খুলনা-যশোরের ৯টি পাটকলে মজুদ আছে অবিক্রিত পণ্য। কমছে উৎপাদক্ষমতাও। ছবি: সংগৃহীত

প্রতি মাসে ঈদ বা নির্বাচন হলেই মজুরি পেতেন শ্রমিকরা: সিবিএ নেতা

আবার কবে মজুরি প্রদান করা হবে সে বিষয়ে কেউ জানে না। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দরকার বলে জানিয়েছেন মো. সোহরাব হোসেন।

হাসান আদিল
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০১৮, ১২:২৭ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০১৮, ১২:২৭
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০১৮, ১২:২৭ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০১৮, ১২:২৭


খুলনা-যশোরের ৯টি পাটকলে মজুদ আছে অবিক্রিত পণ্য। কমছে উৎপাদক্ষমতাও। ছবি: সংগৃহীত

(ইউএনবি) কাঁচাপাট সংকটে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি কম হওয়ায় বাড়ছে পণ্যের মজুদ। এ সব পণ্য সময়মতো বিক্রি করতে না পারার কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছে পাটকলগুলো। ঠিকমতো মজুরি পাচ্ছেন না শ্রমিক-কর্মচারীরা।

নির্বাচন বা ঈদ এলেই শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি ও বেতন দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। আর অন্য সময় শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের কার্যকরী আহ্বায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি পাচ্ছে না। বছরের প্রতি মাসে যদি ঈদ বা নির্বাচন থাকতো তাহলে শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি পেত।’

‘খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি ও বেতন প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে ঈদুল আজহার পূর্বে শ্রমিক-কর্মচারীদের আংশিক মজুরি ও বোনাস প্রদান করা হয়েছিল। সর্বশেষ চলতি মাসে শ্রমিক-কর্মচারীদের সব মজুরি ও বেতন প্রদান করা হয়েছে।’

পরে আবার কবে মজুরি দেওয়া হবে সে বিষয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে সোহরাব বলেন, ‘আবার কবে মজুরি প্রদান করা হবে সে বিষয়ে কেউ জানে না। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মৌসুমেই পাটক্রয়ে অর্থ বরাদ্দ এবং উৎপাদিত পাটপণ্য বিক্রির জন্য সংশ্লিষ্টদের তৎপর হওয়া দরকার।’

পাটকলগুলোর সূত্রে জানা যায়, খুলনা-যশোর অঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলীম, জে জে আই ও কার্পেটিং— এই ৯টি পাটকল রয়েছে। এসব পাটকলে স্যাকিং, হেসিয়ান, সিবিসি ও ইয়ার্ন এই চার ধরনের পণ্য উৎপাদন হয়।

চলতি অর্থ বছরে এসব পাটকলে দৈনিক তিন হাজার ৬৫০টি তাঁত চালু রেখে পণ্য উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)। কিন্তু বর্তমানে চালু রয়েছে দুই হাজার ৯৯টি তাঁত। যা লক্ষ্যমাত্রার ৫৭ শতাংশ। ফলে মিলগুলির ৪৭ শতাংশ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে রয়েছে।

এ দিকে বর্তমানে খুলনা যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে মজুদ পণ্যের পরিমাণ ৩৬ হাজার ৫৫ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩১৫ কোটি টাকা।

মিল কর্তৃপক্ষ বলছে, অর্থাভাবে চাহিদামত কাঁচাপাট ক্রয় সম্ভব হচ্ছে না। সম্ভব হচ্ছে না লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদনও।

২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে কাঁচামাল হিসেবে মিলগুলির পাট কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাত লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৬ কুইন্টাল। কিন্তু গত চার মাসে কেনা হয়েছে মাত্র ৮১ হাজার ৬১০ কুইন্টাল। যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১১ শতাংশ। এ বিষয়ে বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ জানায়, উৎপাদিত পণ্য বিক্রি হলে অর্থ সংকট কাটবে।

পাটের এ ঘাটতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে কাঁচা পাটের মৌসুম চলছে। অথচ পাটক্রয়ে অর্থ বরাদ্দ নেই। ফলে এখন স্বল্পমূল্যে পাটক্রয় করতে পারছে না মিলগুলো। পরবর্তী সময়ে বেশি মূল্য দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাট ক্রয় করতে হবে। এতে পাটপণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাবে। লোকসানে পড়বে মিলগুলো।’

ক্রিসেন্ট জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক গাজী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে বরাদ্দ নেই। একইসঙ্গে প্রচুর পরিমাণ উৎপাদিত পণ্য মজুদ রয়েছে। দেশে ও বহির্বিশ্বে চাহিদা কম। চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রি করতে পারছি না। আর্থিক সংকট চলছে। ফলে কাঁচা পাট কিনতে পারছি না। মৌসুমের শেষ হওয়া সত্ত্বেও কাঁচা পাটের অভাবে মিলে দৈনিক উৎপাদন যেখানে ৭০ টন ছিল, সেখানে এখন ২৫-২৬ টনে নেমে এসেছে।’

‘স্থানীয় বাজারে চাহিদা বেড়েছে। চাতাল মিলে প্রচুর পাট পণ্যের প্রয়োজন হয়। ২০১০ সালের পাটের মোড়কীকরণের যে আইন আছে সেটি বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় বাজারে পাট বিক্রি করা সম্ভব হবে। মিলগুলো আধুনিক করার জন্য সরকারের উদ্যোগ রয়েছে। খুলনার প্লাটিনাম মিলসহ ছয়টি মিলে বিএমআরইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলগুলো বিএমআরইয়ের কোনো বিকল্প নেই।’

ইস্টার্ন জুট মিলের প্রকল্প প্রধান ড. জিএএম মাহবুব উর রশিদ জুলফিকার বলেন, ‘পাটক্রয়ে অর্থের যোগান দিতে না পারায় উৎপাদন কমেছে। মিলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ৩৪ মেট্রিক টন। এখন সাড়ে সাত মেট্রিকটন থেকে ১০ মেট্রিকটন পর্যন্ত পাটপণ্য উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদন হ্রাস পেলে ব্যয়ও বেড়ে যায়। এতে লোকসানে হচ্ছে। তবে পাটক্রয় বাড়লে উৎপাদনও বাড়বে।’

‘বহির্বিশ্বে চাহিদা কমে যাওয়া মিলে পণ্য মজুদের পরিমাণ বাড়ছে। স্থানীয় বাজারে পণ্যে পাটের মোড়কীকরণ আইন বাস্তবায়ন হলে পণ্য বিক্রি বেড়ে যাবে। এ জন্য প্রয়োজন সচেতনতা।’

প্রিয় সংবাদ/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

প্রিয় ১ ঘণ্টা, ৫৪ মিনিট আগে

loading ...