দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

অঢেল সম্পত্তি অর্জন, এসপি মীজানের বিরুদ্ধে মামলা

এর আগে ২০১২ সাল থেকে মীজানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান হলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার পরও মীজানকে দায়মুক্তি দিয়েছিল দুদক।

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৩০ আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৫৪
প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৩০ আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৫৪


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশ সুপার (এসপি) মীজানুর রহমান ও তার স্ত্রীর নামে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

৪ সেপ্টেম্বর, বুধবার রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা দুটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ।

এ ছাড়া মীজানুর রহমানকে ঢাকার রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) কমান্ড্যান্ট হিসেবে বদলি করা হয়েছে। যা এখনো আদেশাধীন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এসপি মীজানুর রহমান ও তার স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক দুটি মামলা করেছে। বিষয়টি এখন তদন্ত করা হবে।’

এর আগে ২০১২ সাল থেকে মীজানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান হলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার পরও মীজানকে দায়মুক্তি দিয়েছিল দুদক। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার ব্যাপারে অঢেল সম্পত্তি অর্জনের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর আবারও তদন্তে নামে দুদক। পরে তার অঢেল সম্পদ অর্জনের খোঁজ পায় দুদক এবং সম্প্রতি সেই রহস্য উদঘাটনও করেছে সংস্থাটি। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণও পেয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মীজান ও তার স্ত্রী সালমা আক্তার ওরফে নীপা মীজানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংস্থাটি।

মীজানুর রহমান ১৯৮৯ সালে সার্জেন্ট (এসআই) হিসেবে তৃতীয় শ্রেণির পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। পরে ১৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে পুলিশে যোগ দিয়ে বর্তমানে পুলিশ সুপার পদমর্যাদায় কর্মরত রয়েছেন।

দুদকের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত মামলার এজাহারে বলা হয়, মীজান পুলিশে যােগদানের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নিজ নামে ও স্ত্রী নামে অনেক সম্পত্তি অর্জন করেছেন। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হস্তান্তর আবার কখনো রূপান্তর করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। একজন সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হয়ে সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়াই স্ত্রী, মেয়ে ও বাবার নামে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে রেজিস্ট্রিভুক্ত কেরানীগঞ্জে একটি সার কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের সব ব্যাংক হিসাব আসামি মীজানুর রহমান পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠানের তদারকির দায়িত্ব নিজে পালন করেন। এ ছাড়া নামে-বেনামে মেঘনা ফার্টিলাইজার, মেসার্স খোয়াজ ফার্টিলাইজার কোম্পানি ও ফার্ম নেস্ট অ্যান্ড মিল্ক প্রডাক্টস নামে আরও তিনটি কারখানার মালিক।

আরও বলা হয়, মীজান পুলিশে যােগদানের পর থেকে এসপি হওয়ার পর পর্যন্ত এই সময়ে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১৮ শতাংশ জমিতে ২ তলা বাড়ি ও ১ হাজার ২৯৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ কৃষিজমি, ঢাকার তেজকুনিপাড়ায় ১ হাজার ৭১৮ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ও ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট ফ্ল্যাটের অর্ধেক অংশ, জুরাইনে একটি দোকান, ঢাকায় ১৫ শতাংশ জমি, রাজউকের উত্তরা তৃতীয় ফেজে ৩ কাঠা জমির মালিক হয়েছেন। এ ছাড়া দুইটি মাইক্রোবাস, আসবাব, ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর), ইলেকট্রনিকস, মেয়ের নামে শেয়ার, হাতে ও নগদে প্রায় ২ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন।

মীজানুর রহমানের স্ত্রী নীপা মীজানের নামেও রয়েছে অঢেল সম্পদ। তার উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার মিরপুর মাজার রোডে ৫ কাঠা জমির ওপর তিন তলা ভবন, ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১০ শতাংশ জমিতে ২ তলা বাড়ি, ঢাকা ও কেরানীগঞ্জে ৬৬ শতাংশ জমি, মিরপুর মাজার রোডে ২ কাঠা জমিতে দোকান, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৫৩৮ শতাংশ জমি, তেজকুনিপাড়ায় ১৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। এ ছাড়া ব্যবসায়িক মূলধন, হাতে নগদ অর্থসহ অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বিপুল পরিমাণ।

দুদক ২০১৬ সাল থেকে আবারও তার ব্যাপারে অনুসন্ধান শুরু করে। দুদকের অনুসন্ধানে মীজানের সাভারে নিজের বাড়ি নির্মাণের সময় পুলিশের ৬০ জন সদস্যকে রাজমিস্ত্রির সহকারী বা জোগালির কাজ করানোর অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়াও সাভারের হেমায়েতপুরের আলীপুর ব্রিজ-সংলগ্ন ৮৪ শতাংশ জমির ওপর বাড়ি তৈরি ও ঢাকার মিরপুরের মাজার রোডের আলমাস টাওয়ারের পাশে আরও একটি বাড়ি নির্মাণে জোগালি ও শ্রমিক হিসেবে সাব-ইন্সপেক্টরসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার ৫০ থেকে ৬০ জন পুলিশ সদস্যকে দিয়ে কাজ করানো জন্য মীজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল।

সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে খাটানো এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মীজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামেন দুদকের উপপরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম। এর মধ্যে মীজানের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

পরে মিজানের বিরুদ্ধে নকল সার কারখানা পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। অনুসন্ধানের ক্ষেত্র আরও বেড়ে যায়। এটিও যুক্ত হয় অভিযোগের নথিতে। এর মধ্যে নতুন করে অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে দুদক কর্মকর্তা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মীজান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করলেন।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...