২০০২ সাল থেকে প্রেসার গার্মেন্টস তৈরি করা শুরু করেন এসিডদগ্ধ নারীরা। ছবি: সংগৃহীত

দগ্ধদের জন্য প্রেসার গার্মেন্টস তৈরি করছেন এসিডদগ্ধ নারীরা

আকারভেদে এসব প্রেসার গার্মেন্টস ৮০০ টাকা থেকে চার হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৪৮
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৪৯


২০০২ সাল থেকে প্রেসার গার্মেন্টস তৈরি করা শুরু করেন এসিডদগ্ধ নারীরা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশে অসংখ্য নারী এসিড হামলার শিকার হয়েছেন। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন না সবাই। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদক এসিড আক্রান্ত কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন, যে নারীরা সুস্থ হয়ে পুড়ে যাওয়া রোগীদের জন্য বিভিন্ন হাসপাতালের জন্য প্রেসার গার্মেন্টস তৈরি করছেন।

২০০২ সাল থেকে প্রেসার গার্মেন্টস তৈরি করা শুরু করেন এসিডদগ্ধ নারীরা। বর্তমানে পাঁচজন এসিডদগ্ধ নারী বিভিন্ন হাসপাতালের রোগীদের জন্য প্রেসার গার্মেন্টস তৈরি করছেন। আকারভেদে এসব প্রেসার গার্মেন্টস ৮০০ টাকা থেকে চার হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

এমনই একজন হলেন শামীমা আক্তার। তিনি জানান, পোড়া শরীরে সার্জারির পর যে চামড়াটি লাগানো হয়, সে চামড়াটি যেন ফুলে না যায়, সে জন্য প্রেসার গার্মেন্টস ব্যবহার করা হয়। যদি ফুলেও যায়, পরে যেন চামড়া আবার মসৃণ হয়ে ওঠে। পুড়ে যাওয়া রোগীর সর্বশেষ চিকিৎসা এই প্রেসার গার্মেন্টস।

শামীমা বলেন, ‘একসময় আমিও এমন রোগী ছিলাম। এখন আমি কাজটা শিখে নিজে কাজটা করছি। অন্য রোগীরা আমার তৈরি করা জিনিসটি পড়ছে, তখন আমার ভালো লাগে।’

আয়েশা বেগম নামের আরেক এসিডদগ্ধ নারী জানান, তিনি যখন পুড়ে গিয়েছিলেন, তখন এটা (প্রেসার গার্মেন্টস) ছিল না। ঘা হলে বছরের পর বছর ভুগতে হতো। প্রেসার গার্মেন্টস থাকলে তার উপকার হতো। চামড়ার অনেক জায়গায় কুঁচকে আছে, সেটা থাকত না। তার ১৪টা অপারেশন করতে হয়েছে, সেটা করা লাগত না।

‘যেকোনো ঘটনা ঘটুক না কেন, সমাজে মেয়েদের দায়ী করা হয়। তাই যখন আমি ওদের (এসিডদগ্ধ) কথা শুনি, তখন আমার নিজের কথা মনে পড়ে। আমিও তো ওদের মতো ছিলাম। তাই যা হয়েছে, সেটা পেছনে ফেলে এখন সামনে আগাতে চাই’, বলেন আয়েশা বেগম।

প্রিয় সংবাদ/আজহার

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট