জাতীয় প্রেসক্লা‌বে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্টের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: প্রিয়.কম

‘জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া’ হয়ে গেল ‘জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্ট’

বিএন‌পি, গণ‌ফোরাম, নাগ‌রিক ঐক্য, জেএস‌ডি জাতীয় ঐক্য প্র‌ক্রিয়ার সমন্ব‌য়ে জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্টের আত্মপ্রকাশ হয়েছে।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৪১ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ২০:০২


জাতীয় প্রেসক্লা‌বে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্টের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) ‌গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর কয়েকটি দলের সমন্বয়ে সরকারবিরোধী নতুন রাজনৈতিক জোট গঠিত হলো। যার নাম দেওয়া হয়েছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। যদিও আগে এ জোটের নাম দেওয়া হয়েছিল জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে এ জোটে রয়েছে বিএন‌পি, গণ‌ফোরাম, নাগ‌রিক ঐক্য, জেএস‌ডিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

১৩ অক্টোবর, শ‌নিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মি‌নি‌টে জাতীয় প্রেসক্লা‌বে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে ৭ দফা দা‌বি ও ১১ দফা লক্ষ্য নি‌য়ে জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্টের ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অ‌ভিন্ন ৭ দফা ও ১১ দফা লক্ষ্য প‌ড়ে শোনান।

মান্না ব‌লেন, ‘দীর্ঘ‌দিন ধ‌রে জাতীয় ঐক্য প্র‌ক্রিয়ার স‌ঙ্গে এ‌গি‌য়ে আসা‌য় আজ‌ আনন্দের প‌রিণ‌তি হ‌য়ে‌ছে। এর মাধ্য‌মে প্রত্যয় ঘোষণা করছি স্বৈরত‌ন্ত্রের বিরু‌দ্ধে লড়াই শুরুর। বিস্তা‌রিত কর্মসূ‌চি ধী‌রে ধী‌রে দেওয়া হ‌বে।‌’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবিগুলো হলো:

১. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।

২. গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

৩. বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

৪. কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের অভিযোগে ছাত্র-ছাত্রী সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব কালো আইন বাতিল করতে হবে।

৫. নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।

৬. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোট কেন্দ্র, পুলিং বুথ, ভোট গণনাস্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশের ওপর কোনো প্রকার বিধি-নিষেধ আরোপ না করা। নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে।

৭. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও কোনো ধরনের নতুন মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১১ দফা লক্ষ্য হলো:

১. মহান মুক্তিসংগ্রামের চেতনাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান স্বেচ্ছাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসান করে সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক, শোষণমুক্ত ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা। এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতা অবসান কল্পে সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়নসহ প্রশাসন বেকেন্দ্রীকরণ ও ন্যায়পাল নিয়োগ করা।

২. ৭০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের যুগোপযোগী সংশোধন করা। জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাসহ সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানসমূহের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, সৎ-যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দানের জন্য সাংবিধানিক কমিশন ও সাংবিধানিক কোর্ট গঠন করা।

৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের নীতিমালা প্রণয়নে ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা।

৪. দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা। দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জাবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন।

৫. দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি, বেকারত্বের অবসান ও শিক্ষিত যুব সমাজের সৃজনশীলতাসহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়োগ দানের ক্ষেত্রে মেধাকে যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কোটা সংস্কার করা।

৬. সব নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিয়তা বিধান করা। কৃষক-শ্রমিক ও দরিদ্র জনগণের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।

৭. জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কালো থাবা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন করা।

৮. রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, জনগণের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বণ্টন, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণ ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। নিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবন মান নিশ্চিত করা ও দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন-মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা।

৯. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল ও কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়া।

১০. সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব-কারও সাথে শত্রুতা নয়- এই নীতির আলোকে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

১১. বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে ফেরত ও পুনর্বাসনের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমর-সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা।

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. কামাল হো‌সেন, আ স ম আবদুর রব, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মোস্তফা মহসীন মন্টু, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, আ ব ম মোস্তফা আ‌মিন, অ্যাড‌ভো‌কেট সুব্রত চৌধুরী, আবদুল মা‌লেক রতন, অ্যাড‌ভো‌কেট আলতাফ হো‌সেন, অ্যাড‌ভো‌কেট জগলুল হায়দার, আ ও ম শ‌ফিক উল্লাহ, মোস্তাক আহমদ প্রমুখ।

প্রিয় সংবাদ/নোমান/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
খাসোগি হত্যায় প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
আশরাফ ইসলাম ২২ অক্টোবর ২০১৮
‘আইন মেনে চলব, নিরাপদ সড়ক গড়ব’
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ২২ অক্টোবর ২০১৮
১৯ মাস পর ঘোড়াশালে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ২২ অক্টোবর ২০১৮
ট্রাকচাপায় বাবার পর আহত ছেলের মৃত্যু
কাঞ্চন কুমার ২২ অক্টোবর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
ট্রেন্ডিং