সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার হচ্ছে। ছবি: প্রিয়.কম

‘আপনারা একই ক্যাসেট বারবার কেন বাজাচ্ছেন?’

‘আজকে এসেছেন জামিন চাইতে। আবার বলছেন সংবিধান অনুযায়ী আদালত গঠন করা হয়নি।’

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:২০ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:২০


সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার হচ্ছে। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) কারাগারে আদালত বসানোর বিরোধিতা করার পরও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা কেন জামিন চাইছেন, সে প্রশ্ন তুলেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। 

১২ সেপ্টেম্বর, বুধবার দুপুরে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানির সময় কাজল এই প্রশ্ন তোলেন।

কাজল এ মামলার আসামি খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালতে হাজির হয়ে সহযোগিতা করুন। আপনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। আইন-আদালতকে সহযোগিতা করুন। আদালতে না আসলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। বিচার কারো জন্য বসে থাকবে না। গত তারিখে আদালতে আসার জন্য আমি উনাদের (খালেদা জিয়ার আইনজীবী) বলেছিলাম। কিন্তু আসেন নাই। উনারা এখানে হাজির হতে চাননি। আসতে চেয়েছিলেন, কথা রাখেননি।’

‘এখন আদালতে এসে বলছেন, আদালত পরিবর্তন করে সংবিধানের লঙ্ঘন করা হয়েছে। আবার আপনারাই খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করছেন এই আদালতে। তাহলে আপনাদের কথার তো ঠিক নেই। আপনাদের কথা বুঝতে পারছি না। এ মামলার যুক্তি তুলে ধরার জন্য বিচারের জন্য আদালতে এসেছেন। এসে আবার আষাঢ়ের গল্প শোনাচ্ছেন।’

কাজলের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানতে প্রস্তুতি নেন সানাউল্লাহ মিয়া। তখন কাজল বলেন, ‘আপনারা বলার অনেক সুযোগ পাবেন। পরে বলেন। আমি বলে শেষ করে নেই।’

কাজল বলেন, ‘আপনারা বলছেন, আদালত সঠিক জায়গায় বসানো হয়নি। এখানে তো জলাশয় নয়, ময়লা পানি প্রবাহিত হয় না। বলতে পারেন, এটি আদালতের পরিবেশ নয়, ভালো জায়গা নয়। এখানে তো জলাশয়ের মধ্যে, ময়লা পানির মধ্যে, রাস্তার মধ্যে আদালত বসে নাই।’

‘হ্যাঁ আপনার বলতে পারেন, এখানে বসার জায়গা কম, পর্যাপ্ত জায়গা নেই। রুমটি ছোট, কিন্তু আপনারা সেগুলো না বলে বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী আদালত বসানো হয়নি। আপনারা একই ক্যাসেট বারবার কেন বাজাচ্ছেন? অধস্তন আদালতের শৃঙ্খলার বিষয়ে নিয়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ তুলে ধরে আদালতে বলেন, আমরা ব্যর্থ, আমরা অনেক কিছু করতে পারি না।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। সেদিন থেকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

বকশীবাজারের একই আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা বিচারকাজ চলছিল। কিন্তু এ মামলায় খালেদা জিয়া উপস্থিত হচ্ছিলেন না অসুস্থতার কারণে। এ জন্য গত ৪ সেপ্টেম্বর বকশীবাজার থেকে এই আদালতটি পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।

গত সেপ্টেম্বর এই আদালতে খালেদা জিয়া হাজির হয়েছিলেন। তিনি আদালতে এসে ন্যায়বিচার পাবেন না জানিয়ে বুধবার এখানে হাজির হননি।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়।

ওই মামলায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করেন।

প্রিয় সংবাদ/আজহার

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
আমলনামার ভিত্তিতেই নির্বাচনে মনোনয়ন: ওবায়দুল
জানিবুল হক হিরা ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
চাকরি স্থায়ী হচ্ছে কারিগরির ৩০০ শিক্ষকের
প্রিয় ডেস্ক ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
১০ দিন বয়সী নবজাতকের লাশ পুকুরে
মো. ইমাম জাফর ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনর্বিবেচনার দাবি টিআইবির
জানিবুল হক হিরা ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
‘কারাগার থেকে খবর পাঠিয়েছেন খালেদা জিয়া’
‘কারাগার থেকে খবর পাঠিয়েছেন খালেদা জিয়া’
যুগান্তর - ৩ দিন, ২২ ঘণ্টা আগে
খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ : রিজভী
খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ : রিজভী
নয়া দিগন্ত - ৪ দিন, ৬ ঘণ্টা আগে
ট্রেন্ডিং