একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা

একনেকে ১৫ প্রকল্পের অনুমোদন

২ অক্টোবর, মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রদীপ দাস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৩৭ আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৩৭
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৩৭ আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৩৭


একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা

(প্রিয়.কম) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলোতে ব্যয় হবে ১৩ হাজার ২১৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

২ অক্টোবর, মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।

একনেক সভা শেষে প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের সভায় ১৫টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৩ হাজার ২১৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন করা হবে ৮ হাজার ৪৭৯ কোটি ২২ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৪৪৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৪ হাজার ২৯০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।’

বর্তমান সরকারের শেষ কয়েক মাসে গড়ে ১৭ থেকে ১৮টি প্রকল্প পাস হচ্ছে।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর ধরে একনেকে আছি। কিন্তু এ রকম কাজ দেখিনি। আমরা আমাদের দায়িত্ব সমানভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। নির্বাচন আসল কি না আসল, সেটা অন্য ব্যাপার।’

অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো

একনেক সভায় ১৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০টি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত। নতুন প্রকল্পগুলো হলো-

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই এবং পুনর্ভবা নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা।

হাটহাজারী-ফটিকছড়ি-মানিকছড়ি-মাটিরাঙা-খাগড়াছড়ি সড়ক উন্নয়ন (চট্টগ্রাম অংশ), যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

ভুরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর-ভিতরবন্দ-নাগেশ্বরী মহাসড়কের দুধকুমার নদীর ওপর সোনাহাট সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ২৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১০৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৮৬৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলায় হালদা নদী ও ধুরং খালের তীর সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৫৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৬৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৮২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

টেকসই বন ও জীবিকা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৫০২ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

সংশোধিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৩০২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। তৃতীয় সংশোধনে এর ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

প্রথমবারের মতো সংশোধিত প্রকল্প সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িঘাটে গুঁড়ো দুধ কারখানা স্থাপন। এর মূল ব্যয় ৭৮ কোটি ৮০ লাখ থেকে বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ১০৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা জেলার সদর উপজেলাধীন রাজাপুর ও পূর্ব ইলশা ইউনিয়ন রক্ষার্থে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী অনুমোদন করেছে একনেক। এর মূল ব্যয় ২৭৯ কোটি ৪২ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধনী আনা হলো রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রকল্পের। এর মূল ব্যয় এক হাজার ১৪০ কোটি ২৬ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৯০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

প্রথমবারের মতো সংশোধনী আনা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে। এর মূল ব্যয় ১০৫ কোটি টাকা থেকে ২৫০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা করা হয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/হাসান/আজহার

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...