ছবিটি নির্মাতার ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত

‘জান্নাত’ নিয়ে মুসল্লিদের আপত্তি, ‘বিস্মিত’ নির্মাতা

ছবিটি নিয়ে মুসল্লিদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা নিয়ে ‘বিস্মিত’ ছবিটির নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৪২
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৪২


ছবিটি নির্মাতার ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) সাতক্ষীরার সঙ্গীতা সিনেমা হলে গত শুক্রবার থেকে প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিল মাহিয়া মাহিসাইমন সাদিক অভিনীত ‘জান্নাত’ ছবির। তার আগেই স্থানীয় মুসল্লি ও মসজিদের ইমামদের আপত্তির কারণে ছবিটির প্রদর্শনী বাতিল করে হল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ছবিটি নিয়ে মুসল্লিদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা নিয়ে ‘বিস্মিত’ ছবিটির নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রিয়.কমের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন মানিক।

২০ মিনিটেরও বেশি সময়ের আলাপে ছবিটিকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেন নির্মাতা।

গেল ঈদুল আজহায় দেশের ২১টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘জান্নাত’। প্রথম সপ্তাহ পার হতে না হতেই ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বাড়তে থাকে। এখন ৬০টি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি প্রদর্শিত হচ্ছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

‘জান্নাত’ ছবিতে মাহি একটি মাজারের খাদেমের মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে সাইমন সাদিক দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন-একটির নাম ইফতেখার; অপরটি আসলাম।

সাতক্ষীরার সঙ্গীতা সিনেমা হলে ‘জান্নাত’ ছবিটির প্রদর্শনী বন্ধ হওয়ার বিষয়ে মানিক প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখেছি ও শুনেছি, স্থানীয় মুসল্লি ও মসজিদের ইমাম পরিষদ ছবিটি প্রদর্শনের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে। তাই গত শুক্রবার সাতক্ষীরা শহরের সঙ্গীতা সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ সিনেমাটি প্রদর্শন স্থগিত করেছে। কিন্তু আমরা সেখানে ছবিটির মুক্তিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় পোস্টারিং করেছি। বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রচার করেছি।’

মানিক জানান, শুক্রবার সকালে সঙ্গীতা হল থেকে তার ব্যবস্থাপককে ফোন করে প্রথমে পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। তারপর জানানো হয়, স্থানীয় মুসল্লি ও মসজিদের ইমামদের আপত্তির কারণে ছবিটি তাদের হলে প্রদর্শন করা যাবে না।

এরপর জানানো হয়, সেখানকার পুলিশ সুপার (এসপি) তাদেরকে অনুরোধ করেছেন ছবিটি প্রদর্শন না করার ব্যাপারে। আর এর কারণ হিসেবে বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার এসপি সাজ্জাদুর রহমান একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মসজিদের ইমাম ও কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে আমাদের বলেছে জান্নাত একটি পবিত্র নাম। এ নামে সিনেমা চালানো হলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে।’

‘এ জন্য আমরা মালিককে বিষয়টি জানিয়েছি। এরপর তারা আর ওই সিনেমাটি হলে প্রদর্শন করেনি। তবে যারা আপত্তি জানিয়েছে, তারা সিনেমাটি দেখেনি। শুধু সিনেমার নাম নিয়ে তারা আপত্তি তুলেছে।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে প্রদর্শিত হওয়ার পরই ‘জান্নাত’ হলে প্রদর্শনের জন্য ছাড়পত্র পায়। আলাপের সময় বিষয়টিকে প্রসঙ্গ হিসেবে টেনে আনেন ২০০৫ সালে ‘দুই নয়নের আলো’ নির্মাণের মধ্য দিয়ে পরিচালনায় আসা মানিক।

এই নির্মাতা বলেন, ‘ছবিটি নিয়ে আপত্তি নেই বলেই সেন্সর বোর্ড ছাড়পত্র দিয়েছে। এর আগে ঈদের সময় ৬০টিও বেশি সিনেমা হলে ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছে। সেখানকার কোনো হল থেকে কোনো কমপ্লেইন আসেনি; বরং অনেকেই প্রশংসা করেছে। আমি সিনেমাটির মধ্য দিয়ে বলতে চেয়েছি জঙ্গিবাদের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নাই। ইসলাম জঙ্গিবাদ সমর্থনও করে না। আর এ ধরনের একটি বিষয়বস্ত নিয়ে নির্মিত সিনেমা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনতে পারে শুনে, আমি বিস্মিত হয়েছি।’

‘ওখানে যেহেতু কোনো শো হয়নি, তার মানে সেখানকার দর্শক এখনো ছবিটি দেখেনি। না দেখে ছবিটির নাম অনুমান করে তারা মন্তব্য করেছে। এটা তো ভয়াবহ ব্যাপার! আমি আসলে বিষয়টি বুঝতেছি না কেন এমন ঘটেছে!’

মানিকের দাবি, তিনি বিষয়টিকে সিরিয়াসলি দেখছেন না। তার ভাষ্য, ‘যেহেতু সাতক্ষীরা সেনসেটিভ এলাকা, ওখানকার সম্পর্কে আমাদের দেশের সবারই কম-বেশি ধারণা আছে। আমার মনে হচ্ছে, তারা মনে করছে যেহেতু ছবির নাম ‘‘জান্নাত’’-একটি পবিত্র শব্দ। এর সঙ্গে সিনেমার যোগাযোগের বিষয়টিকে তারা ভালোভাবে নিতে পারেনি।’

সাতক্ষীরায় সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করাকে দুঃখজনক হিসেবে মন্তব্য করে নির্মাতা বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, কিছু লোক আছে যারা সিনেমাকেই অপবিত্র মনে করে। সেখানে তো অন্য কোনো বিষয় নিয়ে যতই কথা বলি না কেন, লাভ হবে না। কারণ বিষয়টা তো তাদের মধ্যে মানসিকভাবে সেট হয়ে গেছে। এটা অটো ঘটেনি, কোনো না কোনোভাবে রান করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে সঙ্গীতা সিনেমা হলের মালিক আব্দুল হক একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সিনেমার নাম নিয়ে মুসল্লিরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে। বিষয়টা এসপি (পুলিশ সুপার) সাহেব আমাদের জানিয়েছে। পরে আমরা ভাবলাম, সামান্য একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলার দরকার নেই। সামনে নির্বাচন। এলাকাটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হওয়ায় বিষয়টি হল মালিককে জানিয়েছি।’

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলায় ইসলামপন্থীদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। সে বিবেচনায় সাতক্ষীরা একটি স্পর্শকাতর এলাকা বলে মনে করে পুলিশ প্রশাসন। তা ছাড়া নির্বাচনের আগে কোনো সিনেমাকে কেন্দ্র করে ইসলামপন্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করুক, সেটি চায় না প্রশাসন। এ সিনেমাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলেও পুলিশের মধ্যে আশঙ্কা ছিল।

এমন বাস্তবতা নিয়ে মানিক প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমি চাইলে বিষয়টাতে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে ছবিটি সেখানে প্রদর্শন করতে পারতাম। কারণ আইনগত দিক থেকে পুলিশ ছবিটির প্রদর্শন বন্ধ করতে পারে না। ছবি বন্ধ করতে পারে একমাত্র জেলা প্রশাসক। তাও যদি কোনো সেনসেটিভ ঘটনা থাকে ছবির গল্পে। তবে ছবিটা সাতক্ষীরাতে চলছে না, এ নিয়ে আমি মোটেই বিচলিত নই।’

‘দুঃখ পাচ্ছি তাদের চিন্তা-ভাবনার লেভেলটা দেখে। ছবিটা দেখার পর তারা যদি মন্তব্য করত, তখন নিজেকে বোঝাতে পারতাম। ছবির একটা শোও হয় নাই, তার আগেই তারা ডিসিশন নিয়ে ফেলল এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার বিষয় আছে।’

ছবিতে মাহি-সাইমন ছাড়াও মিশা সওদাগর, আলীরাজ, রেহানা জলি অভিনয় করছেন। বিশেষ চরিত্রে আছেন সংগীতশিল্পী আরেফিন রুমী। ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন আসাদ জামান। আর সংগীত পরিচালনা করেছেন ইমন সাহা ও আরেফিন রুমী।

প্রিয় বিনোদন/গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
দেশে ফিরেছেন ‘মিস বাংলাদেশ’ ঐশী
তাশফিন ত্রপা ১২ ডিসেম্বর ২০১৮
বিজয় দিবসের গানে আবদুল হাদী
নিজস্ব প্রতিবেদক ১২ ডিসেম্বর ২০১৮
এক ক্লিকেই দুটি সময়
নিজস্ব প্রতিবেদক ১২ ডিসেম্বর ২০১৮
প্রেমেরই ছোয়া গানে আতিক ও ঝরা
প্রিয় ডেস্ক ১২ ডিসেম্বর ২০১৮
ওয়েব সিরিজে আইরিন
নিজস্ব প্রতিবেদক ১২ ডিসেম্বর ২০১৮
‘এবাদত’-এর পর ‘এখন বলা যায়’
নিজস্ব প্রতিবেদক ১২ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট