কলকাতার রাস্তায় কর্মরত এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি যুবককে রুপি দিয়ে সাহায্য করল কলকাতার ট্রাফিক পুলিশ

কৌসরের কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়েছে। কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন। কিন্তু এত টাকা সঙ্গে করে না নিয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বৃহস্পতিবারই তাদের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

আশরাফ ইসলাম
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:১১
আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:১২


কলকাতার রাস্তায় কর্মরত এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ থেকে আসা এক অসুস্থ যুবককে সাহায্য করলেন ভারতের কলকাতা পুলিশের এক ট্রাফিক সার্জেন্ট। 

২৮ অক্টোবর, রবিবার সকালে কলকাতার প্রধান সড়ক পথ ইস্টর্না মেট্রোপলিটন বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালের কাছে এক যুবককে বেশ অনেক সময় ধরে চিৎকার করতে শোনা যায়। দক্ষিণ-পূর্ব ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট গৌতম গুহ বিষয়টি লক্ষ করেন। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গৌতম গুহ প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে ওই যুবকের কাছ থেকে জানতে পারেন তার নাম সাদ্দাম আরেসেন। বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তিনি। বন্ধু কৌসর হোসেনকে নিয়ে কলকাতায় এসেছেন চিকিৎসার জন্য।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কৌসরের কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়েছে। কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন। কিন্তু এত টাকা সঙ্গে করে না নিয়ে আসায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বৃহস্পতিবারেই তাদের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বন্ধু হঠাৎ অনেক অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে বিপদে পড়েছেন তিনি।

সাদ্দাম সার্জেন্টকে জানায়, বৃহস্পতিবার হঠাৎ বন্ধুর শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সেখানে তার ডায়ালাইসিস করানো হয়। পরে রবিবার হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করে বন্ধুকে নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার কথা তার। কিন্তু রবিবার দেশটিতে সাপ্তাহিক ছুটি থাকার কারণে শহরের কোনো মানি  এক্সচেঞ্জ খোলা ছিল না। এ দিকে হাসপাতালের বিল বেড়ে চলেছে। হাতে ডলারও বেশি নেই। আর সে কারণেই হাসপাতালের বাইরে বের হয়ে ফোন করে অনেকের সঙ্গে কথা বলছিলেন ডলার ভাঙানোর জন্য।

পরে কোনো উপায় না দেখে পুলিশবক্স দেখে সেখানে এগিয়ে যান সাদ্দাম। সেখানেই ট্রাফিক সার্জেন্ট গৌতম গুহর সঙ্গে তার কথা হয়। গৌতম সব শুনে পরিচিত মানি এক্সেচেঞ্জে ফোন করেন। কিন্তু ছুটির দিন হওয়ার কারণে কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি। 

গৌতম বলেন, ‘ছেলেটিকে জিজ্ঞাস করে জানতে পারি, তার আট হাজার রুপি প্রয়োজন।’ তিনি জানতে পারেন ওই দিনই তাদের বাংলাদেশে যাওয়া প্রয়োজন। সন্ধ্যা ৬টার আগে পেট্রাপোল না পৌঁছালে আর সীমান্ত পার হতে পারবেন না। পরে ওই ট্রাফিক সার্জেন্ট নিজেই ওই যুবককে আট হাজার রুপি দেন। 

গৌতম জানান, ওরা কিছু ডলারের বিনিময়ে ওই রুপিটা চেয়েছিলেন। ওদের সে সময় রুপিটা না দিলে সমস্যায় পড়ে যেত।

কলকাতার ট্রাফিক সার্জান্ট গৌতম গুহের সাহায্যের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাদ্দাম। 

প্রিয় সংবাদ/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(২)

মন্তব্য করতে করুন


Arnab Kumar Ghosh
Arnab Kumar Ghosh

Thanks a lot to that traffic sergeant. This proves that there is still humanity. We should help each other when they are in big problems. We have to change our mentality. If you help others you will get help when you are in trouble. Thus our world will become a nice and happier place.

Masoqur Rahman Khan
Masoqur Rahman Khan

Thanks

আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট