জেনেভায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা-দক্ষতা উন্নয়নে দরকার আরও বিনিয়োগ: রাষ্ট্রপতি

‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডায় প্রতিশ্রুতির বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

জানিবুল হক হিরা
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ২২:০৮ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ২২:০৯
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ২২:০৮ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ২২:০৯


জেনেভায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ছবি: সংগৃহীত

(বাসস) মানবসম্পদ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে আরও বেশি করে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ

২৩ অক্টোবর, মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নেতাদের বিনিয়োগ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।

২২ অক্টোবর থেকে জেনেভায় পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি অগ্রাধিকারভিত্তিক বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার মাধ্যমে সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেশি বিনিয়োগ করতে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডায় প্রতিশ্রুতির বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।’

বিশ্বায়নের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিংশ শতাব্দীতে প্রযুক্তির অসাধারণ অগ্রগতি হয়েছে। এর ফলে যে যোগাযোগ বেড়েছে, তা পণ্য ও সেবা স্থানান্তরে বিপ্লব ঘটিয়েছে। তবে এর সুফল সবার কাছে সমভাবে পৌঁছায়নি। বিশ্বায়ন থেকে যাতে বেশিসংখ্যক মানুষ সুফল পেতে পারে, সে জন্য বিনিয়োগ নীতি সময়োপযোগী করতে হবে।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাডের ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট-২০১৮-এর উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘২০১৭ সালে বৈশ্বিক এফডিআই ২৩ শতাংশ কমেছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ২০১৬ সালে এফডিআাই ১০ শতাংশ কমার পর আর পুনরুদ্ধার হয়নি। স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে গত বছরে এফডিআই ১৭ শতাংশ কমেছিল। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে সুষ্ঠুভাবে উত্তরণের জন্য একটি যৌক্তিক সময় পর্যন্ত আবিষ্কারভিত্তিক ব্যবস্থা রেখে আমাদের সহায়তা করা প্রয়োজন। আমাদের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা এবং টিআরআইপি চুক্তির ৬৬.২ ও ৬৭ ধারার আলোকে বেসরকারি এফডিআই থেকে প্রযুক্তি সহায়তা বৃদ্ধি আবশ্যক।’

উন্মুক্ত আলোচনায় এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল ও অনুধাবনযোগ্য কাঠামো গঠনের ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, ‘এসব ও অনুরূপ অন্যান্য পদক্ষেপ এলডিসিতে আরও বেশি এফডিআই প্রবাহ নিশ্চিত করবে, যা ২০৩১ সাল নাগাদ এসডিজি বাস্তবায়নে ব্যাপক সহায়তা দেবে।’

প্রতিবেশী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক নৃশংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা ও দীর্ঘদিন এখানে থাকা ১১ লাখ রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে আবদুল হামিদ বলেন, ‘এ বিষয়টি এ দেশের অর্থনীতি ও সমাজে ব্যাপক ক্ষতি করছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ, সম্প্রীতি ও অগ্রগতি বজায় রাখতে এখনো নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘‘সোনার বাংলা’’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে; বিশেষ করে তরুণ ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং সঠিক বিনিয়োগের বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’

‘আমরা ২০২১ সাল নাগাদ একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত দেশে পরিণত হতে যাচ্ছি।’

প্রিয় সংবাদ/হিরা/আজহার

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...