কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মসূচি স্থগিত করেছেন ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা। ছবি: সংগৃহীত

বিমানবন্দরে শ্রমিকদের কর্মসূচি, গ্রাহক সেবা ব্যাহত

বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি মশিকুর রহমান বলেন, ‘আগামী বোর্ড মিটিংয়ে যদি দাবি না আদায় হয়, তবে আমরা আবার কর্মবিরতিতে যাবো।’

সফিউল আলম রাজা
প্রধান প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৪১ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৪৫
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৪১ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৪৫


কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মসূচি স্থগিত করেছেন ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরের বলাকা ভবনের সামনে ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা অবস্থান নেওয়ায় গ্রাহক সেবা ব্যাহত হয়েছে। 

৩০ সেপ্টেম্বর, রবিবার সকাল ৬টা থেকে দেড় সহস্রাধিক শ্রমিক বলাকা ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পরে দুপুর ৩টার দিকে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে শ্রমিকরা কর্মসূচি স্থগিত করেন।

শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, ‘আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করেছি। আগামী বোর্ড মিটিংয়ে ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের স্থায়ী করার বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।’

এর আগে আন্দোলনরত অস্থায়ী শ্রমিকদের নেতা মোহাম্মদ হানিফ জানিয়েছিলেন, তারা একটা ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করছেন। অবশ্যই সেটা ইতিবাচক হতে হবে এবং লিখিত দিতে হবে।

হানিফ বলেছিলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বলাকা ভবনে অবস্থান নিয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা বলাকাতেই অবস্থান করব।’

দাবি আদায় না হলে পুনরায় কর্মবিরতিতে যাওয়া হুমকি দিয়েছেন বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি মশিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আগামী বোর্ড মিটিংয়ে যদি দাবি আদায় না হয়, আমরা আবার কর্মবিরতিতে যাবো।’

এ দিকে ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লোডিং-আনলোডিংসহ বিভিন্ন গ্রাহক সেবা বিঘ্নিত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রবিবার সকাল ৬টা থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রাহক সেবা একরকম বন্ধ। সকাল ৯টায় কলকাতা থেকে বিমানের বিজি-০০৯২ ফ্লাইটি বিমানবন্দরে আসে। এ সময় এয়ারক্রাফটের দরজা খুললেও ব্যাগেজ নেওয়ার ট্রলিভ্যান ছিল না। এমনকি যাত্রীদের নেওয়ার জন্য বাস চালানোরও কোনো লোক ছিল না। ফলে ওই ফ্লাইটের ১৫০ জন যাত্রী কোনো সেবা পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইভাবে বিজি-০০৮৮, বিজি- ০৬৯ ফ্লাইটের যাত্রীদেরও সেবা দেওয়ার কেউ ছিল না। কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর অনেকে ব্যাগেজ ছাড়াই বাড়ি চলে যান।

এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিমানের ৭০০ ক্যাজুয়াল পে গ্রুপ (৩/১) ও (৩/২) তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা চাকরি স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের (পে-গ্রুপ ১) ১ হাজার ৮০০ জনের চাকরি স্থায়ী হয়নি।

পরে ২৪ সেপ্টেম্বর বিমান ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা {পে-গ্রুপ (১)} বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ভিন্ন সময়ে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় উভয় মন্ত্রীই তাদের চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাস দেন।

প্রিয় সংবাদ/হাসান/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...