শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি: ফোকাস বাংলা

ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ১১ এপ্রিল ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করে। যার আওতায় ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদে এবং ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ মে পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে।

হাসান আদিল
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৫৭ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৫৭


শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি: ফোকাস বাংলা

(প্রিয়.কম) জাতীয় গ্রিডে ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। এটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতারই অংশ।

১০ সেপ্টেম্বর, সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এ ভিডিও কনফারেন্সে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব যথাক্রমে কলকাতা ও আগরতলা থেকে অংশ নেন।

আমদানি করা বিদ্যুৎ পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর গ্রিড থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আন্তঃবিদ্যুৎ সংযোগ গ্রিডে যুক্ত হবে। একই অনুষ্ঠানে ভেড়ামারায় নবনির্মিত ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার হাই ভোল্টেজ ডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশনের দ্বিতীয় পর্যায়ও উদ্বোধন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেললাইন প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের নির্মাণ কাজ ও মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল সংযোগ পুনর্বাসন প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানায়, উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা সোমবার বিকালে হলেও রবিববার মধ্যরাত থেকেই বিদ্যুতের পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু হয়েছে।

জাতীয় গ্রিডে নতুন আসা ৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট সরবরাহ করবে ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট (এনটিপিসি)। এ জন্য ইতোমধ্যে এনটিপিসির সঙ্গে পিডিবির চুক্তি সই হয়েছে। বাকি ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে দেশটির বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ আমদানি-রফতানির জন্য নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশনের (পিটিসি) মাধ্যমে। পিটিসির সঙ্গে এখনও চুক্তি সই হয়নি। তাই এই বিদ্যুৎ আসতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।

এনটিপিসি থেকে কেনা বিদ্যুতের মূল্য হবে স্বল্পমেয়াদে প্রতি ইউনিট চার টাকা ৭১ পয়সা। আর দীর্ঘমেয়াদে ছয় টাকা ৪৮ পয়সা। পিটিসির সরবরাহ করা বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দর স্বল্পমেয়াদে চার টাকা ৮৬ পয়সা। আর দীর্ঘমেয়াদে ছয় টাকা ৫৪ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে ২০৪১ সালের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ৯০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার পরিকল্পনা করেছে সরকার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশের আরও শক্তি প্রয়োজন। সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করার পরিকল্পনা করছে।’

এক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর কাছে একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। কারণ বছরের পর বছর ধরে দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং ভালোবাসা অটুট রয়েছে।’

বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনগণের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে দুই দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। উভয়পক্ষই ব্লু ইকোনমি ও সামুদ্রিক সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ গবেষণা এবং অন্যান্য নতুন নতুন ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে।’

বিদ্যুৎ খাতকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশ ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে। আরও তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গত সাড়ে ৯ বছরে ৩,২০০ মেগাওয়াট থেকে ২০০০০ মেগাওয়াটের বেশি বেড়েছে। সরকার আরও ১৩,৬৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৫৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে।’

রেল খাতে সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ খাতে উভয় দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্গো পরিবহনের জন্য প্রাক-১৯৬৫ রেল সংযোগ পুনরায় চালু করার কাজ করছে দুই দেশ।

শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, ‘উভয় দেশ শিগগিরই যৌথভাবে ঢাকা ও টঙ্গীর মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ দ্বৈত গেজ রেল ট্র্যাক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবে। ভারতের অর্থায়নে লাইন অফ ক্রেডিটের মাধ্যমে পরিচালিত টঙ্গী ও জয়দেবপুরের মধ্যে দ্বৈত গেজ ট্র্যাকের পরিমাণ দ্বিগুণ করবে।’

আগামীতে উভয় দেশ আরো যৌথ উদ্যোগের অনুষ্ঠানে যোগ দেবে বলে আশা করেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশকে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধনকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সুবর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সেই সঙ্গে আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন সহযোগিতার একটি নিদর্শন বলেন মোদি।

নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৬৫-এর বেশি রেলপথ পুনর্বহালে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রশংসা করেন।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে তার দেশ একটি গর্বিত অংশীদার হতে চায়।’

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ১১ এপ্রিল ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করে। যার আওতায় ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদে এবং ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ মে পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে।

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয় ২০১৩ সালে। ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা দিয়ে আমদানি করা হয়। আর ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা হয়ে ১৬০ মেগাওয়াট আমদানি হচ্ছে।

প্রিয় সংবাদ/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
আহেদ তামিমিকে ইরানে যেতে বাধা ইসরায়েলের
প্রিয় ডেস্ক ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
রাঙ্গামাটিতে আগুনে পুড়েছে ২২ দোকান
শেখ নোমান ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
জনসভায় জানানো হবে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা: ফখরুল
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বগুড়ায় ব্রিজের রেলিং ভেঙে ট্রাক খাদে, নিহত ২
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
কুষ্টিয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড
কাঞ্চন কুমার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
'শেখ হাসিনা একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক'
'শেখ হাসিনা একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক'
https://www.banglanews24.com/ - ১ দিন, ১৫ ঘণ্টা আগে
ট্রেন্ডিং