ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে ফিরিয়ে মাশরাফি-মিরাজদের উল্লাস। ছবি: এএফপি

ক্রিকেট রাঙানোর ম্যাচে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৭ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

শান্ত মাহমুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:৫৯ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:২১


ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে ফিরিয়ে মাশরাফি-মিরাজদের উল্লাস। ছবি: এএফপি

(প্রিয়.কম) এক হাতে ব্যান্ডেজ, আরেক হাতে ব্যাট। ক্রিকেট রাঙানোর জন্য এরচেয়ে ভালো দৃশ্য আর কী হতে পারে! ইনিংসের শুরুর দিকে চোট পাওয়া তামিম ইকবালের এশিয়া কাপ ততক্ষণে শেষ। কিন্তু শেষ হয়েও হয়নি শেষ। উইকেট না থাকায় রিটায়ার্ট হার্ট হয়ে সাজঘরে ফেরা তামিম আবার নেমেছেন মাঠে। কিন্তু এবার এক হাতের যোদ্ধা হয়ে, উদ্দেশ্য মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ দেওয়া। তার মাঠে নামা সফল করেছেন ওয়ান ম্যান আর্মির ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া মুশফিক।

তামিমকে এক পাশে রেখে আরও ৩২ রান যোগ করেছেন বাংলাদেশ শিবিরে প্রাণ ফেরানো ইনিংস খেলা মুশফিক। মুশফিকের ইনিংসটিও ক্রিকেটকে রাঙিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। এক হাতে ব্যাট নিয়ে তামিমের মাঠে ফেরা বা মুশফিকের একক লড়াই, কোনো কিছুই বিফলে যায়নি। এশিয়ার সবচেয়ে জমজমাট আসর এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৭ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়।

শনিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা দুঃস্বপ্নের হলেও শেষটা হয়েছে রঙিন। মোহাম্মদ মিথুনকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গুছিয়ে তোলা মুশফিক খেলেছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ঐতিহাসিক এক ইনিংস। তাতে বাংলাদেশ পেয়ে যায় ২৬১ রানের লড়াকু সংগ্রহ। এরপর বল হাতে মাশরাফি, মুস্তাফিজ, মিরাজদের শাসন। লড়াই-ই করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ৩৫.২ ওভারে মাত্র ১২৪ রানেই থেমে গেছে তাদের ইনিংস।

২৬২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশকে ভড়কে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন শ্রীলঙ্কার ওপেনার উপুল থারাঙ্গা। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার করা প্রথম ওভারেই তাণ্ডব চালান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। এক চার ও এক ছয়ে ১৩ রান তুলে নেন থারাঙ্গা। পরের ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানও সুবিধা করতে পারছিলেন না। প্রথম দুই বলে কোনো রান না দিলেও তৃতীয় ও চতুর্থ বলে তাকে হজম করতে হয় দুটি চার।

তবে এই শাসন বেশি সময় সহ্য করেননি বিশ্ব কাঁপিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা মুস্তাফিজ। নিজের করা প্রথম ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে কুশল মেন্ডিসকে ফিরিয়ে দেন বাঁহাতি এই পেসার। পরের ওভারে এসে মাশরাফির ছোবল। তার শিকার উপুল থারাঙ্গা। লঙ্কানদের চাপ কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দেননি মাশরাফি। নিজের তৃতীয় ওভারে বাংলাদেশ অধিনায়ক ফিরিয়ে দেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে।

এই চাপ আর কাটিয়ে ওঠা হয়নি শ্রীলঙ্কার। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ধুঁকতে থাকা শ্রীলঙ্কা এগিয়েছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। কেউ-ই পারেননি ব্যাট হাতে দলকে পথ দেখাতে। সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন দিলরুয়ান পেরেরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন উপুল থারাঙ্গা। সুরঙ্গ লাকমলের ব্যাট থেকে আসে ২০ রান। মাশরাফি, মুস্তাফিজ ও মিরাজ দুটি করে উইকেট নেন। সাকিব, ‍রুবেল ও মোসাদ্দেক পেয়েছেন একটি করে উইকেট।  

এরআগে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ শুরুতেই ঘোরের মধ্যে পড়ে যায়। এক বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামা লঙ্কান পেসার লাসিথ মালিঙ্গা মুহূর্তেই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ লণ্ডভণ্ড করে দেন। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন লিটন কুমার দাস ও সাকিব আল হাসানকে। এক রানেই নেই দুই উইকেট। নৌকা যখন মাঝদরিয়ায় দিকহারা, এমন সময় সবচেয়ে বড় আঘাতটি সহ্য করতে হয় বাংলাদেশকে। কবজিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তামিম ইকবালকে।

২ রানেই নেই তিন উইকেট। বাংলাদেশ শিবিরে তখন ঘোর অন্ধকার। এমন সময় যেন নতুন করে শুরু করেন আলোক বর্তিকা হাতে হাজির হওয়া মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিথুন। তবে শুরুর চাপ কাটিয়ে তুলতে ভালোই বেগ পোহাতে হয়েছে ইনিংসের চেহারা পাল্টে দেওয়া এই দুই ব্যাটসম্যানকে। ১০ ওভারে মাত্র ২৪ রান স্কোরকার্ডে জমা করেন মুশফিক-মিথুন। তবে ততক্ষণে তিথু হয়ে গেছেন এই দুজন।

ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকেন রান তোলার গতি। ২০ ওভার পেরোতে পেরোতে যে গতি হয়ে ওঠে বেশ স্বাভাবিক। ২০ ওভারে ১০০ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ইনিংস তখন বেশ সাবলম্বী। এই জুটি আরও কিছুটা পথ পাড়ি দেয়। মোহাম্মদ মিথুন তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। কিছুক্ষণ পর মুশফিকও পেরিয়ে যান ৫০। ১৩২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ঠিক পথেই রাখেন এই দুজন।

কিন্তু আবারও ঘাতকের ভূমিকায় ফেরেন মালিঙ্গা। এবার তার শিকার মিথুন। ৬৮ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ে ৬৩ রান করে বিদায় নেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। মিথুনের বিদায়ের পর এরপর আবারও দিক হারায় বাংলাদেশ। দ্রুতই ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তবে মহাকাব্যিক ১৪৪ রানের ইনিংস খেলা মুশফিক ছিলেন অবিচল। শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের নিয়েই লড়াই চালাতে থাকেন তিনি।

এর মধ্যেই এশিয়া কাপের প্রথম ও ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি  তুলে নেন ম্যাচসেরা মুশফিক। এরপর একে একে ফিরে গেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান। স্কোরকার্ডে ২২৯ রান জমা হলেও তখন উইকেট সঙ্কটে বাংলাদেশ। তাই দেরি করেননি তামিম। ব্যান্ডেজ হাতেই মাঠে নেমে পড়েন বাংলাদেশ ওপেনার।

তামিমকে অন্য প্রান্তে রেখে আরও ৩২ রান যোগ করেন একাই বাংলাদেশকে পথ দেখানো মুশফিক। ৫০ তম ওভারের তৃতীয় বলে আউট হওয়ার আগে ১৫০ বলে ১১টি চার ও ৪টি ছয়ে ১৪৪ রানের চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। এশিয়া কাপে এটাই কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। আর এই আসরের ইতিহাসে এটা যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।

প্রিয় খেলা/শান্ত মাহমুদ

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
‘পাকিস্তান ক্রিস গেইলের মতো, বিশ্বাস নাই’
সৌরভ মাহমুদ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
খুলনায় মাশরাফি, তিন মৌসুম পর ফিরছেন সাকিবও
সৌরভ মাহমুদ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
ফিফার বর্ষসেরাও লুকা মদ্রিচ
প্রিয় ডেস্ক ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
তামিম ইকবাল : আপনাকে স্যালুট
তামিম ইকবাল : আপনাকে স্যালুট
জাগো নিউজ ২৪ - ১ week, ৩ দিন আগে
বড় দুঃসংবাদ দিলেন তামিম ইকবাল!‍ | কালের কণ্ঠ
বড় দুঃসংবাদ দিলেন তামিম ইকবাল!‍ | কালের কণ্ঠ
কালের কণ্ঠ - ২ সপ্তাহ, ৪ দিন আগে
বদলে গেছে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল
বদলে গেছে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল
জাগো নিউজ ২৪ - ৪ মাস, ১ week আগে
ট্রেন্ডিং