অভিন্ন সাত দফা দাবি আর ১১ লক্ষ্যের কথা জানিয়ে নতুন প্লাটফর্ম জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা। ছবি: প্রিয়.কম

যে কারণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বি চৌধুরী বিচ্ছিন্ন

অসুস্থতার জন্য বদরুদ্দোজা চৌধুরী উপ‌স্থিত হ‌তে পা‌রে‌ননি বলে জানান জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৪৬
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৫৬


অভিন্ন সাত দফা দাবি আর ১১ লক্ষ্যের কথা জানিয়ে নতুন প্লাটফর্ম জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) সরকারবি‌রোধী সমমনা রাজ‌নৈ‌তিক দল ও জোটগু‌লো অব‌শে‌ষে তা‌দের সমন্ব‌য়ে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ না‌মে নতুন জোটের একটি প্লাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘ‌টেছে।

নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীদের মুক্তি চেয়ে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামে নতুন এ জোটের আত্মপ্রকাশ হয়। তবে সেই নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত যুক্তফ্রন্ট ও বিকল্পধারার নেতৃত্বে থাকা সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী

১৩ অক্টোবর, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার হলরুমে অভিন্ন সাত দফা দাবি আর ১১ লক্ষ্যের কথা জানিয়ে জোটের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না

এর আগে শনিবার দুপুরে নিজ চেম্বারে এক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মুহম্মদ মনসুর, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব মোস্তফা আমিন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীসহ আব্দুল মালেক রতন, অ্যাডভোকেট আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার, আ স ম শফিকুল্লাহ. মোস্তাক আহমেদ ও ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। বৈঠকটি সাড়ে ৫টায় শেষ হয়। সেখান থেকে নেতারা সরাসারি প্রেসক্লাবে আসেন। বৈঠকে না থাকলেও প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ

ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ছবি: প্রিয়.কম

জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রশ্ন নেওয়া হবে বলে জানানো হলেও ডা বদরুদ্দোজা চৌধুরীর না আসায় বিব্রতকর পরিস্থিতি সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কায় পরবর্তী সময়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জড়িত সুলতান মোহাম্মাদ মুনসুর উপস্থিত সংবাদমাধ্যম কর্মীদের জানান, কোনো প্রশ্ন নেওয়া হবে না।

তবে বক্তব্য দিতে গিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ৭১ সা‌লের মু‌ক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালি জা‌তির ইতিহা‌সে সব‌চে‌য়ে বৃহত্তর ঐক্য।‌ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভা‌বে ৭২ সা‌লে দলীয় সরকার কা‌য়ে‌মের ম‌ধ্যে দি‌য়ে সেই মহান জাতীয় ঐক্য‌কে হত্যা করা হ‌য়ে‌ছে। তাই সুদীর্ঘ ৪৭ বছর প‌রে আজ‌কে জা‌তি আবারও ঐক্যবদ্ধ হ‌য়ে‌ছে ড. কামাল হো‌সে‌ন ও বদরু‌দ্দেজা চৌধুরীর নেতৃ‌ত্বে। অসুস্থতার জন্য বি চৌধুরী এখা‌নে উপ‌স্থিত হ‌তে পা‌রে‌নি, সে জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ কর‌ছি।

অথচ ঠিক একই সময়ে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বারিধারায় তার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেকে অসুস্থ নয় দাবি করেছেন। এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিকল্পধারার মাহবুব আলী, ব্যা‌রিস্টার ওমর ফারুক, হা‌ফিজুর রহমান ঝান্টু, ওবা‌য়েদুর রহমান মৃধা, আসাদুজ্জামান বাচ্চু ও বিএম নিজাম প্রমুখ।

একই সঙ্গে বি চৌধুরী বলেন, ‘আমরাও ঐক্য চাই, জাতীয় ঐক্য চাই। কিন্তু এ ব্যাপারে আমা‌দের দু‌টো দা‌বি ছিল, যার কোনোটাই মানা হয়‌নি। তাই আমরা এই জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্টের স‌ঙ্গে নাই। দুটি শর্ত পূরণ হলেই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে বিকল্পধারা। বিএনপিকে এককভাবে ক্ষমতায় বসানোর চক্রান্তে বিকল্পধারা নেই। এমন‌কি জনগণকে ধোঁয়াশায় রেখে বর্তমান বিএনপির সঙ্গে বিকল্পধারা আর কোনো বৈঠকের সুযোগ দেবে না।’

শর্ত দুটি প্রসঙ্গে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে কোনো ঐক্য প্রক্রিয়ায় আমরা যুক্ত হব না। আমরা ভারসাম্যের রাজনীতি চাই। কোনো একক দলের আধিপত্য চাই না। এ দুটি বিষয়ে আমরা বিএনপির সঙ্গে একমত হতে পারিনি।’

‘আমরা বলেছি মু‌ক্তিযু‌দ্ধের প‌ক্ষে যারা থাক‌বে তা‌দের নি‌য়ে ঐক্য গ‌ড়ে তুল‌তে, কারণ যারা বাংলা‌দে‌শের মান‌চিত্র বিশ্বাস ক‌রে না তা‌দেরকে চাই না এবং রাজ‌নৈ‌তিক ও ক্ষমতার ভারসাম্য। একক সংখ্যাগ‌রিষ্ঠতা নি‌য়ে যা‌তে কেউ ক্ষমতায় না আস‌তে পা‌রে।’

সংবাদ সম্মেলনে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনেন বি চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক আগে থেকেই ঐক্য প্রক্রিয়ার কাজ করে যাচ্ছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় বিকেলে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় আমন্ত্রণ জানানো হয় বৈঠকের। সেই বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যের ঘোষণা দেওয়ার কথা। কিন্তু বিকেলে আমি তার বাসার সামনে গিয়ে ১৪ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করেছি। কিন্তু তিনিও বাসায় ছিলেন না, দরজা খোলারও কোনো লোক ছিল না। ভেতরে নিয়ে বসিয়ে যে এক কাপ চা খাওয়াবে সে লোকটাও পর্যন্ত ছিল না।’

‘অপেক্ষা শেষে যখন ফিরে আসছিলাম তখন তার দলের মহাসচিব মোস্তফা মহসিন মন্টু ফোন দিয়ে বলেন যে, আপনারা মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে চলে আসেন। কিন্তু তবুও ড. কামাল এখন পর্যন্ত (রাত ৮টা) একটা ফোনও করেনি। তিনি তো বলতে পারতেন, সরি... আমি একটা জরুরি কাজে চলে এসেছি। বড় ভাই আপনি বসে এক কাপ চা খান, আমি আসছি। কিন্তু তিনি এটা বলার কোনো প্রয়োজনই মনে করেননি। কাজেই সাধারণভাবেই প্রশ্ন ওঠে- এটা কি তাদের পরিকল্পিত?’

মাহী বি চৌধুরী।
মাহী বি চৌধুরী। ছবি: প্রিয়.কম

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখনও জাতীয় ঐক্য থেকে সরে যাইনি, আর তারা আমাদের বাদ দিয়েছেন কি না তা-ও জানি না। যদি বাদ দিয়ে থাকেন, তাহলে তো অবশ্যই পরিষ্কারভাবে জানাবেন। তবে আমাদের কথা পরিষ্কার- বিএনপি বা কোনো দলকে এককভাবে ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্য নিয়ে আমরা কোনো ঐক্য করব না।’

জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ না করায় বিএনপির সমালোচনা করে মাহী বি চৌধুরী বলেছেন, ‘বিএনপি এখানে জাতীয় ঐক্য করে, আর ২০ দলীয় জোটে জামায়াতের সঙ্গে পরকীয়া করে। অন্যদিকে জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব আর নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার মূল বিয়ে হচ্ছে এখানে- যুক্তফ্রন্টে। আর তাদের পরকীয়া হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে।’

গত চার-পাঁচ বছরের মধ্যে অন্তত সাতবার এক সঙ্গে হাত ধরে জাতীয় ঐক্য গড়ে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিকল্পধারা সভাপতি বি চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এ জন্য বি চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট নামে একটি জোটও গঠিত হয়।

এরপর গত ২২ সেপ্টেম্বর ড. কামাল হোসেনের ডাকে গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশেও যোগ দেন বি চৌধুরীসহ বিকল্পধারার নেতারা। ওই বৈঠকে বিএনপির মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সিনিয়র নেতা অংশ নেন। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর বি চৌধুরীর বাসায় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের এক বৈঠকে নিজেদের শর্ত উপস্থাপন করে বিকল্পধারা। সেখানে ঐক্য গড়তে দুটি শর্তকে প্রাধান্য দেন বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী।

এদিকে ‘গণতন্ত্র ফেরাতে’ বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করবে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া’, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ আরও কয়েকটি দল। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও পেশাজীবীদের এতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এই নতুন জোটের বাইরে থাকছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: প্রিয়.কম

প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূচনা হলো। নতুন স্বপ্নের সূচনা হলো। আমরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছি। এবার নতুন আঙ্গিকে লড়াই শুরু হলো। বিশ্বাস করি এই লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে মুক্তি মিলবে। আমরা শপথ নিয়েছি গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব। অনেকে এই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বাইরে রয়েছেন। তাদের কাছে আহ্বান, আসুন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের বাংলাদেশ গঠনে সম্পৃক্ত হই।’

এর আগে শনিবার বেলা ৩টা থেকে রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ভবনের তৃতীয় তলায় ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের কয়েক দফা বৈঠক হয়। বিকেল ৫টায় রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় ওই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বদরুদ্দোজা চৌধুরী ড. কামাল হোসেনের বাসায় গিয়ে কাউকে না পেয়ে ফিরে যান। কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারের বৈঠকেও ছিলেন না যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

১৩ অক্টোবর, শনিবার রাতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ‌বিকল্পধারার একজন দা‌য়িত্বশীল নেতা প্রিয়.কম‌কে বলেন, ঐক্যবদ্ধ হতে গেলে আগে নি‌জে‌দের ম‌ধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস সৃ‌ষ্টি কর‌তে হয়। আস্থা ও বিশ্বাসহীনতার স‌ঙ্গে বি চৌধুরী থাক‌তে পা‌রেন না। সে‌ ক্ষে‌ত্রে বিএন‌পি‌কে আ‌গে তা‌দের সুস্পষ্টতার মু‌খোশ উ‌ন্মোচন কর‌তে হ‌বে। তারা মুখে বলছে এক কথা, আর বাস্তবে আমরা আছি আছি বলে বেড়াচ্ছে। তা ছাড়া নিজ দ‌লেরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাক‌তে পা‌রে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণার সময় অনুপ‌স্থিত থাকা মা‌নে এই নয় যে, বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট বা বিকল্পধারা জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্টের স‌ঙ্গে নেই।

বিকল্পধারার এই নেতা আরও জানান, দুপু‌রে ড. কামাল হো‌সেনের স‌ঙ্গে তার বাসায় বি চৌধুরীর বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বি চৌধুরী উপ‌স্থিত হ‌লেও ছি‌লেন না ড. কামাল। কেউ য‌দি দাওয়াত দি‌য়ে নি‌জেই বাসায় না থা‌কেন, তা হ‌লে অতিথির কিই বা করার থাকে? প্র‌ত্যে‌কের তো একটা মান -সম্মান থাক‌তে পা‌রে সেই বি‌বেচনাটাও তো রাখা উচিত? ঐক্য নিয়ে এতো তড়িঘড়ি কিংবা লুকোচুরির কিছু নাই।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বি চৌধুরীর না থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রিয়.কম‌কে ব‌লেন, ‘রাজনীতিতে অনেক সময় অনেক কিছুই হয়। কাজেই এটাকে বড় করে না দেখলেও চলবে। রাজনী‌তি‌তে যুগ যুগ ধ‌রেই এই ধর‌নের সংস্কৃ‌তি চালু আছে। তাই অনুষ্ঠানে বি চৌধুরীর আসা, না আসা তার নিজস্ব ব্যাপার। এটা নিয়ে প্রশ্ন করাটাই অবান্তর।’

এদিকে জনগণের ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে সব রাজনৈতিক দাবি আদায় করেছিলেন, সেটিকে পাথেয় হিসেবে নিয়ে আন্দোলনে সফল হতে চান নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন।

নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেন তার বক্তব্যের শুরুতে একাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কীভাবে পরিস্থিতি সাহসের সঙ্গে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করেছেন, তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাকে কিছু না দিলেও একটি জিনিস দিয়েছেন, শিখিয়েছেন, সেটি হচ্ছে কীভাবে জনগণের ওপর নির্ভর করে দাবি আদায় করতে হয়।’

‘তার শক্তি ছিল জনগণের শক্তি। বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কেউ তাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। এটা অতীতে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। কেউ যদি বলে আপনাকে গুলি করব, করুক। আমি ভয় পাই না। বঙ্গবন্ধু শিখিয়েছেন একজন মুসলমান হিসেবে যখন মৃত্যু আসবে, তখনই মৃত্যু হবে। এর আগেও না, পরেও হবে না।’

সরকারের উদ্দেশে বর্ষীয়ান এই আইনজীবী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সংবিধানে স্পষ্ট লেখা আছে, এই দেশের মালিক জনগণ, গণতন্ত্র তাদের অধিকার। সুতরাং বৈধভাবে একটি সরকার গঠন করতে হলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। একজন ক্ষুদ্র আইনজীবী হিসেবে আমি সেটি বুঝি।’

ড. কামাল হোসেন।
ড. কামাল হোসেন। ছবি: প্রিয়.কম

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সব দল-মত, পেশাজীবীদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান ড. কামাল। তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের ঐক্য হলে দুর্নীতিবাজরা পালিয়ে যাবে। তারা পালিয়ে যাক। আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের যেন বাধা দেওয়া না হয়।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নতুন এই জোট গঠনের দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে এই জোট টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে থাকবে। স্বৈরাচারী সরকারকে হটাতে একমাত্র অস্ত্র এই জাতীয় ঐক্য।’

সংবাদ সম্মেলনে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘জনগণ প‌রিবর্তন চায়। প্র‌তি‌টি জায়গায়-মহল্লায়-রাস্তায় প‌রিবর্তন চায়।‌ কি‌সের জন্য পরিবর্তন? কৃষক তার উৎপা‌দিত মূ‌ল্যের স‌ঠিক মূ‌ল্যে পা‌বে। শ্র‌মিক এমন মজুরি পা‌বে, যা‌তে সে বেঁচে থাক‌তে পা‌র‌বে। গরিবের চি‌কিৎসা, বাসস্থা‌নের নি‌শ্চিত করা। এই ল‌ক্ষ্যেই আজ‌কে আমা‌দের পদযাত্রা।’

‘স্বৈরশাসন, অপশাসনের বিরুদ্ধেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আপনা‌দের সবার সহ‌যো‌গিতায় আগামী সুন্দর বাংলা‌দে‌শের স্বপ্ন বাস্তবা‌য়িত হ‌বে। যেখা‌নে হিংসা-প্র‌তি‌হিংসা থাক‌বে না, অত্যাচার থাক‌বে না, অকার‌ণে গায়েবি মামলা থাক‌বে না। ভ‌বিষ্য‌তের প্র‌তি‌ষ্ঠিত সরকার য‌দি বর্তমান সরকা‌রের ম‌তো ভুল ক‌রে, তাহ‌লে জনগণ‌কে নি‌শ্চিত কর‌তে চাই, সে‌ ক্ষে‌ত্রে আর কেউ না হ‌লেও আ‌মি একলা হ‌লেও রাজপ‌থে থাকব।’

শনিবার দুপুরে মতিঝিলে ড. কামালের চেম্বারে বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন নেতা প্রিয়.কমকে বিকল্প ধারার ব্যাপারে এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বিকল্প ধারাকে বাদ দিয়েই শেষমেষ জাতীয় ঐক্য হচ্ছে। সাত দফা দাবি ও ১১ টি লক্ষ্যে একমত পোষণ করে ঘোষণা করা হবে নতুন জোট। ফলে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকেই সবার কাছে পরিষ্কার হয় বৃহত্তর ঐক্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান বি চৌধুরী হয়তো থাকছেন না। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যখন ড. কামাল হোসেনের বাড়ি এসে গেট থেকে ফিরে যান বি চৌধুরী।

ড. কামাল হোসেনের বাসার গেট থেকে ফিরে যাওয়ার সময় মাহী বি চৌধুরী জানান যে, আমন্ত্রণ করে এনে দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিকের সঙ্গে দেখা না করা শিষ্টাচারবহির্ভূত। বোঝা যাচ্ছে, কাদের কারণে জাতীয় ঐক্য হলো না।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভাষ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বরের সমাবেশের পরই তারা অনেকটাই নিশ্চিত হয় বিকল্প ধারা চলমান ঐক্যে থাকছে না। সর্বশেষ আ স ম রবের বাসার বৈঠকে বিকল্প ধারার মহাসচিব অবসরপ্রাপ্ত মেজর মান্নানের সঙ্গে আবদুর রবের তর্কের পর বিষয়টি আরও ত্বরান্বিত হয়। বৈঠকে বিকল্প ধারার নেতারা বলেছিলেন, জামায়াতকে বাদ না দিলে বিএনপির সঙ্গে তাদের কোনো ঐক্য হবে না। আর জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, গণফোরামের নেতারা বলেছিলেন, ঐক্যতে জামায়াত নেই। তা ছাড়া বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে কী করবে, সেটা তাদের ব্যাপার।

ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে যেভাবে সাত দাবি ও ১১ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে বাদ সেধেছেন বিকল্পধারার সভাপতি বি চৌধুরী। গত শুক্রবারের বৈঠকে দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীও আপত্তি তোলেন।

তখন ঐক্য প্রক্রিয়ার কয়েকজন নেতা বলেছিলেন, নির্বাচন সন্নিকটে। হাতে সময় খুব কম। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত বিকল্প ধারাকে বাদ রেখেই হয়তো ঐক্য করতে হবে। আর তাই যেন ড. কামাল হোসেন বি চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেননি।

প্রিয় সংবাদ/হিরা/শিরিন/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
ইশ‌তেহা‌রে প্র‌তি‌শোধ না নেওয়ার অঙ্গীকার বিএন‌পির
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
‘আমরা আজ আতঙ্কিত এ দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকবে কি না’
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮
ঐক্যবদ্ধ জনগণের বিজয় অনিবার্য: ড. কামাল
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮
কামালের ওপর হামলা, ইসিকে বিএনপির চিঠি
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
ড. কামালের দুঃখ প্রকাশ
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
মরে গেলেও ভোট বর্জন করবো না: ড. কামাল হোসেন
মরে গেলেও ভোট বর্জন করবো না: ড. কামাল হোসেন
বাংলা ট্রিবিউন - ১ দিন, ১ ঘণ্টা আগে
ড. কামাল হোসেন সিলেট যাচ্ছেন
ড. কামাল হোসেন সিলেট যাচ্ছেন
জাগো নিউজ ২৪ - ৬ দিন, ২৩ ঘণ্টা আগে
ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে অংশ নেবেন না
ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে অংশ নেবেন না
সমকাল - ২ সপ্তাহ, ৪ দিন আগে
কেন নির্বাচন করছেন না ড. কামাল হোসেন
কেন নির্বাচন করছেন না ড. কামাল হোসেন
বিবিসি বাংলা - ২ সপ্তাহ, ৫ দিন আগে
ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না
ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না
https://www.prothomalo.com/ - ২ সপ্তাহ, ৫ দিন আগে
সিইসির পরিবর্তন চান ড. কামাল হোসেন
সিইসির পরিবর্তন চান ড. কামাল হোসেন
বণিক বার্তা - ৩ সপ্তাহ, ১ দিন আগে

loading ...