বিবাহ বিচ্ছেদের পর আর্থিক বিষয়গুলো আরও জটিল হয়ে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত

ডিভোর্সের পর আর্থিক বিষয় সামলাবেন কী করে?

বিবাহ বিচ্ছেদের পর আর্থিক বিষয়গুলো আরও জটিল হয়ে পড়ে, বিশেষ করে যদি সেই দম্পতির এক বা একাধিক সন্তান থাকে। এ সময়ে খরচ নিয়ে আলোচনা করার মতো মানসিক অবস্থা অনেকেরই থাকে না। তারপরেও এ ব্যাপারে কথা বলে নেওয়া ভবিষ্যতের জন্যই দরকার।

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৫৩
আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৫৩


বিবাহ বিচ্ছেদের পর আর্থিক বিষয়গুলো আরও জটিল হয়ে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) আর্থিক বিষয়ে মনোমালিন্য যে কোনো সম্পর্কের মাঝেই ফাটল ধরাতে সক্ষম। বিবাহ বিচ্ছেদের পর আর্থিক বিষয়গুলো আরও জটিল হয়ে পড়ে, বিশেষ করে যদি সেই দম্পতির এক বা একাধিক সন্তান থাকে। এ সময়ে খরচ নিয়ে আলোচনা করার মতো মানসিক অবস্থা অনেকেরই থাকে না। তারপরেও এ ব্যাপারে কথা বলে নেওয়া ভবিষ্যতের জন্যই দরকার। এতে ভবিষ্যতে অনেক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়। জেনে নিন, ডিভোর্সের পর আর্থিক বিষয়গুলো সামলাতে কী কী করতে পারেন আপনি-

১) আইনি সহায়তা নিন

ডিভোর্স পাকাপাকি হবার আগেই সন্তানের খরচের বিষয়গুলো সামলানোর জন্য আইনি সহায়তা নিতে পারেন। এতে বাবা-মায়ের মাঝে সন্তানের ভবিষ্যৎ খরচ ভাগাভাগি করে নেওয়ার ব্যাপারটি কাগজে কলমে মিটমাট করে নেওয়া যেতে পারে। বাবা-মা সমান সমান খরচ দিতে পারেন, অথবা যার আয় বেশি তিনি বেশি পরিমাণে খরচ দিতে পারেন- এমন সমঝোতায় আসা যায়।

তবে এ সময়ে আলোচনা করে নিলেও ভবিষ্যতে এমন অনেক পরিস্থিতির তৈরি হতে পারে যেখানে সন্তানের খরচ কে দেবেন তা ঠিক করা যাচ্ছে না। তখন প্রতি ক্ষেত্রে দুজনে আলোচনা করে নিতে হবে।

২) কোন খরচকে প্রাধান্য দেবেন তা ঠিক করে নিন

সন্তানের ভরণপোষণের খরচ দুজনে ভাগাভাগি করে নিলেও অনেক সময়ে দেখা যায়, এমন কোনো খরচ আছে যা বাবা অথবা মা করতে রাজি নন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মা চাচ্ছেন ছেলেকে পিয়ানো শেখাতে, অথচ বাবা এতে রাজি নন। এতে বাবার থেকে খরচ নেবার জন্য চাপাচাপি না করাই উচিত, কারণ এই খরচটা জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য নয়। এক্ষেত্রে একজনকেই খরচের ভারটা নিতে হবে।

৩) আলোচনার সুযোগ রাখা উচিত

যে কোনো সম্পর্কেই আলোচনার গুরুত্ব অনেক। বিবাহ বিচ্ছেদের পরেও সন্তানের বাবা-মা হিসেবে আপনাদের সম্পর্ক রয়েছে, তাই এখানেও আলোচনার জায়গা রাখতে হবে। আলোচনার সময়ে বিনয়ী ও ভদ্রোচিত আচরণ করুন এবং অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে আলোচনা করবেন না। এ সময়ে অতীতের কোনো ঝগড়া টেনে আনবেন না।

৪) সন্তানের মতামত নেবেন কখন?

সন্তানের বয়স যখন কম, তখন তার সামনে খরচ নিয়ে আলোচনা করা নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়। এছাড়া, কোনো কিছু তাকে কিনে দিতে পারছেন না এর জন্য আপনার প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রীকে দোষারোপ করবেন না সন্তানের সামনে।

তবে একটা সময়ে সন্তানের বয়স হবে আর্থিক বিষয়ে জানার জন্য। তখন তাকে নিয়েই আলোচনায় বসতে পারেন। এতে সে অর্থনৈতিক শিক্ষা পাবে।

৫) একমত হতে না পারলে কী করবেন?

কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনার প্রাক্তন খরচ দিতে রাজি নাও হতে পারেন। খরচটা কম হলে আপনিই অনেক সময়ে চালিয়ে নিতে পারেন। এর জন্য কথা কাটাকাটির দরকার নেই। কিন্তু যদি খরচটা বড় হয় এবং তা আপনার সন্তানের জন্য জরুরী হয়, তাহলে আবারও আইনি সহায়তা নেবার প্রয়োজন পড়তে পারে। তবে একেবারেই নিরুপায় না হলে এ পথে না যাওয়াই ভালো। কারণ আইনজীবীর খরচটাও বেশ বড়।

সূত্র: হাফিংটন পোস্ট

প্রিয় লাইফ/ আর বি 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
জিহ্বায় ইস্ট ইনফেকশন হলে কী করবেন?
কে এন দেয়া ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮
ভিনদেশি খাবার ‘নাসি গরেং’
রুমানা বৈশাখী ১২ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট