কিশোর পলাশ। ছবি: শামছুল হক রিপন। প্রিয়.কম

‘মানুষ ভালো কাজের মাধ্যমে শুধু আমার নামটা জানুক’

কিশোর পলাশ। ২০০৪ সাল থেকেই গাইছেন নিয়মিত। ২০১২ সালের পর গানকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। গেয়েছেন প্রায় ৮০টির মতো মৌলিক গান।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:৪৪
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:৪৪


কিশোর পলাশ। ছবি: শামছুল হক রিপন। প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) কিশোর পলাশ। ২০০৪ সাল থেকেই গাইছেন নিয়মিত। ২০১২ সালের পর গানকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। গেয়েছেন প্রায় ৮০টির মতো মৌলিক গান। ‘ভাঙা তরী ছেঁড়া পাল’ গান গেয়ে খ্যাতি পাওয়া এই শিল্পীর মতে, বাংলাদেশে প্রাধান্য পাচ্ছে না মৌলিক গান।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রিয়.কমে এসেছিলেন এ শিল্পী। সে সময় তিনি ক্যারিয়ার, সংগীত শিল্পের বর্তমান হালচাল ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

আলাপকালে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের তারকাদের মর্যাদা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন কিশোর পলাশ। তার ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যেখানে গুণীর সমাদর হয় না। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা আর কিছু অসাধু প্রডিউসারের (প্রযোজক) কারণে এ অবস্থাটা তৈরি হয়েছে।’

‘যার কারণে এখন যারা কপি-পেস্ট করে গান করছে, তারা ইন্ডাস্ট্রিতে ঢোকার সময় বেশ হইচই হলেও একটা সময় পর গিয়ে তারা হারিয়ে যাচ্ছে। এর জন্য আমরাই দায়ী।’

ছয় বছরের পেশাগত জীবনে লিরিক নিয়ে কিশোর পলাশ এক্সপেরিমেন্টাল কিছু কাজ করেছেন। তবে অতীত হয়ে যাওয়া সময়ের ছক থেকে নিজেকে এখন বের করতে চান। তাই ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে এসে তিনি নিয়েছেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বদল আনতে চান কাজের পরিক্রমায়ও।

‘এখন থেকে যে কাজ করব, তা বুঝে শুনে করব। একটা লেভেলে চলে যাওয়ার পর আর উল্টাপাল্টা কাজ করার সুযোগ নাই। যেটা করব, সেটা যেন মানুষ ওভাবেই গ্রহণ করে। এখন টুকটাক করে গুছিয়ে কাজ করতেছি। আরও কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে কিন্তু কিছুটা সময় লাগে’, বলেন কিশোর পলাশ।

এ শিল্পীর কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘ক্যারিয়ার তো এখন মধ্য গগনে। গুছিয়ে কাজ করার ভাবনাটা কি আরও আগে আসার দরকার ছিল না?’

তরুণ এই শিল্পী বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, মানুষ বিষয়টা দুইভাবে দেখে। একটা হলো ফেস ভ্যালু, আরেকটা নামের ভ্যালু। আমার দরকার নামের ভ্যালুটা বাড়ানো। সে জন্য চেষ্টা করি লাইভ শোতে কম যাওয়া, টিভি চ্যানেলে কম যাওয়া, সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে উঁকি কম দেওয়া। তাতে হয় কী ফেস ভ্যালুর চাইতে নামের ভ্যালুটা বাড়ে বেশি।’

‘আমি চাইছি দীর্ঘদিন মিডল পয়েন্ট থেকে কাজ করতে। ফেস ভ্যালু হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার পর সে মানুষটা বেশি দিন টিকে না। কারণ ওই জায়গাটা নেওয়ার জন্য অন্য কেউ দাঁড়িয়ে থাকে। আমি ওই জায়গাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত না। সবচেয়ে বড় কথা, কোনো আর্টিস্টের যদি ভেতরে কিছু থাকে, সেটা একদিন না একদিন ব্লাস্ট হবেই।’

কিশোর পলাশ মনে করেন বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যেখানে গুণীর সমাদর হয় না। ছবি: প্রিয়.কম

গত ঈদুল আজহাতে ‘উগান্ডা মাসুদ’ নাটকের টাইটেল গান গেয়েছেন কিশোর পলাশ। ঈদের জনপ্রিয় দুই-তিনটি নাটকের একটি এটি। এরপর এ গানটি নিয়ে আলাদা করে সংগীতায়োজন করেছেন এ শিল্পী। জি-সিরিজ থেকে তার ‘সাদা মনের মানুষ’ গানটা শিগগিরই প্রকাশ হবে। এতে মডেল হয়েছেন মোশাররফ করিম ও শবনম ফারিয়া।

বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা নিয়ে এ শিল্পী বলেন, ‘দেলোয়ার আরজুদা শরফের কথায় আর অভি আকাশের সুরে  ‘ঘরের বাত্তি’ নামে একটি গান করছি। এটারও মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হবে। এখন তো ভিজুয়্যালি বেশ চর্চা হচ্ছে। সে জন্যই এ পন্থা।’

‘অনেক তরুণ শিল্পী ইন্ডাস্ট্রিতে আসতেছে। অন্যের কাভার করা গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। একটা সময় গিয়ে আবার হারিয়েও যাচ্ছে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?’

এ বিষয়ে কিশোর পলাশ বলেন, ‘আগে জানাশোনা ও শিক্ষিত আর্টিস্ট ছিল। অনেক শ্রম দেওয়ার পর একজন আর্টিস্টের জন্ম হইত। ওই আর্টিস্টদের আমরা চিনি তার একমাত্র মৌলিক সম্পদের কারণে। কিন্তু বাংলাদেশে এখন অনেক শিল্পী বিভিন্ন ট্যালেন্ট শো থেকে আসছে। আবার ইন্ডাস্ট্রি থেকে একটা সময় গিয়ে হারিয়েও যাচ্ছে।’

‘কারণ এরা তো শিল্পী না। এরা বিভিন্ন জনপ্রিয় শিল্পীর জনপ্রিয় গান কাভার করে ভাইরাল হচ্ছে। তার তো কোনো ক্রিয়েটিভিটি নাই। সে শুধুমাত্র গায়ক। শিল্পী ভিন্ন জিনিস। শিল্পী যা করে, সেটা মৌলিক হয়। নতুন কোনো কিছুর জন্ম দেয়।সে কারণে দীর্ঘ একটা সময় পর্যন্ত সে বিষয়টা নিয়ে মানুষের আগ্রহও থাকে।’

একটা সময় বাংলাদেশে অনেক কালজয়ী গান হয়েছে। কিন্তু গত দুই দশকে বলতে গেলে তেমন কোনো গান হয়নি। না হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে কিশোর পলাশের বক্তব্য, ‘বর্তমানে সংগীতশিল্পীরা সবার আগে দৌড়ায় ফেস ভ্যালুর পিছনে। সে কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। সে তার ভালো কাজের পিছনে দৌড়ায় না।’

‘সে চিন্তা করে কীভাবে খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয় হওয়া যায়। এরপর সে পথও খুঁজেও পায়। আরেকজনের জনপ্রিয় গান কাভার করে জনপ্রিয় হয়। কিন্তু এভাবে তো টিকে থাকা যায় না। যখন সে এটা বুঝতে পারে। তখন আর সময় থাকে না।’

‘আগে তো সবাই মৌলিক গান করত। কেউ কারো গান কাভার করত না। তখন ভালো ভালো গীতিকারদের একটা জায়গা ছিল। এখন তো আর গীতিকার নাই। এখন হচ্ছে, ‘‘একদিন তো মরেই যাব, কিছু একটা লেইখা যাই।’’ পরিচিত যারা আছে, তাদের দিয়ে গান গাওয়ায়।’

‘কিন্তু আমার কাছে সে সুযোগটা নাই। বাংলাদেশে যারা মৌলিক গান নিয়ে কাজ করে, আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, তাদের মধ্যে আমি একজন।’

বর্তমানে পরিস্থিতিতে সংগীতাঙ্গনে ‘সিন্ডিকেট’ কোনোভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে কিশোর পলাশ বলেন, ‘সিন্ডিকেশন পৃথিবীর সব জায়গাতেই আছে। কিন্তু এখন বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, যে যোগ্য, সে কাজটা করতে পারছে না। এটার নেগেটিভ দিক এখন আমাদের ভোগ করতে হচ্ছে।’

এই শিল্পীর মতে, বাংলাদেশে প্রাধান্য পাচ্ছে না মৌলিক গান। ছবি: প্রিয়.কম

এ শিল্পী মনে করেন, সময়ের বদল আর প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে সিন্ডিকেটে এখন কে, কত কাজ করতে পারে, সেটা নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। কিন্তু ভালো কাজের হয় না।

বর্তমান সময়ে সংগীতের রিয়েলেটি শো নিয়ে এই শিল্পী বলেন, ‘এখন গানের যে রিয়েলিটি শোগুলো হচ্ছে, সেগুলো তো এক প্রকার ব্যবসা। আর যে জায়গাতে ব্যবসা আছে, সে জায়গাতে তো ক্রিয়েটিভিটির কোনো চিহ্ন থাকার কথা না।’

কিশোর পলাশ গত বছর নিজের একক অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। এরপর বিরতি কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু মৌলিক গান করি, আমার নির্দিষ্ট শ্রোতা আছে। তারা আমার গানের জন্য অপেক্ষায় থাকে। তাদের জন্য ওই ধরনের গানই লিখতে হয়। আমি যেহেতু ফেস ভ্যালুর পক্ষে না, তাই একটু সময় নিয়ে কাজ করি।’

‘‘‘ভাঙা তরী ছেঁড়া পাল’’-এর পর আপনার কাছ থেকে তো আর তেমন মানের জনপ্রিয় কোনো গান পাওয়া যায়নি?’

‘ওটা তো আমার সিগনেচার ওয়ার্ক। যতদিন বেঁচে থাকব, মানুষ আমাকে এটা দিয়েই চিনবে। এর চেয়ে আমার অন্য কোনো গান বেশি জনপ্রিয় হলেও তারা আমাকে এ নামেই ডাকবে। এটা তো আমার জীবনের বড় একটা পাওয়া’, উত্তরে বলেন কিশোর পলাশ।

নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে শিল্পী কিশোর পলাশ আলাপের শেষ দিকে এসে মূল্যায়ন করছিলেন এভাবেই,‘আমি আমার কাজের জায়গা থেকে স্যাটিসফায়েড। নিজেকে সেভাবেই গড়েছি। আমি এখন যেমন আছি, আমি এমন থাকতেই চেয়েছিলাম। আমি চাই মানুষ ভালো কাজের মাধ্যমে শুধু আমার নামটা জানুক।’

প্রিয় বিনোদন/গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(১)

মন্তব্য করতে করুন


Masoqur Rahman Khan
Masoqur Rahman Khan

Valoe bolce

আরো পড়ুন
দীর্ঘদিনের প্রেমিকার সঙ্গে সিয়ামের বিয়ে
তাশফিন ত্রপা ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
গল্পের প্রসঙ্গ অফিসে যৌন হয়রানি
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
উর্মিলা-শ্যামলের ‘একদিন ভালো থাকি’
তাশফিন ত্রপা ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
মাহাদীর কণ্ঠে ‘বিজয়ের গল্প’
তাশফিন ত্রপা ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
যুদ্ধদিনের মুক্তির গান
যুদ্ধদিনের মুক্তির গান
https://www.prothomalo.com/ - ২ দিন, ১৩ ঘণ্টা আগে
যুদ্ধ জয়ের গান
যুদ্ধ জয়ের গান
https://samakal.com/ - ২ দিন, ২৩ ঘণ্টা আগে
‘বীর’ ছবিতে গান গাইবেন শাকিব খান
‘বীর’ ছবিতে গান গাইবেন শাকিব খান
এনটিভি - ৩ দিন, ৩ ঘণ্টা আগে
বিজয় দিবসের গান | কালের কণ্ঠ
বিজয় দিবসের গান | কালের কণ্ঠ
কালের কণ্ঠ - ৩ দিন, ৫ ঘণ্টা আগে
গান দিয়ে কাজী হায়াতের ‘বীর’ শুরু
গান দিয়ে কাজী হায়াতের ‘বীর’ শুরু
মানবজমিন - ৩ দিন, ৭ ঘণ্টা আগে
বৃদ্ধাশ্রমে গান শোনালেন পাপী মনা
বৃদ্ধাশ্রমে গান শোনালেন পাপী মনা
মানবজমিন - ৩ দিন, ১৩ ঘণ্টা আগে