বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

অনুপস্থিতিতেই বিচার কি না, সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার

এ মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে একটি জামিন আবেদন করেছেন তার আইনজীবী।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৩৬ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:১৪


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চলবে কি না, সে বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদেশ দেওয়া হবে।

১২ সেপ্টেম্বর, বুধবার এ আদেশ দেন কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এবং অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান। অপরদিকে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মোশাররফ হোসেন কাজল

এদিকে এ মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে একটি জামিন আবেদন করেছেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। সেই আবেদনের ওপর আগামীকাল আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার আদালত পরিবর্তন করে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে

গত ৫ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াকে নতুন আদালতে হাজির করা হয়। কিন্তু সেদিন কোনো আইনজীবী খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে শুনানি করেননি।

রায়ের পর আদালত থেকে বের আসছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।
রায়ের পর আদালত থেকে বের হয়ে আসছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। ছবি: প্রিয়.কম

ওই দিন বিচারক মামলার কার্যক্রম শুরু করলে তার উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি খুবই অসুস্থ। আমি আর আদালতে আসতে পারব না। আপনারা যা চান যত দিন চান, সাজা দিতে পারেন। ন্যায় বিচার এখানে পাইনি, পাব না।’

দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এজলাসে আসেন বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এ সময় আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি শুরু করেন আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। তিনি বলেন, ‘মাননীয় আদালত এ মামলার বিচারের জন্য নতুন আদালত গঠন করে সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, সেটি সংবিধান পরিপন্থী। আমাদের হাতে গেজেটের একটি কপি এসেছে। এই আদালত গঠন নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদকসহ আমাদের সিনিয়র আইনজীবীরা।’

‘আমরা বলতে চাচ্ছি এ মামলা শুনানির জন্য কেন্দ্রীয় কারাগারে নতুন করে আদালত বসানো সংবিধান পরিপন্থী ও বেআইনি হয়েছে। আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করেনি সরকার। এদিকে আজকে খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আদালতের কাছে জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন।’ 

আদালতে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘আমরা লইয়াররা দেখা করেছি। খালেদা জিয়া অসুস্থ। তার পায়ে সমস্যা। পায়ে ব্যথা করে। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর আদালত বসেছিল। এখানে আমাদের কোনো আইনজীবী আসেন নাই। ঢাকা বারের সভাপতি আদালতে এসেছিলেন আইনজীবী সমিতির নেতা হিসেবে। খালেদা জিয়ার লইয়ার হিসাবে না। আদালত পরিবর্তনের বিষয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আমাদের সিনিয়র  লইয়াররা দেখা করার পর আমরা আশ্বাস পেয়েছি।’

‘প্রধান বিচারপতি আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন আদালত পরিবর্তনের বিষয়ে। আমাদের দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তার চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হবে। এখানে এই পরিবেশে আদালত বসানো যায় না। এই কথাগুলো আমি বলতে এসেছি। পাশাপাশি আমি খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেন বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। সেদিন থেকে পুরান ঢাকার কেন্ত্রীয় কারাগারে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়।

মামলাটিতে খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করেন।

প্রিয় সংবাদ/শিরিন/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
আদালতে তোলা হচ্ছে রফিকুল ইসলাম মিয়াকে
আমিনুল ইসলাম মল্লিক ২১ নভেম্বর ২০১৮
শোডাউনকারীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না: মির্জা ফখরুল
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ২১ নভেম্বর ২০১৮
তিন জেলায় গুলিতে নিহত ৪
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ২১ নভেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
কেমন আছেন খালেদা জিয়া?
কেমন আছেন খালেদা জিয়া?
জাগো নিউজ ২৪ - ১ মাস আগে
ট্রেন্ডিং