নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রশিবির চট্টগ্রামে সংগঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ

নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে ‘সংগঠিত হচ্ছে’ শিবির

গত ২ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে হঠাৎ বোমা বিস্ফোরিত হয় নগরীর সিরাজদ্দৌলাহ রোডের চট্টগ্রাম মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের অফিসে।

তাজুল ইসলাম পলাশ
প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:০৩ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:০৩
প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:০৩ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:০৩


নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রশিবির চট্টগ্রামে সংগঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ

(প্রিয়.কম) নাশকতা, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের অনেক নেতাকর্মী। ফলে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে তাদের কার্যক্রম।

একসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম কলেজ, মহসীন কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাকলিয়া সরকারি কলেজের মতো অনেক প্রতিষ্ঠানে ছিল শিবিরের আধিপত্য। কিন্তু বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারা ভোগ করছেন দলের অনেক নীতি নির্ধারক ও কর্মী। শুধ তা-ই নয়, তালাবদ্ধ রয়েছে জামায়াত-শিবিরের নগর ও জেলা কার্যলয়। বন্ধ রয়েছে প্রকাশ্যে মিছিল-মিটিংও। কিন্তু নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য ছিল নাশকতার।

গত ২ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে হঠাৎ বোমা বিস্ফোরিত হয় নগরীর সিরাজদ্দৌলাহ রোডের চট্টগ্রাম মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের অফিসে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়টি ককটেল ও বোমা তৈরির গান পাউডার এবং পেট্রল উদ্ধার করে। তবে এ অভিযানে কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় রবিবার নগরীর চকবাজার থানায় নগর শিবিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৯০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।

মামলার বাদী উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শিবির অফিস থেকে ককটেল ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায়  ছাত্রশিবির মহানগর উত্তরের সভাপতি আবদুল জব্বার, সাধারণ সম্পাদক আ স ম রায়হান, বায়তুল মাল সম্পাদক হামেদ হাসান এলাহী, আমান উল্লাহসহ ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, তিন দশকের বেশি সময় ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রদের আবাসিক সুবিধার কথা বলে মেস তৈরি করে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল শিবির। বিশেষ করে চান্দগাঁও, চকবাজার, মুরাদপুর, দেওয়ান বাজার, চন্দনপুরা শিবিরের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। গত নির্বাচনের আগে নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশের অভিযানের মুখে এসব এলাকার মেস ছাড়তে বাধ্য হন শিবিরের নেতাকর্মীরা। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে শিবিরের নেতাকর্মীরা আবার মেসগুলোতে ফিরতে শুরু করেছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। 

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) আমেনা বেগম বলেন, ‘জামায়াত-শিবির নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে—আমাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে। তারা যাতে জঙ্গি কার্যক্রম বা নাশকতার কোনো পরিকল্পনা করতে না পারে, সে জন্য তাদের ওপর বিশেষ নজরদারি করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।’

বিশিষ্টজনদের মতে, শিবিরের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তেই সারা দেশের মেসগুলো পরিচালিত হয়। মেসের আড়ালেই চলে শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি সঞ্চয় এবং কার্যক্রম। এমনকি চট্টগ্রামে হাতছাড়া হয়ে যাওয়া মেসগুলো পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি বহদ্দারহাট, হালিশহর, কর্ণফুলীর মতো নতুন নতুন এলাকায় মেস তৈরি করছে বলে তথ্য বের হয়ে আসছে।

প্রজন্ম ’৭১-এর বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ড. গাজী সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তারা যে অপারেশনগুলো করে, এমনভাবে করে যেন পুলিশ না বুঝতে পারে। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় এসে করে।’

প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘বেশ কিছু জায়গাতে তারা সংগঠিত হচ্ছে। আমার মনে হয়, এ সময় জায়গাগুলোতে বারবার খোঁজ নিলেই তাদের ধরা সম্ভব।’

সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শিবিরের অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। সে সঙ্গে শিবির অধ্যুষিত মেসগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালাতে নগরীর ১৬ থানার অফিসার ইনচার্জদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিটিএসবি এবং গোয়েন্দা বিভাগের কার্যক্রম আরও বাড়িয়েছি। তাদের নতুন ও পুরাতন জায়গাগুলোতে আমরা আরও বেশি খোঁজ লাগিয়েছি।’

এর আগে শিবিরের মোট ৪৭ জন নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর মধ্যে বাকলিয়া থানায় ১৯ জন, সদরঘাট থানায় ১৩ জন, ডবলমুরিং থানায় আট জন এবং পাহাড়তলী থানায় রয়েছে পাঁচ জন।

প্রিয় সংবাদ/নোমান/আজাদ চৌধুরী