রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবন। ছবি: প্রিয়.কম

ঋণখেলাপিদের সুবিধা দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন?

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‌‘খারাপ লোকদের জীবনটাকে দুর্বিষহ করার পরিবর্তে তাদেরকে সহায়তা করছে নির্বাচন কমিশন।’

প্রদীপ দাস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৫৯ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০১৮, ২২:১৩
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৫৯ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০১৮, ২২:১৩


রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবন। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সংশোধনী প্রস্তাবে ঋণখেলাপিদের দেওয়া হচ্ছে সুবিধা।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বর্তমান আইনে সাতদিন আগে খেলাপি ঋণ নেই বা নিয়মিত কিস্তি দেন, সেই ক্লিয়ারেন্স জমা দিতে হয়। কিন্তু আরপিও সংশোধন প্রস্তাব অনুযায়ী, সেই ক্লিয়ারেন্স একদিন আগে দিলেই চলবে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণখেলাপি প্রার্থী জালিয়াতি করলেও আগে তা যাচাই-বাছাই করতে পারতো ইসি। কিন্তু সংশোধিত আরপিও পাস হলে সেই সুযোগ থাকবে না। প্রার্থীদের জালিয়াতি করার সুযোগ বেড়ে যাবে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী ক্লিয়ারেন্স একদিন আগে দিলেই চলবে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। ১ অক্টোবর, সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এই কমিশনার।

কবিতা খানম বলেন, ‘ঋণখেলাপিদের সাত দিন আগে যেটা ছিল, এখন সেটা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।’

আরপিওতে ১০ থেকে ১২টি সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে এবং তা পাস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানান এই কমিশনার।

বর্তমান আরপিওর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির পরিচালক বা কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসেবে নেওয়া ঋণের খেলাপি নন বা কোনো কিস্তি বকেয়া নেই, এই মর্মে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লিখিত দিলে তা প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সাত দিন আগে জমা দিতেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে।

আরপিও’র তৃতীয় অধ্যায়ের ১২ নম্বর ধারার ১-এর এম উপ-ধারায় বলা আছে, ‘is a director of a company or a partner of a firm [ which] has defaulted in repaying before seven days from the day of submission of nomination paper any loan or any instalment thereof taken by [ the concerned company or firm] from a bank;’

এ বিষয়ে আরপিও সংশোধনীর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া ক্লিয়ারেন্স জমা দিতে পারবেন।

আরপিওতে এই পরিবর্তন কেন আনা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার

বদিউল আলম প্রিয়.কমকে বলেন, ‌‘আমি জানি না এইসব পরিবর্তন তারা কেন করছে। আগে সাত দিন সময় থাকতো, ফলে জমা দেওয়া কপি নকল কি না, তা যাচাই-বাছাই করা যেত। এখন জালিয়াতি করে যদি কেউ কাজটি করে, তাহলে যাচাই-বাছাইয়ের কোনো সুযোগ থাকছে না। খারাপ লোকদের জীবনটাকে দুর্বিষহ করার পরিবর্তে তাদেরকে সহায়তা করছে নির্বাচন কমিশন। এটা বোধগম্য নয় আমার কাছে।’

প্রিয় সংবাদ/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...