পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার। ছবি: প্রিয়.কম

স্যাঁতসেঁতে গুহার মধ্যে আদালত বসতে পারে না: আসামি পক্ষের আইনজীবী

‘এই জায়গায় আইনজীবীদের বসার জায়গা নেই। সিনিয়র সাংবাদিক, পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাসহ অনেকেই বসতে পারছেন না।’

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৪৮ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৮


পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) স্যাঁতসেঁতে গুহার মতো নোংরা পরিবেশে আদালত বসতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম।

১২ সেপ্টেম্বর, বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় কারাগারে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানির একপর্যায়ে বিচারককে উদ্দেশ্য করে এ মন্তব্য করেন এই আইনজীবী।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এটি সংবিধান ও ফৌজদারি কার্যবিধির পরিপন্থী। এ রকম আদালতে বিচার চলতে পারে না।’

আমিনুল ইসলাম এ মামলার আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী।

এই আইনজীবী বলেন, ‘এ রকম একটি গুহার মতো স্যাঁতসেঁতে এবং ছোট্ট একটি জায়গায় বিচার হতে পারে না। কারণ ফৌজদারি কার্যবিধি ও সংবিধানে বলা আছে—আদালত বসবে উন্মুক্ত জায়গায়। যেখানে আসামি তার আত্মীয়-স্বজন এবং সাধারণ জনগণও উপস্থিত থেকে বিচার কার্যক্রম দেখতে পারবেন।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ মামলার একজন আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি একটি বড় দলের নেত্রী। তার আত্মীয়স্বজন, পরিচিতজন এবং তার দলের নেতাকর্মীরা এই ছোট জায়গায় প্রবেশ করতে পারছেন না। এমনকি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আদালতের মূল গেইটে তল্লাশি করছেন।’

এই আইনজীবী বলেন, ‘এই জায়গায় আইনজীবীদের বসার জায়গা নেই। সিনিয়র সাংবাদিক, পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাসহ অনেকেই বসতে পারছেন না। মাননীয় আদালতের বিচারক সবার সামনে দিয়েই এজলাসে প্রবেশ করলেন। এ রকম হতে পারে না, নজির নেই।’

অাদালতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে জানিয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘আদালতে প্রবেশের সময় আমার গাড়ি আটকে রাখা হয়েছে অনেকক্ষণ। গাড়ির ভেতরে মামলার প্রয়োজনীয় নথিসহ অনেক বড় বড় ফাইল ছিল। যেগুলো আদালতের ভেতরে প্রবেশ করাতে আমার অনেক কষ্ট হয়েছে, কারণ আমার সহকারী নেই। এ রকম পরিস্থিতিতে আদালত বসতে পারে না, চলতে পারে না।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেন বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। সেদিন থেকে পুরান ঢাকার কেন্ত্রীয় কারাগারে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়।

মামলাটিতে খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করেন।

প্রিয় সংবাদ/হাসান/শান্ত 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
শহিদুলের ডিভিশন বিষয়ে আপিলের শুনানি ১ অক্টোবর
আমিনুল ইসলাম মল্লিক ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিএনপিকে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে মওদুদের নির্দেশ
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় রিটের শুনানি ১ অক্টোবর
আমিনুল ইসলাম মল্লিক ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোহরাওয়ার্দী‌তে জনসভার নতুন তারিখ ঘোষণা বিএনপির
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সিলেট জেলা বিএনপি সম্পাদক কারাগারে
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
চালু হচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম বিরতিহীন ফ্লাইট
প্রিয় ডেস্ক ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
‘কারাগার থেকে খবর পাঠিয়েছেন খালেদা জিয়া’
‘কারাগার থেকে খবর পাঠিয়েছেন খালেদা জিয়া’
যুগান্তর - ২ দিন, ১৬ ঘণ্টা আগে
খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ : রিজভী
খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ : রিজভী
নয়া দিগন্ত - ৩ দিন, ১ ঘণ্টা আগে
ট্রেন্ডিং