সাফের সর্বশেষ চার আসরের গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি বাংলাদেশ। ছবি: প্রিয়.কম

চতুর্থবারের মতো গ্রুপ পর্ব থেকে বাংলাদেশের বিদায়

২০০৯ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শেষবারের মতো সেমিফাইনাল খেলেছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:১৫ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৫৩
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:১৫ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৫৩


সাফের সর্বশেষ চার আসরের গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি বাংলাদেশ। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) টানা দুই জয়ে ভালো কিছুর ইঙ্গিতই দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেটা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেননি জেমি ডের শিষ্যরা। তৃতীয় ম্যাচেই থামল বাংলাদেশের জয়রথ। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে নেপাল।

এই হারে সাফের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশকে। এ নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ।

২০০৯ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শেষবারের মতো সেমিফাইনাল খেলেছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। অন্যদিকে স্বাগতিকদের হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল হিমালয়-কন্যা নেপাল। অথচ ম্যাচটি জিতলে বা ড্র করলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠতে পারত স্বাগতিক বাংলাদেশ।

সেমিফাইনাল নিশ্চিতের ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে এদিন অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকে আধিপত্য বিস্তার করেও খেলতে থাকেন মামুনুল ইসলাম-তপু বর্মনরা। আর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের চেনা মাঠে আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও অনাকাঙ্ক্ষিত এক গোলে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিট পর্যন্ত বলের ৭০ শতাংশ দখল ছিল বাংলাদেশের পায়ে। কিন্তু ৩৩ মিনিটে নেপালের এক ফুটবলারকে ফাউল করেন ওয়ালি ফয়সাল। ফ্রি কিক দেন রেফারি। নেপালের হয়ে ফ্রি কিক নেন ১০ নম্বর জার্সিধারী বিমল ঘারতি মাগার। তার নেওয়া কিকটি গোলরক্ষক শহিদুল আলমের গ্লাভস ফসকে বাংলাদেশের জালে জড়ায়। আর এই একটি ভুলই জামাল ভূঁইয়াদের ছিটকে দেয় ম্যাচ থেকে।

গোল শোধে মরিয়া বাংলাদেশ বারবার চড়াও হয়েছে নেপাল রক্ষণভাগে। কিন্তু নিজেদের রক্ষণদুর্গে কোনো ধরনের ফাটল ধরতে দেয়নি নেপালিরা। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মাঠের বাইরে থেকে দর্শকরাও সমানতালে জুগিয়ে গেছেন সমর্থন। কিন্তু সেই সমর্থনের প্রতিদান দিতে পারেননি তপু-বিশ্বনাথরা। উল্টো শেষ মুহূর্তে হজম করতে হয় আরও একটি গোল। ৯০ মিনিটে ডান পায়ের জোরালো এক শটে নেপালের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন নয়ুগ শ্রেষ্ঠা।

২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বশেষে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে প্রায় দেড় দশক। কিন্তু ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হয়নি লাল-সবুজের জার্সিধারীদের। দেড় দশকের ট্রফিশূন্যতাই নয়, সর্বশেষ চার আসরের গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি বাংলাদেশ।

চার আসর মিলিয়ে ১২টি ম্যাচ খেলে মাত্র তিনটিতে জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। এর মধ্যে এবারের আসরেই জিতেছে দুটি ম্যাচ। ১২ ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে বাংলাদেশের সঙ্গী হয় পরাজয়। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

স্বাগতিক দেশ হলেও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসরে সতর্ক শুরুর ঘোষণাই দিয়েছিল বাংলাদেশ। কারণটা হয়তো সর্বশেষ তিন আসরে বাংলাদেশ দলের পাফরম্যান্স। কিন্তু নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১২তম সাফে দুর্দান্ত সূচনা পায় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু ভুটানের বিপক্ষে পাকিস্তানের ৩-০ গোলের জয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পথ খানিকটা কঠিন হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই কঠিন পথটাও নিশ্চিহ্ন হলো নেপালের বিপক্ষে ২-০ গোলের হারে।

প্রিয় খেলা/আজহার