সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ফাইল ছবি

টিআইবির প্রতিবেদনের প্রতিবাদ পুলিশের

টিআইবির প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

জনি রায়হান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৩২ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৩২
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৩২ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৩২


সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) দেশের সেবা খাতগুলোর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে অভিহিত করেছিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। জরিপের ওপর ভিত্তি করে সংস্থাটি এ প্রতিবেদন দিয়েছিল। এর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

১২ সেপ্টেম্বর, বুধবার বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মতিঝিল বিভাগ) মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

টিআইবির ‘সেবা খাতে দুর্নীতি : জাতীয় খানা জরিপ-২০১৭’ শীর্ষক জরিপে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার প্রশাসন, ভূমি সেবা, কৃষি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, বিচারিক সেবা, বিদ্যুৎ, ব্যাকিং, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), কর ও শুল্ক, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), পাসপোর্ট, বিমা, গ্যাস সেবা খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল।

টিআইবির জরিপ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সার্বিকভাবে ৬৬.৫ শতাংশ মানুষ সেবা খাতগুলোতে দুর্নীতির শিকার হন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭২.৫ শতাংশ দুর্নীতি হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায়, পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজে ৬৭.৩ শতাংশ এবং বিআরটিএতে ৬৫.৪ শতাংশ দুর্নীতি হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে অভিহিত করে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৩০ আগস্ট টিআইবির ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ, ২০১৭’  শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। এটি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টি আর্কষিত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত দুই লক্ষাধিক সদস্য বাংলাদেশের ১৬ কোটির অধিক জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা এবং জনশৃঙ্খলা নিশ্চিতকল্পে দিবা-রাত্রি নিরবছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। সমসাময়িক সময়ে যুদ্ধাপরাধীর বিচার, জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে সাফল্য, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত থেকে শুরু করে বিভিন্ন উৎসব, পার্বণ ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে বাংলাদেশ পুলিশ নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে, যা রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।’

‘পুলিশ বাহিনীর মতো রাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান তদন্তকারী সংস্থাকে মুষ্টিমেয় লোকের মতামতের ভিত্তিতে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।’

জরিপের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই জরিপে যারা মতামত দিয়েছেন, তাদের মধ্যে কতজন বা আদৌ কেউ প্রত্যক্ষভাবে উল্লিখিত সময়ে পুলিশি সেবা নিতে গিয়েছিলেন কি না, তাও স্পষ্ট নয়। ফলে এরূপ একটি প্রতিবেদন শুধু শ্রুতিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা কতটা যৌক্তিক বা সঠিক, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। গবেষণা প্রতিবেদনে টিআইবি ইমপিরিক্যাল স্টাডির (অভিজ্ঞতালব্ধ গবেষণা) ভিত্তিতে গবেষণা সম্পন্ন করেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করলেও প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে পূর্বধারণাবশত ভিত্তির ওপর পুলিশকে দুর্নীতিগ্রস্থ সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বিধায় বাংলাদেশ পুলিশ প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটি দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করছে।’

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ভাষ্য, ‘টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের সেবা খাতে দুর্নীতির জরিপের জন্য মাত্র ১৫৫৮১টি খানার (গবেষণা প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা-১৪) মতামত নেওয়া হয়েছে, যা মোট খানার মাত্র ০.০৪১৭ শতাংশ (গবেষণা প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা-২২)। আলোচ্য গবেষণায় পুলিশ সম্পর্কে বিবেচ্য ১৫৫৮১টি খানার ১১ শতাংশ অর্থাৎ, ১৭১৪টি খানাপ্রধানদের (গবেষণা প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা-২৮) মতামত নেওয়া হয়েছে, যা মোট খানার মাত্র ০.০০৪৫৯ শতাংশ।’

‘এ রকম কমসংখ্যক খানার ঔপনিবেশিক ধারাবাহিকতার ধারণাপ্রসূত মতামতের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও সেবামূলক সংস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্থ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের উন্নয়নের ধারা সমুন্নত রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রমে কাজ করা এই বাহিনীর সদস্যদের সম্পর্কে এই ধরণের অপরিপক্ক ও পূর্বধারণাপ্রসূত গবেষণার প্রকাশ বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে হতাশ করেছে।’

প্রিয় সংবাদ/হাসান/আজহার