[প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রিয়.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে প্রিয়.কম-এর সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে।]

পাঠকের মন্তব্য(১)

মন্তব্য করতে করুন


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

No react

আরো পড়ুন
স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা এবং কিছু কথা
জীবেন রায় ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮
ভাগাভাগির সমীকরণ, হলফনামা ও উল্টো কথা
কাকন রেজা ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮
আত্মহত্যা এবং কিছু অপ্রিয় সত্য
ফুয়াদ খন্দকার ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮
বাংলা ভাষা ও বাংলা একাডেমি
ফজলে রাব্বি ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
আসনে সন্তুষ্ট নয় যুক্তফ্রন্ট: মিলন
আসনে সন্তুষ্ট নয় যুক্তফ্রন্ট: মিলন
বাংলা ট্রিবিউন - ২ দিন, ৩ ঘণ্টা আগে
হরিপুর সীমান্তে বসেছিল মিলন মেলা
হরিপুর সীমান্তে বসেছিল মিলন মেলা
বাংলা ট্রিবিউন - ২ দিন, ৯ ঘণ্টা আগে
বিএনপিতে মনোনয়ন পরবর্তী সম্প্রীতি-বিরোধ
বিএনপিতে মনোনয়ন পরবর্তী সম্প্রীতি-বিরোধ
বাংলা ট্রিবিউন - ১ week, ৩ দিন আগে