ফাইল ছবি

সিইসি জানতেন না, সচিব জানাবেন না!

উত্তরে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভেটিংয়ে অনুমোদন হলে এটা মন্ত্রিসভা ও পার্লামেন্টে পাস হবে। তখন তো সবাই জানতে পারবেন। এটা কোনো গোপনীয় বিষয় নয়। সবকিছু আগেভাগে জানাতে হবে এমন তো কোনো অভিধানে নাই।’

প্রদীপ দাস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:০৯ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:০৯
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:০৯ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:০৯


ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব ৩০ আগস্ট অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের ৩৫তম সভায় সংশোধনের অনুমোদন দিলেও তাতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংযোজন ছাড়া আর কোন কোন ধারা সংযোজন, সংশোধন বা বাদ পড়ছে তা পরিষ্কার করছে না নির্বাচন কমিশন।

১০ অক্টোবর, সোমবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ

ইভিএম সংযোজন ছাড়া আরপিওতে আর কোন কোন ধারা সংযোজন, সংশোধন বা বাদ পড়ছে সেসব পরিষ্কার করা হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে সচিব জানান, তিনি তা পরিষ্কার করতে বাধ্য নন।

অন্যদিকে কমিশন সভায় আরপিও সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদন শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছিলেন, ইভিএম ছাড়া আরপিওতে আর কোন সংযোজন, সংশোধন বা বাদ পড়ছে তা তিনি জানেন না!

কমিশন সূত্রে জানা যায়, ৩০ আগস্ট ইসির ৩৫তম সভায় আরপিও সংশোধন প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় কমিশন। এরপর ৩১ আগস্ট, ১ ও ২ সেপ্টেম্বর চেষ্টা করেও আরপিওতে আর কী কী সংশোধনী আনা হচ্ছে তা জানা সম্ভব হয়নি। পরে ৩ সেপ্টেম্বর আরপিও সংশোধন প্রস্তাবের কপি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য যায়। সেখান থেকেও সংশোধনীর প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

ইভিএম সংযোজন ছাড়া আরপিওতে আর কী ধরনের সংশোধনী আসছে, তা সাংবাদিকরা জানতে না পারায় দেশের মানুষও আরপিও সংশোধনীর বিষয়ে অন্ধকারে রয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আমরা এবারই প্রথম দেখলাম, আরপিও সংশোধনীর আগে এর কপি গণমাধ্যম পায়নি। এত বড় একটা আইন সংশোধন করা হলো, কিন্তু জনগণ জানতে পারল না। এত গোপনীয়তা কেন?’

উত্তরে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভেটিংয়ে অনুমোদন হলে এটা মন্ত্রিসভা ও পার্লামেন্টে পাস হবে। তখন তো সবাই জানতে পারবেন। এটা কোনো গোপনীয় বিষয় নয়। সবকিছু আগেভাগে জানাতে হবে এমন তো কোনো অভিধানে নাই।’

‘বিগত সময়ে দেখা গেছে, কমিশনের পক্ষ থেকে সংশোধনের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তার বাইরে সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছিল’ জানিয়ে সংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘যখন ভেটিং হয়ে আসবে, তখন সব জানতে পারবেন।’

‘মনে নেই’, বলেছিলেন সিইসি

আরপিও সংশোধনীর প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক আরপিওতে আর কী কী সংশোধন আসছে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছিলেন, ‘উল্লেখ করার মতো আর কোনো সংশোধনী নেই।’

‘তাহলে আরপিওতে কি সংশোধনী একটাই?’—এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল হুদা বলেছিলেন, ‘আরও কিছু সংশোধনী আসছে। যেমন…(স্মরণ করতে পারছিলেন না)।’

সংশোধনের সংখ্যা কত জানতে চাইলে নুরুল হুদা বলেন, ‘তা মনে নেই। বেশি হবে না।’

কমিটি কয়টা সংশোধনীর প্রস্তাব করেছিল আর কয়টা গ্রহণ করেছে জানতে চাইলে নুরুল হুদা বলেন, ‘সংশোধনীর প্রস্তাব এনেছিল ১৫টার মতো, তবে সবগুলো আমরা নেইনি।’

প্রিয় সংবাদ/হাসান/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...