শনিবার তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত

স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি মনে করি, আইন ও বিচার বিভাগের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।’

জানিবুল হক হিরা
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:১২ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:১৩


শনিবার তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত

(বাসস) দেশে একটি স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন

১ সেপ্টেম্বর, শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়ামে ‘খান বাহাদুর আহছানউল্লা স্বর্ণপদক ২০১৭’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন।

সে সময় বিশিষ্ট সমাজসেবক ও স্বনামধন্য আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে স্বর্ণপদক-২০১৭ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি মনে করি, আইন ও বিচার বিভাগের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।’

মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘ব্যারিস্টার রফিক-উল হকসহ এ দেশের জ্ঞানতাপস ও আইনজ্ঞের কাছে নিবেদন করব তারা যেন আমাদের প্রতিবেশী দেশের আদলে অন্তত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। যা আইন শিক্ষার গুণগত মান ও গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। তাদের এ কর্মের জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, যারা আইনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করবে- তাদের কাছে তারা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে স্বর্ণপদক-২০১৭ প্রদান করছেন। ছবি: সংগৃহীত

সে সময় রফিক-উল হকের প্রশংসা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষা, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার ভৃমিকা অপরিসীম৷ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এমিকাস কিউরি হিসেবে আদালতকে তিনি মতামত দিয়েছেন৷ তার প্রদত্ত মতামত বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় প্রতিফলিত হয়েছে৷’ জাতীয় বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে ব্যারিষ্টার রফিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি।

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ব্যারিষ্টার রফিক-উল-হক তার জীবনে উপার্জিত অর্থের অধিকাংশ ব্যয় করেছেন সমাজ সেবায়। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন বেশ কয়েকটি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, এতিমখানা ও মসজিদ৷ ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে স্বর্ণপদক দেওয়ায় আহছানিয়া মিশনকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

স্বর্ণপদক প্রদান করায় ব্যারিস্টার রফিক-উল হক সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আরও বক্তৃতা করেন সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যন ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ

সে সময় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পাঠ করেন আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী শরিফুল আলম ৷ সম্মাননাপত্র পাঠ করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক ড. এস এম খলিলুর রহমান ৷ স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের নির্বাহী পরিচালক ড. এম. এহ্ছানুর রহমান ৷

অনুষ্ঠানে রফিক-উল হককে ক্রেস্ট এবং দুই লাখ টাকার চেক ও বই প্রদান করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলম। আয়োজকেরা জানান, ১৯৮৬ সাল থেকে খান বাহাদুর আহ্ছান উল্লাহ স্বর্ণপদক দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২৬ জনকে ওই পদক দেওয়া হয়। কর্মময় জীবনে দেশের আইন অঙ্গনে ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে মূল্যবান অবদানের জন্য ২০১৭ সালের স্বর্ণপদক প্রদান করা হয় রফিক-উল হককে।

প্রিয় সংবাদ/হিরা/শান্ত 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু ১৮ নভেম্বর
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ১৬ নভেম্বর ২০১৮
সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির গ্রেফতার
প্রিয় ডেস্ক ১৬ নভেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট