চাকরিপ্রার্থী বাছাই করার ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারের চেষ্টা করছে টেক কোম্পানিগুলো। ছবি: সংগৃহীত

নতুন কর্মী বাছাই করতে গিয়ে বিরাট ভুল করে ফেলল আমাজনের এআই

লিঙ্গবৈষম্য এবং অযোগ্য প্রার্থী বাছাই করার কারণে এই প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ২৩:৪৬
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ২৩:৪৬


চাকরিপ্রার্থী বাছাই করার ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারের চেষ্টা করছে টেক কোম্পানিগুলো। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বড় টেক কোম্পানিগুলোতে চাকরির জন্য প্রচুর আবেদন জমা পড়ে। এত আবেদনের মধ্যে থেকে যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়াটা বেশ কঠিন। কাজটিকে সহজ করতে অ্যামাজন কোম্পানিটি এক এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে নিয়োগ দিয়েছিল।  কাজ সহজ করা তো দুরের কথা, সেই এআই বিশাল এক ভুল করে ফেলে।

তবে এই সমস্যার মুলে যাওয়ার জন্য আমাদের জানতে হবে বছর দুয়েক আগের কথা, যখন মাইক্রোসফট ‘টেই’ নামের একটি এআই তৈরি করে এবং তাকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে দেয়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্য সবার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ওই এআই শীঘ্রই হোয়াইট সুপ্রিমাসি (শ্বেতাঙ্গরা শ্রেষ্ঠ এমন ধারণায় বিশ্বাসী) এবং নাৎসি ভাবধারায় বিশ্বাসী হয়ে যায়। এমনকি সে পোস্ট করা শুরু করে, ‘হিটলারই ঠিক বলেছিল’, এবং ‘আমি নারীবাদীদের ঘৃণা করি, তাদের মরে যাওয়া উচিত, নরকে পোড়া উচিত’, এসব বলতে শুরু করে। এরপর তাকে দ্রুত ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বর্ণবাদ ও লিঙ্গবৈষম্য ইন্টারনেটে অহরহই দেখা যায়।  এআইদের মাঝেও এ সমস্যাগুলো সংক্রমিত হয়।

২০১৪ সাল থেকে নতুন কর্মী নিয়োগে এআই ব্যবহারের চেষ্টা করছিল অ্যামাজন।  মূলত এমন একটি এঞ্জিন তৈরির চেষ্টা করে তারা, যেখানে ১০০টি আবেদনপত্র দেওয়া হলে তার মাঝে সবচেয়ে ভালো ৫টি আবেদনপত্র বের করে আনা যাবে।

আমাজনের ডজনখানেক এঞ্জিনিয়ার এমনই একটি এআই প্রোগ্রাম তৈরি করে যা সবচেয়ে ভালো প্রার্থী খুঁজে বের করতে পারবে এবং এক থেকে পাঁচ তারা পর্যন্ত রিভিউ দিতে পারবে।  এর জন্য ওই এঞ্জিনিয়াররা অতীতের চাকরিপ্রার্থীদের আবেদনপত্র থেকে ৫০ হাজার শব্দ শেখায় এআইটিকে।  

সমস্যা হলো, অতীতের বেশিরভাগ প্রার্থীই ছিলো পুরুষ, এবং তখন কোম্পানিতে নারীর তুলনায় পুরুষ কর্মী নিয়োগ করা হতো বেশি।  অতীতের উদাহরণ থেকে শিক্ষা নেবার কারণে ওই এআই এমন সব আবেদনকারীকে প্রাধান্য দেয় যারা পুরুষ।  কোনো আবেদনপত্রে যদি বোঝ যায় যে তিনি নারী, তবে ওই আবেদনপত্র প্রত্যাখ্যান করতে থাকে এআইটি।

লিঙ্গবৈষম্য এবং অযোগ্য প্রার্থী বাছাই করার কারণে এই প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রয়টার্সকে অ্যামাজন জানায়, কখনোই প্রার্থী নিয়োগে ওই এআইকে ব্যবহার করা হয়নি। শুধু পরীক্ষামূলকভাবে তাকে চালানো হয়েছিল। তার একটি কম শক্তিশালী প্রকরণ ব্যবহার করা হতে পারে একই আবেদনপত্র দুইবার থাকলে তা মুছে দেওয়ার কাজে।  এছাড়া অ্যামাজনে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষের বৈচিত্র্য বাড়ানোর জন্য আরও একটি এআই এরপর নিয়ে আসা হতে পারে।  তবে শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর করে কাউকেই নিয়োগ দেওয়া হবে না, এত শক্তিশালী প্রযুক্তি এখনো আসেনি।

সূত্র: আইএফএলসায়েন্স

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
‘এসডিজি’ নিয়ে প্রতিযোগিতার আবেদন গ্রহণ শুরু
‘এসডিজি’ নিয়ে প্রতিযোগিতার আবেদন গ্রহণ শুরু
বাংলা ট্রিবিউন - ২ দিন, ১৫ ঘণ্টা আগে
নিরাপত্তার আবেদন নিয়ে ইসিতে হাফিজউদ্দিন
নিরাপত্তার আবেদন নিয়ে ইসিতে হাফিজউদ্দিন
মানবজমিন - ২ দিন, ১৫ ঘণ্টা আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হুমকি নাকি সম্ভাবনা?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হুমকি নাকি সম্ভাবনা?
https://www.prothomalo.com/ - ২ দিন, ১৬ ঘণ্টা আগে