রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবন। ছবি: প্রিয়.কম

নির্বাচন কমিশন কি চাপে?

নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলন যদি সহিংস হয় তাহলে সরকার আছে, এটা তারা দেখবে। এই সহিংসতার দায় আমরা নেব কেন?’

প্রদীপ দাস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৪৩
আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৫৩


রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবন। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাত দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন ও সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তাদের সাত দফার প্রথমটির মধ্যে রয়েছে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দ্বিতীয়বার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে ৭ নভেম্বর (বুধবার) বসার আগের দিন (৬ নভেম্বর) সরকার প্রধানের নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন টেকনোক্র্যাট চার মন্ত্রী।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দুই নম্বর দাবির মধ্যে রয়েছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পুনর্গঠন করা। এই দাবির পাশাপাশি সংলাপ শেষ না হওয়া এবং দাবি না মানা পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে পরস্পর বিরোধী অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একই সঙ্গে তফসিল ঘোষণার পক্ষে যতবার পদক্ষেপ নিয়েছে ইসি, ততবারই এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ ও কর্মসূচি দেয় ঐক্যফ্রন্ট। এ রকম বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচন কমিশন চাপের মধ্যে রয়েছে কি না।

যদিও ইসি বলছে, তারা কোনো ধরনের চাপের মধ্যে নেই। অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তা সরকার মোকাবিলা করবে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা-ই বলেছেন, সব রাজনৈতিক দল কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারবেন কি না, সেটা তিনি জানেন না।

অন্যদিকে ৩ নভেম্বর (রবিবার) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ শেষ না হওয়ার আগে তফসিল ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ না করতে ইসিকে চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এমন দাবি জানানোর একদিন পর (৪ নভেম্বর) ইসি জানায়, ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হবে। ইসির এমন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পরের দিন (৫ নভেম্বর) আ স ম আব্দুর রবের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধি দল যায় ইসিতে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসি, চার কমিশনার ও ইসি সচিব ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যেই উত্তপ্তবাক্য বিনিময় হয়।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি মানা-না মানার বিষয়ে বৈঠক শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ইসির পক্ষ থেকে সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি। ওই সময় সাংবাদিকদের তিনি জানান, তফসিল ঘোষণা হবে কি না, তা ৮ নভেম্বর সকালে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হবে। অবশ্য পরের দিন (৬ নভেম্বর) সকালে সিইসি নূরুল হুদা বলেছেন, সব দলের সম্মতিতে নির্বাচন পেছানো যেতে পারে, কিন্তু তফসিলের দিন পেছানো যাবে না।

সিইসি এমন সিদ্ধান্ত জানালে এদিন (৬ নভেম্বর) দুপুরেই রাজধানীর সোহরাওয়াদী উদ্যানে সমাবেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের দাবি মানার আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে নির্বাচন কমিশনের অভিমুখে পদযাত্রা করা হবে। তবে কবে এই পদযাত্রা করা হবে তার তারিখ সমাবেশে বলা হয়নি। 

এ রকম বাস্তবতায় বুধবার (৭ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপে বসছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সংলাপের আগের রাতে বিদ্যমান বাস্তবতায় নির্বাচন কমিশন চাপের মধ্যে রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হয় প্রিয়.কমের পক্ষ থেকে।

ইসির চার কমিশনারের মধ্যে মাহবুব তালুকদার প্রিয়.কমকে জানান, তিনি কথা বলতে রাজি নন। কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরীকবিতা খানমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে এ বিষয়ে কথা হয় নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে।

ইসি কোনো ধরনের চাপে নেই উল্লেখ করে কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম প্রিয়.কমকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক বডি, এটাকে যদি চাপ দেওয়ার মতো ক্ষমতা সরকারেরও নাই। সেখানে আর কার থাকবে?’

রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘উনারা দাবি-দাওয়া পেশ করতে আসতেছেন, পেশ করতেছেন, আমরা শুনছি। পরে আমরা দেখবো। যদি উনাদের যৌক্তিক কোনো দাবি-দাওয়া থাকে, তাহলে আমরা বিবেচনা করবো। না হলে দাবি-দাওয়া, দাবি-দাওয়াই থেকে যাবে।’

সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও বুধবার (৭ নভেম্বর) বসবে ইসির সঙ্গে। একই দিন সরকারের শরীক দল জাতীয় পার্টিও দেখা করবে ইসির সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে দাবি-দাওয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা যুক্তফ্রন্ট মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) বসেছে ইসির সঙ্গে।

৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পক্ষে থাকা যুক্তফ্রন্ট ইসির কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তারা যদি মনে করেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতির তৈরি হবে, তাহলে তো আমার কিছু করার নাই। কেন তৈরি হবে? এটা (আন্দোলন) তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। এটা তারা করতে পারে। আর আন্দোলন যদি সহিংস হয় তাহলে সরকার আছে, এটা তারা দেখবে। এই সহিংসতার দায় আমরা নেব কেন?’

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
মাহবুব তালুকদার সত্য বলেননি: সিইসি
মাহবুব তালুকদার সত্য বলেননি: সিইসি
https://www.prothomalo.com/ - ২০ ঘণ্টা আগে
মরে গেলেও ভোট বর্জন করবো না: ড. কামাল হোসেন
মরে গেলেও ভোট বর্জন করবো না: ড. কামাল হোসেন
বাংলা ট্রিবিউন - ১ দিন, ২০ ঘণ্টা আগে
ড. কামাল হোসেন সিলেট যাচ্ছেন
ড. কামাল হোসেন সিলেট যাচ্ছেন
জাগো নিউজ ২৪ - ১ week আগে
ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে অংশ নেবেন না
ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে অংশ নেবেন না
সমকাল - ২ সপ্তাহ, ৫ দিন আগে

loading ...