বিএনপির সংবাদ সম্মেলন। ছবি: প্রিয়.কম

‘খা‌লেদা জিয়াকে বিনা বিচা‌রে কারাগা‌রে আট‌কে রাখা র‌য়ে‌ছে’

রিজভী বলেন, ‘সরকার আইনকানুনের কোন ধার ধারছে না।’

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৪০ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৪০
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৪০ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৪০


বিএনপির সংবাদ সম্মেলন। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) বিএনপি চেয়ারপারসন খা‌লেদা জিয়াকে বিনা বিচারে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ

৬ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার বেলা পৌ‌নে ১২টার দি‌কে নয়াপল্ট‌নে দ‌লের কেন্দ্রীয় কার্যাল‌য়ে আ‌য়ো‌জিত সংবাদ স‌ম্মেল‌নে তি‌নি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী ব‌‌লেন, ‘যে মামলায় বেগম জিয়াকে কারাগারে নেওয়া হয়েছিল, সেই মামলায় তিনি জামিনে আছেন। অর্থাৎ বেগম জিয়াকে বর্তমানে বিনা বিচারে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে রেখে নির্যাতন করছেন সরকার প্রধান।

ফ‌লে সামগ্রিকভাবে আইন ও বিচারিক কার্যক্রমেই দেখা যায় বেগম জিয়ার ওপর জুলুমের প্রকাশ। সরকার প্রধানের অদম্য প্রতিহিংসার দ্রুত চরিতার্থ করার জন্য আদালত স্থানান্তরের এই অসাংবিধানিক ন্যাক্কারজনক কাজটি করা হয়েছে। সরকার আইনকানুনের কোন ধার ধারছে না।’

জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আদালতকে বন্দি করা হয়েছে কারাগারে। যেমন দেশের বিপুল জনসমর্থিত নেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখে গণতন্ত্রকেই বন্দী করে রাখা। সরকারের উদ্দেশ্য দুটি, একের পর এক মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে সাজার স্তুপবৃদ্ধি করা। আরেকটি উদ্দেশ্য দিনের পর দিন আটকে রেখে শারীরিক অসুস্থতার আরও অবনতি ঘটিয়ে বেগম জিয়াকে বিপর্যস্ত করা।

দেশনেত্রী অসুস্থ্য থাকলেও জোর করে হলেও আদালতে নিয়ে আসতে হবে-এই ধরনের এক আক্রশের মনোবৃত্তি ফুটে ওঠে আইনি কার্যক্রমে। গতকালও বেগম জিয়াকে জোর করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। খা‌লেদা জিয়ার ওপর সরকারের এই বেআইনি অসদাচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি।’

সরকার বি‌রোধীদল দম‌নে নতুন ক‌রে গ্রেফতার অ‌ভিযান শুরু ক‌রে‌ছে অ‌ভি‌যোগ ক‌রে বিএন‌পির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাস‌চিব ব‌লেন, ‘ঈদুল আজহার কয়েকদিন আগে থেকে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে সারা দেশে বিএন‌পির ১৫ শতাধিক নেতাকর্মী‌কে গ্রেফতার এবং মামলা দা‌য়ের করা হ‌য়ে‌ছে ১২ শতাধিক, নাম উল্লেখ করে আসামী সংখ্যা ১১ হাজার এবং অজ্ঞাতনামা আসামি সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার।

একতরফা ভোটারশূন্য নির্বাচন করার জন্য শেখ হাসিনা সারা দেশে বিরোধী দল শূন্য করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। যার ধারাবা‌হিকতায় ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি ছাড়া, পরিবার ছাড়া পলাতক জীবন বেছে নিতে হয়েছে। প্রতিদিন রাতেই পোশাকধারী ও সাদা পোশাকধারীরা নেতাকর্মীদের বাসা ও বাড়িতে হানা দিচ্ছে।’

রিজভী আরও বলেন, ‘সরকার এখনো আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সমাধানহীন পরিস্থি‌তি তৈরি করেছে। হুমকিবাজ আওয়ামী মন্ত্রীরা আবারও একতরফা নির্বাচন করার জন্য দেশব্যাপী জাল ফেলেছে। বিগত কয়েক বছরে আওয়ামী চেতনায় জারিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গড়ে তোলা হয়েছে। শেখ হাসিনা আসন্ন নির্বাচন ‘ম্যানেজ’ করার জন্য সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিষ্ঠার সাথে কাজে লাগাচ্ছেন। শেখ হাসিনার অধীনে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেই নির্বাচনগুলো ‘‘জালিয়াতি নির্বাচন’’ হিসেবেই বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে।

শেখ হাসিনা অবাধ ও সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চান না, কারণ এই ধরনের নির্বাচন হলে শেখ হাসিনার লজ্জাজনক পরাজয় হবে। তাই সরকারের বাহিনীগুলো বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর জান্তব হিংস্রতায় ঝাপিয়ে পড়ছে। তাই দৃঢ় ক‌ণ্ঠে বল‌তে চাই, দমন-পীড়নের এতো তীব্র মাত্রার পরও জাতীয়তাবাদী শক্তির ক্ষয় হয়নি। জনগণের নীরব ক্ষোভ প্রতিদিন বেড়েই চলছে। সরকার বিরোধী দলের ওপর যত জুলুম করছে ততই সরকারের পতন ঘনিয়ে আসছে। অশান্তির আগুনে ভেতরে-ভেতরে মানুষ দগ্ধ হচ্ছে। জনগনের সাথে প্রতারণার মাশুল সরকারকে দিতেই হবে।’

প্রিয় সংবাদ/শিরিন/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...