অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। ছবি: শামছুল হক রিপন, প্রিয়.কম

‘আমি সবার বন্ধু, কিন্তু কারো ভালো বন্ধু নই’

অতঃপর শুটিংয়ে বিরতি। তার ফাঁকেই প্রিয়.কমের সঙ্গে কথা বললেন বলিউড ও বাংলা ছবিতে সমানতালে কাজ করা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:০৪
আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:০৪


অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। ছবি: শামছুল হক রিপন, প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) কাঠের বেঞ্চিতে বসা অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। তার পাশে নির্মাতা। পরবর্তী দৃশ্য কী হবে, বুঝিয়ে দিচ্ছেন। পাশাপাশি চলছে লাইট-ক্যামেরা সেটআপের কাজ। আর শুটিং দেখতে আসা উৎসুক জনতাকে নিয়েও বেশ বেগ পেতে হচ্ছে ইউনিটের।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত বোটানিক্যাল গার্ডেনে দেখা যায় এসব দৃশ্য। সেখানে শুটিং চলছিল সোয়াইবুর রহমান রাসেলের নির্মাণাধীন ছবি ‘নন্দিনী’র।

গার্ডেনে প্রচণ্ড গরমে চলছিল শুটিং। এর মধ্যেই সেখানে প্রবেশ করা। কিছুক্ষণ অপেক্ষা। অতঃপর শুটিংয়ে বিরতি। তার ফাঁকেই প্রিয়.কমের সঙ্গে কথা বললেন বলিউড ও বাংলা ছবিতে সমানতালে কাজ করা ইন্দ্রনীল।

‘‘‘নন্দিনী’’র সঙ্গে পরিচয়টা ঘটল কী করে’ জিজ্ঞেস করার পর ইন্দ্রনীলের উত্তর, ‘২০১৮ সালের মে মাসের কথা। আমাকে রিশি (ছবির প্রযোজক) ফোন করল, বলল, ও একটা সিনেমা বানাবে। আমার সঙ্গে বসতে চায়। তখন আমি বললাম, এ নিয়ে আলাপ করার জন্য মুম্বাই আসতে হবে না। ফোনে আলাপ সেরে নিলেই হবে।’

‘আমি তখনো শিওর (নিশ্চিত) ছিলাম না, কাজটি করতে পারব কি না। তারপরও রিশি বলল, ও মুম্বাইতে ওর একটা কাজে আসবে কিছুদিন পর, তখন বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলাপ করবে। আমি বললাম, ঠিক আছে। তখন রিশির সঙ্গে প্রথম দেখা আর রাসেলের সঙ্গে প্রথম কথা। রিশি গল্পটা শোনায় আমাকে। রোলটা (চরিত্র) ভালোও লাগে। যদিও আমাকে তখন স্ক্রিপ্ট দেয়নি।’

কথায় খানিকটা বিরতি। ফের শুরু করে ইন্দ্রনীল বললেন, ‘আমরা টাকা-পয়সার ব্যাপারে কথাবার্তা বলি। এরপর কমফোর্টেবল জায়গায় যাওয়ার পর সিদ্ধান্তে আসি, আমরা সিনেমাটা করব। তবে সেটা যখন আমার সময়টা মিলবে। কারণ আমার শিডিউল নিয়ে একটু জটিলতা আছে। কারণ আমি মুম্বাইতে টিভির কাজ নিয়ে বেশ ব্যস্ত।’

তখনো ইন্দ্রনীল জানেন না কে এ ছবির নায়িকা কিংবা কার, কী ভূমিকা। তবে শুধু এটুকু জানেন সোয়াইবুর রহমান রাসেল ছবিটি নির্মাণ করবেন। ‘এরপর অনেকবার (পরিচালক) আমাকে চিত্রনাট্য পাঠিয়েছে বেশ কয়েকবার মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপে।

বেশ কয়েকবার কারেকশনও করেছে। এরপর বেশির ভাগ সময় রাসেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমার কাছে একটা সময় গিয়ে মনে হলো, আমি যা বিশ্বাস করি, তেমন কিছু একটা হবেই’, বলেন ইন্দ্রনীল।

‘‘‘নন্দিনী’’ জার্নিতে আপনাকে যোগ হতে চিত্রনাট্য কতটা আগ্রহবোধ জাগিয়েছে?’

‘আমার কাছে মনে হয়, কোনো স্ক্রিপ্টে চরিত্রটা ভালো করে লেখা থাকলে সেটাকে যদি বুঝে ভালো করে ফলো করা যায়, তখন ৮০-৯০ ভাগ কাজ ওকে হয়ে যায়। ‘‘নন্দিনী’’র চিত্রনাট্যে চরিত্রটা খুব সুন্দর করে লেখা আছে। পলাশের জার্নিটা পড়েই ওর চরিত্রটা বোঝা যায়। আর আমি কিন্তু কমপ্লিটলি ডিরেক্টরের ওপর ফেইথ রাখি’, উত্তরে বলেন ইন্দ্রনীল।

‘আমার কখনই মনে হয় না অ্যাক্টর নিজের আলাদা রকম বুদ্ধি খাটালে খুব ডিফরেন্ট কিছু হবে। ডিরেক্টরের আইডিয়াটা ইনকরপোরেট করার চেষ্টা করি সবসময়। সো রাসেল খুব ক্লিয়ার ছিল ও চরিত্রটাকে কীভাবে দেখছে। সেভাবেই ফলো করার চেষ্টা করেছি। ভালো কিছু হবে নিশ্চয়ই। কারণ ওয়ার্ক আউট করতে গেলেই বোঝা যায়, কাজটা কেমন হচ্ছে।

নিজেকে ডিসেন্ট অ্যাক্টর মনে করেন ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। ছবি: শামছুল হক রিপন, প্রিয়.কম  ‍

‘তারপর স্ক্রিপ্ট। পাশাপাশি রাসেল যেভাবে চাচ্ছিল, সেভাবে চলার চেষ্টা করেছি। প্লাস একটা অ্যাক্টরের পারসোনালিটি যেটা থাকে, সেটা তো চলেই আসে’, যোগ করেন ‘চোরাবালি’ দিয়ে ঢাকাই ছবিতে অভিষেক হওয়া এই নায়ক।

বাংলাদেশি লেখক পরিতোষ বাড়ৈর ‘নরক নন্দিনী’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হতে যাচ্ছে ছবিটি। এর গল্প ও সংলাপ লিখেছেন লেখক নিজেই। আর চিত্রনাট্য লিখেছেন তামজীদ রহমান। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছে।

প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন রাসেল। ইন্দ্রনীলকে প্রশ্ন করে বলা হয়, ‘নির্মাতার ওপর ফেইথনেসটা (বিশ্বাস) ক্রিয়েট হলো কী করে?’ জবাবে ইন্দ্রনীল বলেন, ‘যখন একজন ডিরেক্টর গল্পের ন্যারেশনটা দেয়, তারা ভালো ন্যারেশন তখনই দেয়, যখন নিজে ক্লিয়ার থাকে। কীভাবে সেটাকে দেখাবে সিনেমায়। তখন সেটা বোঝা যায় কতটা কনভিকশন আছে।’

‘কখনো কখনো ওটা আবার ভুলও হয়ে যায়। অনেক নতুন ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করেছি। এমনও হয়েছে, ভালো বলেছে। কিন্তু ভালো করে কাজটা করতে পারেনি। অনেকবার এমনও হয়েছে, যেভাবে বলেছে, তার চেয়েও ভালোভাবে করেছে।’

ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত জানান, তার অভিনয় ক্যারিয়ারে নতুন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। বাংলা সিনেমার মধ্যে তিনি অভিনয় করেছেন সৃজিত মুখার্জি, কমলেশ্বর মুখার্জি ও অন্যান্য পরিচালকের প্রথম সিনেমায়।

‘নতুন ডিরেক্টরদের আলাদা এনার্জি লেভেল থাকে’ মন্তব্য করে ইন্দ্রনীল বলেন, ‘সে নিজেকে প্রুভ (প্রমাণ) করার চেষ্টায় থাকে। ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা বাড়ানোর চেষ্টা করে। ওই প্যাশনটা নতুন একটা ডিরেক্টরের মধ্যে যে রকম থাকে, আমার মনে হয় এক্সপেরিয়েন্স ডিরেক্টরের মধ্যে তেমনটা থাকে না। নতুন ডিরেক্টরদের কিন্তু আলাদা একটা দৃষ্টিকোণ থাকে। ওটা ইন্টারেস্টিং।’

বেশ কয়েকদিন ধরেই ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে কাজ হচ্ছে ‘নন্দিনী’র। একটা মেয়ের সংগ্রামী জীবনের গল্প দেখা যাবে ছবিতে। যার জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে গল্প। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইন্দ্রনীল বলেন, ‘শুটিং টেকনিক্যালি খুব ভালো হয়েছে। কাজ যা করার ছিল, তা ঠিকঠাক হচ্ছে। অসুবিধা বলতে শুধু একটাই, গরম প্রচুর।’

৪৩ বছরে পা রেখেছেন এ অভিনেতা। জীবনে বাঁক বদলে এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন। তার মধ্যে অন্যতম সাবধানী হয়ে কথা বলা ও পথচলা। এটাকে তিনি ব্যাখা করলেন তার ‘কৌশল’-এর একটি অংশ হিসেবে।

হিন্দি চলচ্চিত্র ‘শুকরিয়া- টিল ডেথ ডু আস অ্যাপার্ট’-এর মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করা ইন্দ্রনীল টালিগঞ্জে কাজ শুরু করেন ২০০৮ সালে। ‘অংশুমানের ছবি’, ‘অটোগ্রাফ’, ‘আরেকটি প্রেমের গল্প’ ও ‘জানালা’ ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি।

‘একটা সময় তো নিয়মিত বাংলা ছবিতে কাজ করেছেন। সেখান থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলেন কেন?’

জবাবটা কিন্তু সোজাসাপ্টা এলো এভাবেই, ‘হ্যাঁ, এটা সত্যি। আমি খুব ডিটাচড (বিচ্ছিন্ন) বাংলা ইন্ডাস্ট্রি থেকে। আমার ফ্যামিলি থাকে মুম্বাইয়ে। আমার মেয়ে বড় হচ্ছে, যার কারণে গত দুই বছর ধরে আমি কনশাসলি বাংলার কাজটা কমিয়ে দিয়েছি।’

‘না হলে বেশির ভাগ সময় আমি কলকাতায় থেকেছি। গত তিন বছরে আমি দুটো ছবি করেছি। আবার এমনও সময় গেছে, বছরে আমি আটটি ছবি করেছি। এখন শুটিং থাকলে কলকাতা যাই। আর না হয় তেমন কোনো খবর থাকে না।’

‘আমার কাছে মনে হয়, আমি কলকাতার ফিল্ম থেকে আউটসাইডে আছি। আমি কলকাতাবাসী না। কলকাতায় থাকি না। ওটা আমার হোমটাউন না। আমি ওখানকার অ্যাক্টরও না। আমি ওখানে বাইরে থেকে এসে কাজ করে চলে যাই। সো আমি মনে করি, এই ধরনের কাজ করার জায়গাটা আলাদা। যদিও আমি কলকাতাতে ৪২-৪৩টা ফিল্মে কাজ করেছি।’

আলাপের শেষের দিকে মুম্বাইয়ের ক্যারিয়ার ও সামাজিকতার প্রসঙ্গ টেনে আনলেন এ অভিনেতা। তার ভাষ্য, ‘আই অ্যাম এ ডিসেন্ট অ্যাক্টর। আর সোশ্যালও না। আমি সবার বন্ধু, কিন্তু কারো ভালো বন্ধু নই। আমি পুরো বিশ্বের জন্যই এমন।’

প্রিয় বিনোদন/গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
দীর্ঘদিনের প্রেমিকার সঙ্গে সিয়ামের বিয়ে
তাশফিন ত্রপা ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
গল্পের প্রসঙ্গ অফিসে যৌন হয়রানি
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
উর্মিলা-শ্যামলের ‘একদিন ভালো থাকি’
তাশফিন ত্রপা ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
মাহাদীর কণ্ঠে ‘বিজয়ের গল্প’
তাশফিন ত্রপা ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
‘অভিনয় ভালো লাগলে নৌকায় ভোট দিন’
‘অভিনয় ভালো লাগলে নৌকায় ভোট দিন’
এনটিভি - ২ দিন, ৩ ঘণ্টা আগে
সিলেটে জয়-খরা কাটবে কি বাংলাদেশের?
সিলেটে জয়-খরা কাটবে কি বাংলাদেশের?
এনটিভি - ২ দিন, ৩ ঘণ্টা আগে
সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের
সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের
এনটিভি - ২ দিন, ৩ ঘণ্টা আগে