চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে এভাবেই পানের বরজের দেখা মিলে। ছবি: ইউএনবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানে পচন রোগ, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

‘আমরা অনেকে লোন (ঋণ) করে আবাদ করি। আমাদের তো লোন পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু পানের পচন ঠেকানো যাচ্ছে না।’

ইতি আফরোজ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:২৯ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৩৮
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:২৯ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৩৮


চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে এভাবেই পানের বরজের দেখা মিলে। ছবি: ইউএনবি

(ইউএনবি) চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানের পচন রোগের কারণে আশানুরূপ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পান চাষিরা। কারণ উৎপাদন খরচ ও পারিশ্রমিক মিটিয়ে লাভ ঘরে তুলতে পারছেন না তারা। এ জন্য দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষিরা।

চাষিরা জানিয়েছেন, গত দুই বছরে পানে পচন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। প্রতিষেধক ওষুধ প্রয়োগ করেও ফল পাচ্ছেন না। এ ছাড়া চলতি বছর প্রচণ্ড খরা ও গরমে পানের ক্ষতি হয়েছে।

পান চাষিদের অভিযোগ, জেলার সম্ভাবনাময় একটি অর্থকরী ফসল হওয়া সত্ত্বেও পান চাষের উন্নয়নে এগিয়ে আসছে না কৃষি বিভাগ।

সদর উপজেলার যাদুপুর এলাকার পান চাষি ধুলু মোল্লা জানান, পান চাষ লাভজনক। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পানে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। ওষুধ দিয়েও কাজ হয় না, যে অবস্থা হয়েছে তাতে পান চাষ উঠে যাবে।

আরেক চাষি বদর আলী জানান, কৃষি অফিসের লোকজন মাঝে মাঝে আসেন, তাদের পরামর্শে ওষুধ দেওয়া হয়। একটু কাজ হয়, কিন্তু আবার পচন দেখা দেয়। এ অবস্থায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতররের হিসেবে বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ১৭ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে। যা থেকে বছরে ১৫ মেট্রিক টন পান উৎপন্ন হয়। এসব পান স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানেও এখানকার পানের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

চাষি আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুই-আড়াই বছর থেকে পান বরজে, পান গাছের গোড়া পচন রোগ দেখা দিয়েছে। এতে পান গাছ মারা যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রতিষেধক ওষুধ প্রয়োগ করেও ফল পাচ্ছেন না চাষিরা।

এ ছাড়া পানে পচন রোগ, তার ওপর এবার প্রচণ্ড খরা ও গরমেও পানের ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বরজে সেচ দিতে গিয়ে উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। লাভজনক পান চাষ এখন ক্ষতির মুখে পড়েছে বলেও জানান আবদুর রাজ্জাক।

পান চাষি আবদুল মালেক বলেন, ‘আমরা অনেকে লোন (ঋণ) করে আবাদ করি। আমাদের তো লোন পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু পানের পচন ঠেকানো যাচ্ছে না। এই নিয়ে আমা দুশ্চিন্তায় আছি।’

চান চাষি সাইফুল ইসলাম অনু বলেন, ‘এটি একটি অর্থকরী ফসল, বাপ-দাদারা যেভাবে পান চাষ করেছে, আমরা সেভাবেই চাষ করে আসছি। কৃষি বিভাগ যদি আমাদের প্রশিক্ষণ দিত, তাহলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারতাম।’

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ড. মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘পান চাষে গোড়া পচন একটি সমস্যা। বর্ষাকালে এটি দেখা দেয়। এ সময় যেন গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে, গাছের গোড়া যেন পরিষ্কার রাখতে হয়।’

‘এ ছাড়া উপযুক্ত বালাইনাশক যেন দেওয়া হয়, এ জন্য কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে এ বছর বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম থাকায় সমস্যা অনেকটা কম।’

প্রিয় সংবাদ/কামরুল