বিএনপির সম্পাদকদের নিয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৫ জন নেতা বক্তব্য রাখেন। ফাইল ছবি

খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যেতে চায় না দলের সম্পাদকগণ

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাজাহান।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৪৭ আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৪৮


বিএনপির সম্পাদকদের নিয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৫ জন নেতা বক্তব্য রাখেন। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) ‘নির্বাচন ও আন্দোলন’ ইস্যুতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতাদের নিয়ে সিরিজ বৈঠক করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা। বৈঠকে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করেই নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছে দলটির নির্বাহী কমিটির সম্পাদকগণ।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভাষ্য, কারাবন্দী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া বর্তমান সরকার এবং আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া হবে ভুল সিদ্ধান্ত। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে ৭ দফা দাবি দিয়েছে আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করেই নির্বাচনে যেতে হবে। যেখানে সংলাপ ব্যর্থ হয়েছে, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জেলে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে আসতে দেওয়া হয় না। গায়েবি মামলাসহ গ্রেফতার হামলায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া। প্রতিদিন হাজার হাজার নেতাকর্মী আদালত-জেলখানা করছে। এই প্রতিকূল অবস্থায় নির্বাচনে গিয়ে সরকারের বৈধতা দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

৭ নভেম্বর, বুধবার গুলশানের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সম্পাদকদের নিয়ে বৈঠক হয়। এতে ৩৫ জন নেতা বক্তব্য দেন। দ্বিতীয় দফায় ভাইস চেয়ারপারসন ও উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠক হয়। উভয় বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাজাহান ৭ দফার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হতে গেলে খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে, নিরপেক্ষ সরকার হতে হবে। এর বিকল্প নেই।’

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহাজাদা মিয়া বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া হবে ভুল সিদ্ধান্ত।’

ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এই অবস্থায় আন্দোলন করতে পারলে ভালো, না হলে নির্বাচনে যেতে হবে।’

যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও বিদ্যমান প্রতিকূল অবস্থায় নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ সরকার ও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করেই নির্বাচনে যেতে হবে।’

আলালের সুরেই বক্তব্য দেন যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনও।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টাদের মধ্যে ২৫ জনের মতো বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে সাবেক আমলা ও এখন যারা চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রয়েছেন, তারা নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মতামত দেন।

সম্পাদকের বৈঠকের শুরুতেই বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘আন্দোলন ছাড়া কোনো লাভ নেই। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করেই নির্বাচনে যেতে হবে।’

প্রিয় সংবাদ/শিরিন/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
খালেদা জিয়ার আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ১৩ নেতা
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ২০ নভেম্বর ২০১৮
ভোটের আগে ওয়াজ মাহফিল বন্ধ
প্রদীপ দাস ২০ নভেম্বর ২০১৮
জানুয়ারিতে খুলতে পারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
মোস্তফা ইমরুল কায়েস ২০ নভেম্বর ২০১৮
মাগুরায় বিষাক্ত মদপানে দুইজনের মৃত্যু
মো. ইমাম জাফর ২০ নভেম্বর ২০১৮
কারা এই মেনটর
প্রদীপ দাস ২০ নভেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
কেমন আছেন খালেদা জিয়া?
কেমন আছেন খালেদা জিয়া?
জাগো নিউজ ২৪ - ৪ সপ্তাহ, ১ দিন আগে
ট্রেন্ডিং