সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ। ফাইল ছবি

চোখ হারানো ১৭ জনকে ১০ লাখ করে দেওয়ার নির্দেশ

এই ১০ লাখ টাকার মধ্যে ৫ লাখ দেবে ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৩৭ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:৩২


সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) চুয়াডাঙ্গার ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের চক্ষু শিবিরে চোখের ছানির অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণে চোখ হারানো ২০ ব্যক্তির মধ্যে ১৭ জনকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

২১ অক্টোবর, রবিবার এ বিষয়ে জারি করা এক রুলের নিষ্পত্তি করে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এই ১০ লাখ টাকার মধ্যে ৫ লাখ দেবে ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার। আর বাকি ৫ লাখ দেবে এই চক্ষু শিবিরে ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইরিশ।

বাকি তিন ভুক্তভোগীকে আজীবন চোখের বিষয়ে সেবা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ নির্দেশ পালন করবে ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার।

রায় হাতে পাওয়ার এক মাসের মধ্যে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়, চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবহেলার ঘটনা ঘটলে তার পর্যবেক্ষণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ওই কমিটিতে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট অথবা প্যাথলজিস্ট, একজন লিগ্যাল এক্সপার্ট অথবা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বেসরকারি মেডিকেলের একজন চিকিৎসকসহ সাত সদস্য থাকবে।

আদালত থেকে বেরিয়ে রিট আবেদনকারী আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত প্রিয়.কমকে জানান, ইমপ্যাক্ট কর্তৃপক্ষের চক্ষু শিবিরের আয়োজনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে চোখের অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।

তিনি জানান, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল আদালত। এ ছাড়া যে চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করেছেন, তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

অমিত আরও বলেন, ‘এটি একটি নজিরবিহীন রায়। এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট।’

চুয়াডাঙ্গার তিন দিনের চক্ষু শিবিরের দ্বিতীয় দিন ৫ মার্চ ২৪ জন নারী-পুরুষ চোখের ছানি অস্ত্রোপচার করতে যান। এর দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহীন। এই শিবির থেকে বাসায় ফিরেই ২০ রোগীর চোখে সংক্রমণ হয়। এ কারণে চোখ তুলে ফেলতে হয় তাদের।

এ ঘটনাটি নিয়ে ২৯ মার্চ একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সেদিনই প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

চুয়াডাঙ্গার ওই ঘটনায় ২০ নাগরিকের চোখ হারানো মর্মান্তিক বলে অভিহিত করে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করতে বলেছিল হাইকোর্ট।

সে অনুযায়ী ১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি রিট আবেদন করেন।

স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি), চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহীনসহ ১০ জনকে বিবাদী করা হয় রিটে।

প্রিয় সংবাদ/হিরা/আজহার

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
আশুলিয়ায় আয়কর মেলা উদ্বোধন
আবদুল কাইয়ুম ১৮ নভেম্বর ২০১৮
থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে নিষেধাজ্ঞা
প্রিয় ডেস্ক ১৮ নভেম্বর ২০১৮
উ‌ন্মো‌চিত হ‌লো ‘খা‌লেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টো‌রি’
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ১৮ নভেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
চোখের পাপড়ির যত্নে
চোখের পাপড়ির যত্নে
https://www.prothomalo.com/ - ২ সপ্তাহ, ৪ দিন আগে
'বন্ধু তোমার চোখের মাঝে চিন্তা খেলা করে'
'বন্ধু তোমার চোখের মাঝে চিন্তা খেলা করে'
https://www.prothomalo.com/ - ২ সপ্তাহ, ৬ দিন আগে
রানুর চোখের রহস্যে মিসির আলী মিসিং
রানুর চোখের রহস্যে মিসির আলী মিসিং
নয়া দিগন্ত - ২ সপ্তাহ, ৬ দিন আগে
ট্রেন্ডিং