ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা আমির হামজা। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে কর্মচারীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ

একপর্যায়ে শুভর মাথায় লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়।

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৪০ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৪০
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৪০ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৪০


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা আমির হামজা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) কথা অনুযায়ী ওষুধ কিনে না অানায় দোকানে হামলা ও কর্মচারীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই ছাত্রলীগের নেতার বিরুদ্ধে।

২৩ সেপ্টেম্বর, রবিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এলাকার সেবা ফার্মেসিতে এ ঘটনা ঘটে।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযােগ, তারা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ঝন্টু।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই দুই ছাত্রলীগ নেতা রাতে সেবা ফার্মেসিতে কিছু ওষুধ কিনতে যান। ওই ওষুধগুলো দোকানে না থাকায় তারা অন্য জায়গা থেকে নিয়ে আসতে বলেন। তখন দোকান কর্মচারী শুভ কাজের ব্যস্ততার কারণে তা আনতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষেপে যান ছাত্রলীগের দুই নেতা। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে শুভর মাথায় লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে মাথায় আটটি সেলাই দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ছাত্রলীগের দুই নেতাকে ফেরাতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন ঢামেকের জরুরি বিভাগের কাছে সেবা ফার্মেসির মালিক ও আওয়ামী লীগকর্মী মো. শহীদুর রব (পেনু)।

এ বিষয়ে পেনু জানান, ছাত্রলীগের দুজন ওষুধ কিনতে আসে। কিন্তু ওই সময় একটি ওষুধ দোকানে ছিল না। তখন ছাত্রলীগের এক নেতা অন্য জায়গা থেকে ওষুধগুলো নিয়ে আসতে বলেন। দোকান কর্মচারী শুভ তা আনতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তিনি ক্ষেপে যান। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা হামজা লোহার পাইপ দিয়ে কর্মচারীর মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। হামলা শেষে দোকানে তালা লাগিয়ে দেন ছাত্রলীগ নেতারা। আর এই তালার চাবি দেওয়া হয় এস এম হল ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি মেহেদী হাসানের কাছে।

দোকানে তালা লাগানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস। তারা গিয়ে দোকানের তালা খোলার ব্যবস্থা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বহিষ্কারের সুপারিশপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের দুই নেতা হলেন সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা ও তার সহযোগী সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ঝন্টু। এর মধ্যে আমির হামজার বিরুদ্ধে পলাশীতে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি, বাটা সিগন্যাল মোড়ে কোটা আন্দোলনকারীদের মারধর, লাইব্রেরির সামনে চাপাতি হাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নূরের ওপর হামলা, মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। 

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা আমির হামজা জানান, ওষুধ কিনতে গেলে ওই দোকান কর্মচারী তার মাকে নিয়ে গালি দেয়। তারপর তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর হাতাহাতি হয়।

ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন জানান, ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগের দুই নেতাকে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

প্রিয় সংবাদ/ইতি/আজহার