এভাবেই মায়ের কোলে চড়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসেন হৃদয় সরকার। ছবি: সংগৃহীত

মায়ের কোলে চড়ে পরীক্ষার হলে, চান্স পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

‘মা আমাকে কোনোদিন হুইল চেয়ার ব্যবহার করতে দেননি। তিনি সব সময় বলেন, যতদিন তিনি বেঁচে আছেন, যতদিন সামর্থ্যে কুলায়, তিনি আমাকে কোলে করেই নিয়ে যাবেন।’

আবু আজাদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৫৪
আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৫৪


এভাবেই মায়ের কোলে চড়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসেন হৃদয় সরকার। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) রোমান সম্রাজ্যের বিখ্যাত সেনাপতি জুলিয়াস সিজারের সম্পর্কে হয়তো জানা আছে। তার বিখ্যাত উক্তি ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’। আর সেটি আবারও মনে করিয়ে দিলেন হৃদয় সরকার। মায়ের কোলে চড়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন হৃদয়, আর জয় করে নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন। হৃদয়ের নিজের পায়ে চলার শক্তি নেই। যার কি না নিজের পা নেই, তিনি এবার ‘পা রাখতে’ যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত ছাত্র হয়ে!

জন্ম থেকেই অজানা রোগে হাঁটার ক্ষমতা হারান হৃদয় সরকার। মা সীমা সরকার ছেলেকে হুইল চেয়ার কিনে দেননি। ছেলেকে বলেছিলেন, তার যতদিন শক্তি আছে, ততদিন সবখানে তাকে কোলে করেই নিয়ে যাবেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার হৃদয় মায়ের কোলে চড়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ‘খ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। মায়ের কোলে চড়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসার ঘটনাটি সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

মায়ের কোলে হৃদয় সরকার, এ ছবিটিই ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ছবি: সংগৃহীত
মায়ের কোলে হৃদয় সরকার, এ ছবিটিই ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ছবি: সংগৃহীত

২৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার সেই পরীক্ষা ফল প্রকাশ হয়। সেখানে ২ হাজার ৩৭৮টি আসনের বিপরীতে ৪ হাজার ৭৪৭ জনকে উত্তীর্ণ হিসেবে রাখা হয়েছে। ওই তালিকায় হৃদয় ৩ হাজার ৭৪০তম অবস্থান অর্জন করেছেন।

পরীক্ষায় হৃদয় ১২০ দশমিক ৯৬ নম্বর পেয়ে ভর্তির জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। যদিও প্রতিবন্ধী কোটাতেও তার ভর্তির সুযোগ রয়েছে।

সমীরণ সরকার ও সীমা সরকার দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে হৃদয় বড়। চলতি বছর হৃদয় নেত্রকোণার আবু আব্বাস ডিগ্রি কলেজ থেকে জিপিএ ৪.৫০ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। আর এসএসসি পরীক্ষায় নেত্রকোণা জেলা স্কুল থেকে জিপিএ ৪.০৬ পেয়েছিলেন তিনি।

অবশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার কৃতিত্ব মাকেই দিয়েছেন হৃদয়।

ভর্তি পরীক্ষায়
ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রমে ৩৭৪০তম অবস্থান অর্জন করেছেন হৃদয় সরকার 

এ বিষয়ে হৃদয় বলেন, ‘আমার এ ফলাফলের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের। সেই ছোট থেকেই তিনি আমাকে কোলে করে স্কুল-কলেজে নিয়ে যান। মা আমাকে কোনোদিন হুইল চেয়ার ব্যবহার করতে দেননি। তিনি সব সময় বলেন, যতদিন তিনি বেঁচে আছেন, যতদিন সামর্থ্যে কুলায়, তিনি আমাকে কোলে করেই নিয়ে যাবেন।’

হৃদয়ের এ ফলাফলে দারুণ খুশি তার পরিবার। হৃদয় বলেন, ‘বাবা-মা অত্যন্ত খুশি হয়েছেন, তাদের কষ্ট সার্থক হয়েছে।’

ইতোমধ্যে হৃদয়ের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। এ বিষয়ে সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘হৃদয়ের ফলাফল শোনার পরই আমি ওকে ফোন করেছি। ও যেহেতু আমার হল জগন্নাথ হলেই থাকবে, সেহেতু ওর হলে সিটের ব্যবস্থা আমি করে দেব। এ ছাড়া আর্থিক, একাডেমিকসহ যে ধরনের সাহায্যের দরকার হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আমরা করব।’

প্রিয় সংবাদ/শান্ত 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
সিডনিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালিত
সিডনিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালিত
https://www.banglanews24.com/ - ১ মাস, ২ সপ্তাহ আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  ফোরামের নতুন কমিটি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোরামের নতুন কমিটি
প্রথম আলো - ৩ মাস, ২ সপ্তাহ আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্র-রচনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্র-রচনা
প্রথম আলো - ৪ মাস, ১ week আগে